বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৪, ৩ শ্রাবণ, ১৪৩১, ১১ মহর্‌রম, ১৪৪৬

বিয়ের দাবিতে মানিকগঞ্জের মেয়ে ২১ দিন যাবৎ শরীয়তপুরে

বিয়ের দাবিতে মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার এক মেয়ে ২১ দিন ধরে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলায় এক ইতালি প্রবাসীর বাড়িতে বিয়ের জন্য অনশন করেছে। এর মধ্যে মেয়েটি হারপিক খেয়ে আত্মহত্যারও চেষ্টা চালিয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছে প্রবাসীর পরিবার।
জানা গেছে, মানিকগঞ্জের শিবালয় উপজেলার উথলী ইউনিয়নের জাফরগঞ্জ গ্রামের মেয়ে প্রিয়ার (২০) সাথে শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার ভোজেশ্বর ইউনিয়নের চান্দনী গ্রামের আব্দুর রব শেখের ছেলে ইতালি প্রবাসী ইয়াছিন শেখের (২২) ফেসবুকে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। ইয়াছিন বর্তমানে ইতালিতে রয়েছে। গত ৫ ফেরুয়ারী প্রিয়া ৮০ হাজার টাকা ও দেড় ভরি স্বর্নালংকার নিয়ে বাড়ি থেকে পালিয়ে ইয়াছিনের বাড়ি চলে আসে। এখনও পর্যন্ত বিষয়টির কোন সুরাহা না হওয়ায় গত বৃহস্পতিবার (২৩ ফেরুয়ারী) সন্ধ্যায় হারপিক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে প্রিয়া। ইয়াছিনের পরিবার দ্রুত তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নিয়ে ভর্তি করে। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হওয়ায় আজ (শনিবার) দুপুরে আবার ঐ বাড়ি নিয়ে আসে। বর্তমানে প্রিয়া ইয়াছিনের বাড়িতেই অবস্থান করছে।
প্রিয়া বলেন, ইয়াছিনের সাথে আমার দেড় বছরের প্রেমের সম্পর্ক। তার সাথে সরাসরি দেখা না হলেও ভিডিও কলে দেখা ও কথা হয়। ইয়াছিন আমাকে বিয়ের আশ্বাস দিয়েছে এবং টাকা পয়সা ও সোনাগয়না নিয়ে তাদের বাড়ি আসতে বলেছে। ইয়াছিনের আশ্বাসে ২১ দিন হয় আমি তার বাড়ি এসেছি। সে এখন আমার সাথে যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছে। এজন্য গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আমি হারপিক খেয়ে আত্মহত্যা করতে চেয়েছি। ইয়াছিনের সাথে আমার বিয়ে না দিলে আমি এ বাড়িতেই আত্মহত্যা করবো। কারণ আমার আর কোন যাওয়ার জায়গা নাই। আমার পরিবারও আমাকে জায়গা দিবে না।
ইয়ামিনের বাবা আব্দুর রব শেখ বলেন, আমার দুই ছেলে এক মেয়ে। বড় ছেলে বিয়ে করে বাসা ভাড়া নিয়ে আলাদা সংসার করছে। ছোট ছেলে ইয়াছিন এক বছর হয় লিবিয়া যায়। সেখান থেকে একমাস হয় ইতালি যায়। সে বর্তমানে ইতালির একটি আশ্রয় কেন্দ্রে আছে। ছেলে ইতালি যাওয়ার পথে ধরা খাওয়ায় তার পিছনে আমার সর্বমোট ২০ লাখ টাকা খচর হয়েছে। আমার জায়গা জমি বসতভিটা যা ছিল, তা সব বিক্রি করে ছেলের জন্য টাকা পাঠাতে হয়েছে। আমি এখন অন্যের জায়গায় আশ্রয় থাকছি। এখন পর্যন্ত আমার ছেলে বাড়িতে দুই টাকা পাঠাতে পারেনি। আমি অসুস্থ শরীর নিয়ে রিক্সা চালিয়ে স্ত্রী ও মেয়ে নিয়ে কোন মতে বেঁচে আছি। রিক্সা চালাতে পারলে খাইতে পাই, না পারলে না খেয়ে থাকি। এরমধ্যে হঠাৎ করে ঘাড়ের ওপর বাড়তি ঝামেলা এসে পড়েছে। আমি থানা পুলিশ, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়েছি। কারো কথাই ওই মেয়ে মানতেছেনা। আমি থানায় মামলা করতে চেয়েছি। কিন্তু পুলিশ আমার মামলা নেয়নি এবং মেয়েটিকে তার পরিবারের কাছে পাঠানোর কোন ব্যবস্থা নেয়নি। আমি মেয়েটিকে আমার ছেলে দেশে আসলে সে যদি রাজি থাকে তাহলে তার সাথে তোমার বিয়ে দেব। কিন্তু মেয়েটি কিছুতেই মানছে না। বিয়ে না দেয়ায় সে হারপিক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করে। আমরা দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে সুস্থ করে আবার বাড়ি নিয়ে এসেছি। মেয়েটি আবার না জানি কি অঘটন ঘটায়। আমরা বড় বিপদের মধ্যে আছি।
স্থানীয় মুক্তিযোদ্ধা রমিজ উদ্দিন সরদার বলেন, মেয়েটি ৭০ হাজার টাকা ও সামান্য কিছু স্বর্ণালংকার নিয়ে এসেছে। সেগুলো আমার কাছে জমা রেখেছে। ছেলে দেশে নাই, আর মেয়ে কোন কথাই মানছে না। এর মধ্যে মেয়ে হারপিক খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে। ছেলের পরিবারও অসহায়। বিষয়টি দ্রুত মিমাংসা হওয়া দরকার।
নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. হাফিজুর রহমান বলেন, বিষয়টি জানতে পেরে আমি নিজে ওই ছেলের বাড়িতে উভয়ের কথা শুনেছি। মেয়ের পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু মেয়ের পরিবার মেয়ের ব্যাপারে কোন দায় দায়িত্ব নিতে চাচ্ছে না। আর মেয়েও ছেলের বাড়ি ছেড়ে যাচ্ছে না। সে ক্ষেত্রে আমাদের কি করার আছে।
নড়িয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) মো. পারভেজ বলেন, আমরা বিষয়টি জানি। আমরা মেয়েটির পরিবারের সাথে যোগাযোগ করেছি। কিন্তু তারা আসতে চাচ্ছে না। যেহেতু ছেলের সাথে মেয়েটির বিয়ে হয় নাই, সেহেতু মেয়েটি ছেলের বাড়িতে থাকার আইনগত ভিত্তি নাই। কিন্তু মেয়েটিও কিছুতেই যেতে চাচ্ছে না। আর জোর করে তাকে পাঠানোও যাচ্ছে না। আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করতেছি কি করা যায়।