বুধবার, ২৯ মে, ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১, ২০ জিলকদ, ১৪৪৫

বিবাহবার্ষিকীতে দম্পতির মহৎ উদ্যোগ

 

নিজেদের বিবাহবার্ষিকী অন্যরকমভাবে পালন করলেন শরীয়তপুরের জাজিরার ফরাজীকান্দি গ্রামের ডা. আনোয়ার ফরাজী ইমন ও রিফাত জাহান সেতু দম্পতি। তারা ভালোবাসা ভাগাভাগি করে নিলেন এক গরিব ও অসহায় পরিবারের মেয়েকে বিয়ে দিয়ে।

রোববার রাত থেকে এমন বিয়ের কয়েকটি ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে দেখা যাচ্ছে।

শুক্রবার দুপুরে শরীয়তপুর জেলার জাজিরা উপজেলার সেনেরচর ইউনিয়নের ফরাজীকান্দি গ্রামের ফরাজী বাড়িতে ধুমধাম করে এ বিয়ের আয়োজন করা হয়। আর এর আগের দিন বৃহস্পতিবার রাতে ছিল গায়েহলুদ।

গ্রামবাসী সূত্র জানায়, ইমন ও সেতু দম্পতি তাদের বিবাহবার্ষিকীতে একজন গরিব ও অসহায় পরিবারের মেয়েকে বড় আয়োজন করে বিয়ে দিয়ে থাকেন। গত তিন বছর যাবত তারা এমন ব্যতিক্রম উদ্যোগ নিচ্ছেন।

বিবাহবার্ষিকীতে অনেকেই তার প্রিয়জনকে নামি-দামি উপহার দিয়ে থাকেন। আর ওই দম্পতির চিন্তা একটু ব্যতিক্রম। বিশেষ দিনটাতে গরিব ও অসহায় পরিবারের জন্য কিছু করার চেষ্টা করেন তারা। গত শুক্রবার ইমন ও সেতু দম্পতি রংপুর জেলার কেশবপুর এলাকার দিনমজুর শাহিদার রহমান শাহিদের মেয়ে শারমিন নাহারকে বিয়ে দেন। বরের নাম শাহিন মিয়া।

বিয়ের দিন বরযাত্রীসহ ৫০০ মানুষকে দাওয়াত করে ভিআইপিভাবে খাওয়ানো হয়। কনের পছন্দমতে বিয়ের শাড়ি, গহনাসহ যাবতীয় খরচ বহন করেন ইমন ও সেতু দম্পতি।

শারমিনের বাবা শাহিদার রহমান শাহিদ বলেন, আমি দিনমজুরি করি। মেয়ে বিয়ে দিতে অনেক খরচ। এত টাকা খরচ করে আমার মেয়েকে বিয়ে দেওয়া কখনই সম্ভব হতো না। তারা আমার মেয়েকে বড় আয়োজন করে বিয়ে দিয়েছেন। আমি খুবই আনন্দিত। তাদের জন্য প্রাণ খুলে দোয়া করি।

রিফাত জাহান সেতু বলেন, গত তিন বছর যাবত আমাদের বিবাহবার্ষিকীতে এমন আয়োজন করি। নিজেদের পরিবারের মেয়ে মনে করে তিনটি গরিব অসহায় মেয়ে বিয়ে দিয়েছি। তাদের বিয়ের সবধরনের খরচ বহন করেছি। তাদের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করে নিয়েছি। এটা অন্যরকম তৃপ্তি।

ডা. আনোয়ার ফরাজী ইমন বলেন, বিবাহবার্ষিকীতে নিজেরা আনন্দ উল্লাস না করে, দেশের বাহিরে না গিয়ে, সেই খরচে একটি গরিব অসহায় পরিবারের মেয়েকে বিয়ে দিয়ে দেই। এটাই আমাদের আনন্দ।