শনিবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৪, ৭ বৈশাখ, ১৪৩১, ১০ শাওয়াল, ১৪৪৫

শরীয়তপুরে বসবাসরত নদী ভাঙ্গা লোকজন ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করছে

 

শরীয়তপুরে বসবাসরত কতিপয় নদীভাংগা মানুষগুলো সহায় সম্বল হারিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। এদের মধ্যে অনেকেই বয়সের ভারে কোন কাজ করতে পারছে না তারা। তাই অন্যের সহায়তা ছাড়া বাচার সুযোগ নেই তাদের। সহায় সম্বলহারা অন্য জেলা থেকে আসা এ মানুষ গুলোর মাথা গোজার ঠাই নেই। অন্যের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছে পরিবার পরিজন নিয়ে। তারা সরকারের কাছে এক খন্ড জমি বা মাথা গোজার ঠাই চায়।
মধ্যপাড়া এলাকায় আশ্রয় নেয়া রফিকুল ইসলাম বেপারী জানান, শরীয়তপুর পৌর এলাকার ধানুকা ও মধ্যপাড়া এলাকায় অন্যের বাড়িতে নারী পুরুষ, বৃদ্ধ ও শিশুদের নিয়ে প্রায় ৫টি পরিবারের প্রায় ২৫জন লোক আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের মাথা গোজার কোন ঠাই নেই। প্রথমতঃ তারা এ সব বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। একই বাড়ির একই বাসায় একাধিক পরিবার গাদাগাদি করে বসবাস করছেন। তাদের নেই কোন কাজ কর্ম, নেই মাথা গোজার ঠাই। তাই তারা এখন অসহায়। এদের বাড়ি টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলার চরধুপুরিয়া ইউনিয়নের বলারামপুর গ্রামে। সর্বনাশা যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাংগনে বাপ দাদার ভিটেমাটি ও জমি-জমা সবকিছুই নিয়ে গেছে। প্রতিনিয়তই ভাংগছে এ নদী। কোথাও মাথা গোজার ঠাই না পেয়ে স্ত্রী সন্তান ও বাবা-মাকে নিয়ে এরা কেউ মাদারীপুরে, কেউ বা শরীয়তপুর পৌর এলাকায় তাদের সুবিধামত কয়েকটি বাড়িতে আশ্রয় নেয়। তারা শ্রমজীবি মানুষ। দিন আনে দিন খায়। কাউকেই তারা চিনে না জানে না। কাজের তেমন কোন সন্ধান করতে পারেনি। পরিবার পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে। তাই এদের মধ্যে নাসির খা ও নাছিমা বেগম বয়সের ভারে কাজকর্ম করতে না পেরে ভিক্ষাবৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করছেন। ইতোমধ্যে তারা শরীয়তপুর পৌসভার মেয়র এর কাছে সার্বিক সহযোগিতার জন্য আবেদন করেছেন। মেয়র পরভেজ রহমান জন তাদেরকে প্রত্যয়ন করেছেন তারা পৌর এলাকায় বসবাস করছেন। এ সব পরিবারের মধ্যে রয়েছে টাঙ্গাইল জেলার নাগরপুর উপজেলার চরধুপুরিয়া ইউনিয়নের বলারামপুর গ্রামের আক্কেল আলী বেপারীর ছেলে সিরাজুল বেপারী ও তার পরিবার, মোঃ রফিকুল ইসলাম বেপারী ও তার পরিবার,মোকসেদ আলী চৌধুরীর ছেলে কামাল চৌধুরী ও তার পরিবার, আমির আলী খার ছেলে নাসির খা ও তার পরিবার। এরা মধ্যপাড়া এলাকার জলিল মাদবরের বাড়ি ও ধানুকা এলাকার মাবুব আলম সামচুল হক খার বাড়িতে বসবাস করছেন। তারা পরিবার পরিজন নিয়ে মাথা গোজার ঠাই করতে এক খন্ড সরকারী জমি চায়।
এ ব্যাপারে সিরাজুল বেপারী বলেন, যমুনা নদীর করাল গ্রাসে আমাদের বাড়ি ঘর সহায় সম্বল সবকিছুই ভাসিয়ে নিয়ে গেছে। আমরা কোথায় ও আশ্রয় না পেয়ে শরীয়তপুরে এসে পৌর এলাকায় আশ্রয় নিয়েছি। আমাদের মাথা গোজাই ঠাই নেই। কোন কাজকর্ম নেই। পরিবার পরিজন নিয়ে অনেক কষ্টে আছি। সরকারের কাছে একখন্ড জমি চাই। পরিবার পরিজন নিয়ে যাতে মাথা গোজার ঠাই করে নিতে পারি।
নদীভাংগা নাসির খা বলেন, যমুনা নদীতে আমাদের সবকিছু নিয়ে গেছে। কোন উপায় না পেয়ে জীবন বাচার তাগিদে শরীয়তপুর পৌর এলাকায় আশ্রয় নিয়েছি। কোন কাজকর্ম না পেয়ে ভিক্ষা বৃত্তি করে জীবিকা নির্বাহ করছি। আমরা সরকারের কাছে মাথাগোজার ঠাই চাই।
অসহায় নাছিমা বেগম বলেন, যমুনা নদী আমাদের সবকিছুই ভাসিয়ে নিয়েছে। কোথাও ঠাই না পেয়ে শরীয়তপুর পৌর এলাকায় এসে আশ্রয় নিওেয়ছি। আমাদের রোজগারের কোন পথ খুজে না পেয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করে পরিবারের লোকজন নিয়ে জীবিকা নির্বাহ করছি। আমরা সরকারের সহায়তা চাই।