বুধবার, ২৯ মে, ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১, ২০ জিলকদ, ১৪৪৫

বিয়ের অনুষ্ঠানে ঝটপট মেইকআপ করার পন্থা

ব্যস্ততার কারণে বিয়ের অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য ঠিকমতো সাজার সময় হচ্ছে না।

তাহলে বরং জেনে নিতে পারেন দ্রুত মেইকআপ করার পন্থা।

সাধারণ ও ঐতিহ্যবাহী সাজে নিজেকে উপস্থাপন করা গেলে দেখতে যেমন সুন্দর লাগে তেমনি বাড়তি সাজগোজ ও অলঙ্কার নিয়ে অযথা ঝামেলা পোহাতে হয় না।

এই বিষয়ে ভারতের রূপসজ্জাকর পিয়া অরোরা মনে করেন, “বিয়ে বা যে কোনো অনুষ্ঠানে দেশীয় স্টাইলের সাধারণ সাজ দেখতে বেশ ভালো লাগে।”

টাইমসঅফইন্ডিয়া ডটকম’য়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনে তিনি বলেন, “কাজল পরলে দেখতে সুন্দর লাগে। টিপ, চুড়ি, মেহেদি- এগুলো সহজেই দেশীয় সাজের সৌন্দর্য বাড়ায়। মা, নানী দাদিদের পুরানো শাড়িগুলো পরে এমন সাজে দেখতে বেশ ভালো লাগে।”

চুল বাঁধার ক্ষেত্রে তিনি পরামর্শ দেন, “খোঁপা করে ফুল ব্যবহার করা, সাদা বা লাল গোলাপের ব্যবহার করা অথবা পোশাকের সঙ্গে মিল রেখে যে কোনো রংয়ের ফুল ব্যবহার করা যেতে পারে।”

বেশি ভারী গহনার সঙ্গে ন্যুড মেইকআপ শেইড- কমলা, পিচ ইত্যাদি দেখতে ভালো লাগে। পোশাক হালকা হলে এবং ভারী গহনা পরতে না চাইলে ঠোঁটে গাঢ় লাল বা মেরুন রংয়ের লিপস্টিক ব্যবহারে দেখতে ভালো লাগবে।

ঝটপট মেইকআপ করতে ও সাজে ভারমাস্য রক্ষার উপায় সম্পর্কে ভারতের আরেক রূপসজ্জাকর ও প্রশিক্ষক ওয়ামিকা বাজাজ আরও কয়েকটি উপায় সম্পর্কে জানান।

গাঢ় ঠোঁট শীতকালে দেখতে ভালো লাগে। যদি ঠোঁটে গাঢ় রংয়ের লিপস্টিক ব্যবহার করতে চাইলে চোখের সাজ হালকা রাখতে হবে। ন্যুড শ্যাডো ও টানা লাইনারের সঙ্গে গাঢ় লিপস্টিক দেখতে বেশ ভালো লাগে।

চোখের সাজ গাঢ় হলে ঠোঁটে হালাক রং ব্যবহার করতে হবে। বাদামি ও ন্যুড রং এক্ষেত্রে ভালো মানায়। চোখে স্মোকি সাজ- বাদামি, ধূসর ও উষ্ণ টোন ব্যবহার করা যায়।

সাজে কিছুটা ভিন্নতা আনতে চোখের লাইনার দেওয়াতে ভিন্নতা আনা যায়।

আই লাইনার দেওয়ার নানান ধরন রয়েছে যেমন- গ্রাফিক্স লাইনার, ফক্স লাইনার, অ্যাঙ্গেল, স্মাজ লাইনার ইত্যাদি। ঝটপট তৈরি হতে নিজের পছন্দ মতো যে কোনো একটা স্টাইলের লাইনার বেছে নেওয়া যায়।

ত্বক পরিচর্যার নিয়মিত ধাপ- ক্লেঞ্জিং, টোনিং ও ময়েশ্চারাইজিংয়ের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে। কন্সিলার ভালো মতো ব্যবহার করে তার ওপরে পাউডার সেট করে নিতে হবে।

এর উপরে ব্লাশ, হাইলাইটার, লিপস্টিক, সামান্য জরিদার আইশ্যাডো ব্যবহার করতে হবে। মেইকআপের স্থায়িত্ব বাড়াতে এর উপরে স্প্রে বা মিস্ট ব্যবহার করা প্রয়োজন।

পনিটেইল, হালকা খোঁপা বা চুল কোঁকড়া করা যায়। এগুলো কেশ সাজানোর দ্রুত উপায়। গলায় চোকার বা কানে ছোট দুল পরা যেতে পারে। অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় রূপা বা আকর্ষণীয় গহনা পরা উপযোগী।

উপরের এসব মেইকআপ, চুলসজ্জা ও পোশাকের ধারণা ছাড়াও পিয়া এবং ওয়ামিকা অনুষ্ঠানে যাওয়ার সময় পরিহার্য্য কিছু সাজসজ্জার টিপ্সের কথা বলেন।

মেইকআপ ব্যবহারের আগে প্রাইমার ও পরে ফিক্সার ব্যবহার করতে হবে।

ত্বক ভালো রাখতে অবশ্যই এর সুস্থতা ও আর্দ্রতার দিকে মনোযোগ দিতে হবে। পরিবর্তিত আবহাওয়ায় ত্বক আর্দ্র রাখতে সারাদিন পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে।

ঘরের বাইরে গেলে অবশ্যই নিয়মিত সানব্লক ব্যবহার করতে হবে।

মেইকআপের আগে ও পরে ক্লেনজিং, টোনিং এবং ময়েশ্চারাইজিংয়ের ধাপগুলো অনুসরণ করতে হবে।

কখনই মেইকআপ নিয়ে ঘুমিয়ে পড়া ঠিক নয়। এতে লোমকূপ আবদ্ধ হয়ে ত্বকের ক্ষতি করে।

ত্বক পরিচর্যার পর্যাপ্ত সময় না পেলে রাতে ঘুমাতে যাওয়ার আগে মেইকআপ তুলে প্রয়োজনীয় ময়েশ্চারাইজার ব্যবহার করা উচিত।

মেইক আপ তুলতে

‘মেইক রিমুভিং ওয়াইপ্স’ ব্যবহার করা ঠিক নয়। কারণ এগুলো ত্বকের জন্য বেশ ক্ষতিকারক। মেইকআপ তুলতে নারিকেল তেল বা মাইসেলার ওয়াটার ব্যবহার করা উপকারী।

ওয়ামিকা নিয়মিত ত্বকের যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দেন। এতে ত্বক স্বাস্থ্যকর ও দেখতে সুন্দর দেখায়।

অন্যের সাজের অনুকরণ না করে বরং নিজের মতো স্বতন্ত্র ও আত্মবিশ্বাসি থাকার পরামর্শ দেন, পিয়া অরোরা।