শনিবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৪, ৭ বৈশাখ, ১৪৩১, ১০ শাওয়াল, ১৪৪৫

ধুতরাগাছ কি বিষাক্ত, বিজ্ঞান কী বলে

ধুতরা বাংলাদেশের একটি পরিচিত উদ্ভিদ। গ্রাম বাংলার পথের ধারে, বনের ঝোপঝাড়ে অনাদরে-অবহেলায় এ গাছ বেড়ে ওঠে। ছোট বাচ্চাদের অভিভাবকেরা এই বলে সতর্ক করেন যে ধুতরাগাছ খুব বিষাক্ত, ভুলেও যেন এই গাছের কিছু মুখে না দেয়! তবে কেউ কেউ আবার এটা ঔষধি গাছ হিসেবে ব্যবহার করতে গিয়ে বিপত্তিতে পড়েন।

সম্প্রতি শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলার চর কুমারিয়া এলাকায় এমন একটি ঘটনা ঘটেছে। অ্যালার্জিতে কষ্ট পাচ্ছিলেন একটি পরিবারের সদস্যরা। তখন স্থানীয় একজন পরামর্শ দেন, ধুতরাপাতা সেদ্ধ করে খেলে অ্যালার্জি ভালো হয়ে যাবে। সেই পরামর্শ অনুযায়ী ধুতরাপাতা সেদ্ধ খেয়ে ওই পরিবারের তিনজন অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন। আর পরিবারের তিন শিশু খাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে বমি করে ফেলে।

এ ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বলা যায়, ধুতরাগাছ বিষাক্ত। তবে এ গাছের পাতা, ফল, বীজ ও শিকড় নানা ভেষজ চিকিৎসায় কাজে লাগে। ধুতরাগাছ বিভিন্ন পতঙ্গ ও বন্য প্রাণীর খাদ্য ও আশ্রয়স্থল। আমাদের প্রাকৃতিক পরিবেশের ক্ষেত্রে এ গাছের অবদান কিন্তু ফেলে দেওয়ার মতো নয়!

ধুতরার বৈজ্ঞানিক নাম Datura Stramonium। গাছ হয় ঝাড়ের মতো। ধুতরার ফুল দেখতে বেশ সুন্দর। বর্ষাকালে ফুল ফোটা শুরু হয়, হেমন্তকাল পর্যন্ত গাছে ফুল দেখা যায়। গাছের শাখা-প্রশাখার অগ্রভাগে ফুল ধরে, দেখতে লম্বাকৃতির। ধুতরার ফল গোলাকার, গায়ে ছোট-ছোট কাঁটা থাকে।

ধুতরাগাছের বিষয়ে নতুন প্রজন্মের সচেতনতা কম। এ গাছ বিষয়ে মানুষ হিসেবে আমাদের সাবধানতা অবলম্বন করতে হবে। কারণ, মানুষের জন্য ধুতরাগাছের পাতা, ফল ও পুরো গাছই বিপজ্জনক বিষক্রিয়া তৈরি করতে পারে। হাঁস-মুরগি, গরু-ছাগল, গবাদি প্রাণিসম্পদের ক্ষেত্রে বেশি পরিমাণে ধুতরা খেয়ে ফেললে বিষক্রিয়া হতে পারে। যদি কেউ টাটকা ধুতরাপাতা বা ফল চিবিয়ে খান, রস পান করেন; তবে অবশ্যই তার বিষক্রিয়া হতে পারে। প্রতিটি গাছেই নানা ধরনের অ্যালকালয়েড ও ফ্ল্যাভনয়েড উপাদান থাকে। এসব উপাদান থেকে আমাদের বহু জীবনদায়ী ওষুধ তৈরি হয়। কিন্তু সরাসরি এসব রাসায়নিক উপাদান গ্রহণ বা ব্যবহার করার ফলে আমাদের মৃত্যুঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

কী আছে ধুতরার পাতায়, যা এত বিষক্রিয়া তৈরি করে? ধুতরাগাছে ট্রোপেন অ্যালকালয়েড থাকে, যা বিষক্রিয়া তৈরি করতে পারে। ধুতরাপাতায় অ্যাট্রোপাইন, হায়োস্কায়ামিন ও স্কোপোলামিন নামের রাসায়নিক উপাদানগুলো থাকে। ধুতরাপাতা খেলে মানুষের শরীরে এসব উপাদান মিশে যায়। কারও ক্ষেত্রে সঙ্গে সঙ্গে, কারও ক্ষেত্রে কিছু সময় পর বিষক্রিয়া শুরু হয়। ধুতরাপাতা খেলে ‘অ্যান্টিকোলিনার্জিক সিনড্রোম’ তৈরি হয়। মুখ ও গলা শুকিয়ে যায়, প্রস্রাবে সমস্যা হয়, পেটব্যথা শুরু হয়, চোখ ঝাপসা হয়ে যায়, হৃৎস্পন্দন দ্রুত বেড়ে যায় এবং ঘাম কমে গিয়ে সারা শরীরে একটা অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।

যদি কেউ ভুল বা অসাবধানতাবশত ধুতরাপাতা খেয়ে ফেলেন, তবে যত দ্রুত পারা যায় তাঁকে বমি করাতে হবে। তাঁর মুখ ও পেট পরিষ্কার করাতে হবে। দ্রুত চিকিৎসক বা চিকিৎসাকেন্দ্রে নিয়ে যেতে হবে। ধুতরা পাতা যেন শিশুরা বা বড়রা না খান, সেই সচেতনতা বাড়াতে হবে।