শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ১০ ফাল্গুন, ১৪৩০, ১২ শাবান, ১৪৪৫

জাজিরায় ১৩৩ টি গৃহহীন পরিবার পাচ্ছে চরাঞ্চলের বিশেষ শ্রেনীর ঘর

পদ্মানদী বেষ্টিত জাজিরা উপজেলার মানুষ প্রতিবছরই শিকার হয় ভয়াল নদীভাঙ্গনের। মাইলের পর মাইল নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যায় প্রতি বর্ষা মৌসুমে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের বিষয়টি বিবেচনা করে জাজিরা উপজেলায় ২৮৮ টি চরাঞ্চলের বিশেষ শ্রেনীর ঘর নির্মাণের বরাদ্দ পাওয়ার পর তার মধ্যে ১৩৩ টি ঘর নির্মাণের কাজ শেষ করেছে জাজিরা উপজেলা প্রশাসন।
যা শীঘ্রই মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে হস্তান্তর করবেন। এই ঘরগুলো দুর্যোগ সহনীয় এবং সহজেই অন্যত্র হস্তান্তর করা যায়।তাই স্থানীয় ভূমিহীন গরীব জনসাধারণ এই ঘর পেয়ে অত্যন্ত আনন্দিত হবে বলে বিশ্বাস সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের।
উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মো: নজরুল ইসলাম জানান, এই ঘরগুলো তৈরি করতে আমাদের অনেক বেগ পোহাতে হয়েছে। তবুও আমরা প্রধানমন্ত্রীর উপহার হিসেবে এখানকার ভূমিহীন গরিব শ্রেণির মানুষের জন্য তৈরি করেছি এই ঘরগুলো। এই ঘরগুলো স্থানান্তরযোগ্য হওয়ায় ঘরগুলো পেয়ে অনেক খুশি হবে এখানকার ভূমিহীনরা।
জাজিরা উপজেলার নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ কামরুল হাসান সোহেল জানান, জাজিরা উপজেলার ভৌগলিক অবস্থান বিবেচনা করে উপজেলা মনিটরিং কমিটির সুপারিশের আলোকে এই চরাঞ্চলের বিশেষ শ্রেনীর ঘর নির্মাণ করা হয়েছে। ভাঙনের শিকার হলে সহজেই ঘরগুলো খুলে অন্যত্র সরিয়ে নেয়া সম্ভব হবে। তাই মানুষের গৃহ যেমন রক্ষা পাবে, আবার সরকারেরও পুনরায় ঘর তৈরি করে দিতে হবেনা। সুতরাং এই চরাঞ্চলের ঘরগুলো টেকসই এবং দুর্যোগ সহনীয় হবে।
অন্যদিকে জাজিরা ভাঙ্গন কবলিত অত্যন্ত দরিদ্র একটি জনবসতিপূর্ণ এলাকা হওয়ায় বিশেষ শ্রেণির এই ঘরের আরও অনেক চাহিদা রয়েছে বলে জানান স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। তাদের দাবী এখনও এই উপজেলার অনেক মানুষই গৃহহীন রয়ে গেছে। তাছাড়া প্রতিবছর বর্ষার মৌসুমে পদ্মানদীর ভাঙনের ফলে নতুন নতুন গৃহহীন তৈরি হচ্ছে। তাই আরও অনেক বেশি পরিমাণে এই ঘরের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে।
জাজিরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোবারক আলী শিকদার বলেন, এমনিতেই আমাদের এলাকার অধিকাংশ মানুষ গরীব। তাছাড়া আমরা পদ্মা বিধৌত এলাকার বাসিন্দা হওয়ায় প্রতিবছরই ভাঙনে বহু মানুষ গৃহহীন হয়ে পড়ে। তাই এই বিশেষ শ্রেণির ঘর আমাদের আরও অনেক বেশি প্রয়োজন রয়েছে।