বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৪, ৩ শ্রাবণ, ১৪৩১, ১১ মহর্‌রম, ১৪৪৬

সিদ্দিক বাজারে বিস্ফোরণে নাশকতার কোনো তথ্য নেই: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

 

ঢাকার সিদ্দিক বাজারে বিস্ফোরণে এখন পর্যন্ত নাশকতার কোনো তথ্য-প্রমাণ নেই বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।

বৃহস্পতিবার বিকালে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ, ডামুড্যা ও গোসাইরহাট থানার নবনির্মিত ভবনের উদ্বোধনে গিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা জানান।

গত মঙ্গলবার ঢাকার সিদ্দিক বাজারে ক্যাফে কুইন নামে পরিচিত ভবনে বিস্ফোরণের ঘটনায় এখন পর্যন্ত মোট ২১ জন নিহত হয়েছেন।

বুধবার রাতে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে চিকিৎসাধীন সবশেষ একজনের মৃত্যু হয়।

নিহতদের মরদেহ ইতোমধ্যে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করেছে ঢাকা জেলা প্রশাসন।

বিস্ফোরণে আহত ২৭ জন এখনও ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক ইনস্টিটিউটে ভর্তি আছেন। তাদের মধ্যে বার্ন ইনস্টিটিউটে ভর্তি আটজনের অবস্থা ভালো নয় বলে চিকিৎসকরা জানান।

এ বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “আমাদের কাজ চলছে। আমরা সুনিশ্চিতভাবে বলতে পারবো না, কী হয়েছিল। আমাদের পুলিশ বাহিনী আছে পাশাপাশি আমাদের আর্মিও কাজ করছে।”

 

আসাদুজ্জামান খান বলেন, “আমাদের সবাইকে স্মার্ট হতে হবে। আমাদের স্বপ্নটা যদি স্মার্ট করতে পারি, তা হলে অবশ্যই ২০৪০ আমরা শুধু উন্নত দেশ না, স্মার্ট দেশে পরিণত হব।”

প্রধান অতিথির বক্তব্যে নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে শেখ হাসিনাকে আবারও প্রধানমন্ত্রী করার আহ্বান জানান মন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, “সর্বকালের শ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান পুলিশকে আধুনিক হওয়ার আহ্বান করেছিলেন। তিনি শাহাদাতবরণ করার আগেই রাজারবাগ পুলিশ লাইন্সে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি বলেছিলেন, ‘তোমরা উপনিবেশ আমলের পুলিশ নও। তোমরা স্বাধীন দেশের পুলিশ।একটি স্বাধীন ও সার্বভৌম দেশের পুলিশ। তোমাদের জনগণের বিশ্বাস ও আস্থার জায়গায় পরিণত হতে হবে’।”

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “স্বাধীনতার তিন বছরের মাথায় আমাদের সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ বাঙ্গালী বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে হারিয়েছি। তার পরপরই আমরা অন্ধকারে নিমজ্জ্বিত হয়েছি। সেখান থেকে আজ বাংলাদেশের পুলিশ ঘুরে দাঁড়িয়েছে। পুলিশ মানুষের বিশ্বাস ও আস্থার জায়গায় পরিণত হয়েছে। আমরা পুলিশকে আধুনিক পুলিশে রূপান্তরিত করার জন্য সব ধরনের ব্যবস্থা রেখেছি।”

হাইওয়ে পুলিশ, অধিক সুষ্ঠু তদন্তের জন্য পিবিআই, নৌপুলিশ, টুরিস্ট পুলিশসহ নানা ইউনিটের কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, “যেখানে যা প্রয়োজন, সেখানে তা দিয়ে পুলিশকে সাজিয়েছি। দেশ সেবার কাজের জন্য নিয়োজিত করেছি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী পুলিশকে শক্তিশালী করার জন্য আমাদেরকে সব-সময় পরামর্শ দেন। আর আমরা সেই কাজটি করি।”

খালেদা জিয়ার সাজা মওকুফ প্রসঙ্গে আসাদুজ্জামান খান বলেন, “তার (খালেদা জিয়া) আত্মীয়দের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তাকে ঘরে বসে চিকিৎসা নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন। তাদের সে সময়ও শেষ হয়ে যাচ্ছে। তার আত্মীয়-স্বজনরা আবার আবেদন করেছেন। সে আবেদন যথাযথভাবে আইন মন্ত্রণালয়ে যাবে, সেখান থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে পাঠানো হবে।”

থানা ভবন উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন শরীয়তপুর ২ আসনের সংসদ সদস্য ও পানি সম্পদ উপমন্ত্রী এ কে এম এনামুল হক শামীম, শরীয়তপুর ১ আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপু, শরীয়তপুর ৩ আসনের সংসদ সদস্য নাহিম রাজ্জাক।

অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার মো. সাইফুল হক।

এ সময় সেখানে ঢাকা রেঞ্জের ডিআইজি সৈয়দ নুরুল ইসলাম, জেলা প্রশাসক মো. পারভেজ হাসান, জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক অনল কুমার দে, গোসাইহাটের উপজেলার সামন্ত সার ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান ও শরীয়তপুর জেলা কৃষকলীগের যুগ্ন আহ্বায়ক আমির হোসেন পঞ্চায়েদ ছিলেন।