মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৪, ১০ বৈশাখ, ১৪৩১, ১৩ শাওয়াল, ১৪৪৫

সাংবাদিক শামীম খানের প্রাণনাশের চেষ্টার ঘটনায় প্রতিবাদ সভা

দৈনিক যুগান্তরের ধামরাই প্রতিনিধি শামীম খানের ওপর সন্ত্রাসী হামলার প্রতিবাদ ও দোষীদের শাস্তির দাবিতে প্রতিবাদ সভা করেছেন স্থানীয় সাংবাদিকরা। বৃহস্পতিবার বেলা ১১টার দিকে শতাধিক সাংবাদিক প্রতিবাদ সভায় বিষয়টি খতিয়ে দেখার জন্য পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন।

দৈনিক প্রতিদিনের সংবাদের প্রতিনিধি মো. আব্দুর রউফ বলেন, সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা ও প্রাণনাশের চেষ্টা ঘটনায় জড়িতদের কঠোর শাস্তি ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছি।

মোহনা টেলিভিশনের সাংবাদিক মেহেদী ইমামজান কায়সার বলেন, আমরা দায়িত্বে অবহেলা গাফিলতি করা পুলিশ কর্মকর্তাদের শাস্তি দাবি করছি। সেই সঙ্গে আসামিদের গ্রেফতার, ছিনিয়ে নেওয়া মালামাল উদ্ধার, মূল অপরাধীদের মামলার অন্তর্ভুক্তিকরণ, মুজিব কোট ও আইডি কার্ড পদদলিতকারীদের দ্রুত সময়ের মধ্যে গ্রেফতার ও শান্তি দাবি করছি।

এশিয়ান টেলিভিশনের সাংবাদিক আশরাফুল ইসলাম বলেন, দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম দৈনিক যুগান্তরের সাহসী সাংবাদিক শামীম খানের ওপরই সন্ত্রাসী হামলা ও প্রাণনাশের চেষ্টা করা হয়েছে। তাহলে অন্যদের ভাগ্যে কী আছে তা ভাবা যায় না। যুগান্তরের সাংবাদিক সত্য প্রকাশে কাউকে ভয় করে না। যে কারণে ধামরাইয়ে যুগান্তরের এত কাটতি ও ব্যাপক জনপ্রিয়তা রয়েছে। আমরা অবিলম্বে দায়িত্ব পালনে অবহেলা ও গাফিলাতির জন্য পুলিশের এসআই এবং মামলা নিতে গড়িমসি ও মূল অপরাধীকে বাদ দেওয়ার জন্য ধামারই থানার ওসি আতিকুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানাচ্ছি।

জনকণ্ঠের সাংবাদিক সোহেল রানা বলেন, এমন অমানবিক ঘটনা কখনো দেখিনি। শামীম খান ধামরাইয়ে সাংবাদিকদের আইকন। আমরা স্থানীয় সাংবাদিকরা তাকে বটবৃক্ষ মনে করে তাকে ফলো করে চলি। অথচ পুলিশের সামনে তার ওপর সন্ত্রাসী হামলা ও প্রাণনাশের চেষ্টা চালায়। এরপরও এমন টালবাহানা করছে পুলিশ; যা মেনে নেওয়া যায় না।

সাংবাদিক সিরাজুল ইসলাম বলেন, সাংবাদিকের ওপর হামলা ও প্রাণনাশের চেষ্টা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। পুলিশও অপরাধীদের সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। এমন অভিযোগ ও তথ্য আমাদের কাছে রয়েছে।

সাংবাদিক নেতা আদনান হোসেন বলেন, পুলিশের সামনেই সন্ত্রাসীরা একজন সেরা সাংবাদিককে হত্যাচেষ্টা করল অথচ পুলিশ তা নীরব দর্শকের মতো দাঁড়িয়ে থেকে দেখল। অথচ পুলিশ তাকে উদ্ধার করল না। আবার মামলা নিতেও গড়িমসি। পুলিশসহ জড়িতদের সবার শাস্তি ও বিচার চাই।

সাংবাদিক মাসুদ রানা বলেন, একজন সিনিয়র সাংবাদিকের ওপর এমন নারকীয় তাণ্ডব কখনো মেনে নেওয়া হবে না।

সাংবাদিক শামীম খানের ছেলে ইমরান খান মনির বলেন, যারা আমার আব্বুকে হত্যার চেষ্টা করেছে তারা যেমন অপরাধী তেমনি পুলিশও একই রকমের অপরাধী। এতদিন জানতাম পুলিশ জনগণের বন্ধু। চোর ডাকাতকে পুলিশ উদ্ধার করে নিরাপত্তা দিতে পারে অথচ আমার আব্বু একটি দেশসেরা গণমাধ্যমের সাংবাদিক হওয়ার পরও পুলিশ তাকে বিন্দুমাত্র নিরাপত্তা দিল না। জাতির কাছে আমার আকুল আবেদন আপনারা দয়া করে আমাদের পাশে দাঁড়ান। আমরা সরকারের কাছে ন্যায়বিচার দাবি করছি।