বুধবার, ২২ মে, ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১, ১৩ জিলকদ, ১৪৪৫

শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়ক আটকে ছাত্রলীগের সমাবেশ, তীব্র যানজট

স্থানীয় আওয়ামী লীগ নেতা-কর্মীরা বলেন, শরীয়তপুর-১ আসনটি সদর ও জাজিরা উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ আসনের বর্তমান সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন ওরফে অপু। এর আগে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বি এম মোজাম্মেল হক ওই আসন থেকে ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে দুই দফায় সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। গত চার বছর ৬ মাস মোজাম্মেল হক এক দিনের জন্যও এলাকায় আসেননি। এ নিয়ে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্য অসন্তোষ আছে। সম্প্রতি তিনি গ্রামের বাড়ি জাজিরার বিলাশপুরে আসেন। বিভিন্ন সামাজিক কর্মসূচিতে অংশ নেন। এ নিয়ে ইকবাল হোসেনের সমর্থিত নেতা-কর্মীদের সঙ্গে মোজাম্মেল হকের লোকজনের বিরোধ প্রকাশ্যে রূপ নেয়।

বিলাশপুর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) বর্তমান চেয়ারম্যান কুদ্দুস ব্যাপারী সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেনের সমর্থক। আর ওই ইউপির পরাজিত চেয়ারম্যান প্রার্থী জলিল মাদবর সাবেক সংসদ সদস্য মোজাম্মেল হকের সমর্থক। বেশ কিছুদিন ধরে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে তাঁদের মধ্যে বিরোধ চলছে। ওই বিরোধে গত দুই মাসে চার দফা সংঘর্ষ, ককটেল বিস্ফোরণ, ঘরবাড়ি ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেছে। গত শুক্রবার ওই এলাকা পরিদর্শন করেন মোজাম্মেল হক।

আর সোমবার সেখানে যান সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন ও উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোবারক আলী সিকদার। তাঁরা ওই এলাকায় অবস্থান করার সময়ই বুধাইরহাটে চার-পাঁচটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। ওই ঘটনার প্রতিবাদে আজ এ বিক্ষোভ সমাবেশ করে সংসদ সদস্যের অনুসারী উপজেলা ছাত্রলীগ। এতে আওয়ামী লীগ ও অন্য সহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরাও যোগ দেন। বিকেল পাঁচটার দিকে জাজিরার টিঅ্যান্ডটি মোড়ে এ সমাবেশ শুরু হয়।

সমাবেশে বক্তব্য দেন উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি রুবেল ব্যাপারী, আওয়ামী লীগের নেতা বাবুল আকন, উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবদুল হক কবিরাজ, সভাপতি জি এম নুরুল হক, সাধারণ সম্পাদক আবু তালেব চৌকিদার প্রমুখ। বক্তারা মোজাম্মেল হকের বিরুদ্ধে নানা বক্তব্য দেন। তাঁকে এলাকায় না আসার জন্য হুঁশিয়ারি দেন।

জাজিরা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জি এম নুরুল হক বলেন, সাবেক সংসদ সদস্য মোজাম্মেল হক চার বছর পর এলাকায় এসে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করছেন। বিলাশপুরে চার দফা সংঘর্ষে বহু নেতা-কর্মী আহত হয়েছেন। তাঁদের ঘরবাড়ি ভাঙচুর করা হয়েছে।
এ বিষয়ে সাবেক সংসদ সদস্য মোজাম্মেল হকের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, সড়ক অবরোধ করে সমাবেশ করার তথ্য তাঁদের জানা ছিল না। মুঠোফোনে জানতে পেয়ে ছুটে আসেন। ততক্ষণে সড়কের ওপর কয়েক শ মানুষ দাঁড়িয়ে পড়েছিলেন। তাঁদের সরানোর চেষ্টা করেছিলেন। সন্ধ্যার দিকে সমাবেশ শেষ হলে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক হয়।