শনিবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৩, ২৪ অগ্রহায়ণ, ১৪৩০, ২৪ জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৫

শরীয়তপুরে পুলিশের মামলা: ধরপাকড়ের ভয়ে পুরুষশূন্য গ্রাম

আসামি ধরতে গিয়ে বাড়িঘরে ভাঙচুরের অভিযোগ

 

শরীয়তপুরে পুলিশের করা দুই মামলায় ধরপাকড়ের ভয়ে নড়িয়া উপজেলার চন্ডিপুর গ্রাম পুরুষ শূন্য হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

গত ১৩ ফেব্রুয়ারি রাতে নড়িয়া উপজেলার কেদারপুর ইউনিয়নের চন্ডিপুর স্কুলমাঠে বিয়ের অনুষ্ঠান চলছিল।

নড়িয়া থানার ওসি জানান, মাদক বিক্রির গোপন সংবাদে সেখানে অভিযান চালান এসআই ইকবাল হোসেন, আকরাম হোসেন, এএসআই ফরহাদ হোসেন ও ফয়সাল হোসেন।

“স্থানীয় দিপু মাদবর ও নয়ন মাদবর নামের দুজনকে গ্রেপ্তার করেন তারা।”

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় মসজিদের এক ইমাম বলেন, “এ সময় স্থানীয় বাজারের ব্যবসায়ী রবিন মাদবর দুজনকে গ্রেপ্তারের কারণ জানতে চান। তখন সাদা পোশাকে থাকা পুলিশ সদস্যরা উত্তেজিত হয়ে রবিন মাদবরকে কিল-ঘুষি মারতে থাকেন।

“এতে ক্ষিপ্ত হয়ে বাজারের অন্য ব্যবসায়ীরা পুলিশ সদস্যদের উপর হামলা চালায়। এ সময় আটক দিপু ও নয়ন পালিয়ে যান।”

ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, ব্যবসায়ীদের হামলায় এএসআই ফরহাদের পা ভেঙে যায়। পরে তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠানো হয়।

অন্য আহতরা হলেন- এসআই ইকবাল হোসেন, আকরাম হোসেন ও এএসআই মো. ফয়সাল। তাদের স্থানীয়ভাবে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, আসামি ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগে স্থানীয় ২৩ জন ছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ২০ থেকে ২৫ জন এবং মাদক মামলায় চারজনকে আসামি করে নড়িয়া থানায় দুটি মামলা হয়েছে।

“মামলায় সন্দেহভাজন নয়জনকে গ্রেপ্তার করা হয়। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে চেষ্টা চলছে।”

সরেজমিনে চণ্ডিপুর গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, গ্রেপ্তার আতঙ্কে পুরুষদের পাশাপাশি নারী-শিশুরাও পুলিশের ভয়ে দিন কাটাচ্ছে। এলাকায় কোনো অপরিচিত লোক দেখলে ঘরে দরজা-জানালা বন্ধ করে দিচ্ছে ওই গ্রামের নারীরা। ভয়ে কারও সঙ্গে কথা বলতে চাচ্ছে না তারা।

এদিকে, পুলিশের মামলায় আসামি রবিন মাদবর ও দীপু মাদবরকে ধরতে গিয়ে তাদের বাড়িতে ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে।

 

দীপু মাদবরের ভাই সোহেল মাদবর মোবাইল ফোনে বলেন, “আমার ভাই স্যানিটারি কাজের ঠিকাদার। ওই দিন হইচই শুনে সে সেখানে যায়। হয়রানি করতে পুলিশ তাকে মাদক ও মারামারির মামলায় আসামি করেছে।”

তিনি আরও বলেন, “সে যদি অপরাধ করে থাকে, আইন তাকে শাস্তি দেবে। কিন্তু পুলিশ কেন আমাদের বাড়ির জিনিসপত্র ভাঙচুর করল? সারা বাড়ি তছনছ করে দিয়েছে। ভাত খাওয়ার একটি প্লেটও আস্ত রেখে যায়নি। এর বিচার আমরা কার কাছে দেব?”

ওই গ্রামের আনু সরদারের স্ত্রী শাহিদা বেগম বলেন, “শুক্রবার রাতে পুলিশ এলাকায় এসে সবাইকে দরজা-জানালা আটকে দিতে বলে এবং কয়েকটি বাড়িতে ভাঙচুর চালায়। পুলিশের ভয়ে এলাকায় কোনো পুরুষ মানুষ থাকতে পারছে না।”

তবে বাড়ি-ঘর ভাঙচুরের কথা অস্বীকার করে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা আবির হোসেন বলেন, “এসব অভিযোগ মিথ্যা ও বানোয়াট।”