বুধবার, ২৯ মে, ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১, ২০ জিলকদ, ১৪৪৫

শরীয়তপুরে বজ্রপাতে প্রাণ গেল প্রবাসীসহ ৩ জনের

 

শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ ও জাজিরায় বজ্রপাতে প্রবাসী ও গৃহবধূসহ তিনজনে মৃত্যু হয়েছে; আহত হয়েছে এক শিশু।

বুধবার দুপুরে ভেদরগঞ্জ উপজেলার ছয়গাঁও ইউনিয়ন ও মহিষার ইউনিয়ন এবং জাজিরা উপজেলার বড়কান্দি ইউনিয়নের এ ঘটনা ঘটে।

মহিষার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান হাজী অরুন হাওলাদার, ছয়গাঁও ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য মাঝি মোহাম্মদ আবুল হোসেন এবং জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. কামরুল হাসান সোহেল হতাহতের খবর জানান।

নিহতরা হলেন- ভেদরগঞ্জের ছয়গাঁও ইউনিয়নে নাজিমপুর গ্রামের রতন মুন্সীর ছেলে সৌদি আরব প্রবাসীর মো. নাদিম মুন্সী (২৫), একই উপজেলার মহিষার ইউনিয়নের মোসলেম মালের স্ত্রী আনোয়ারা বেগম (৫৫) ও জাজিরার বড়কান্দি ইউনিয়নের জাহাঙ্গীর মোল্লার ছেলে সিফাত মোল্লা (২১)।

আহত হয়েছে বড়কান্দি ইউনিয়নের কাচারি কান্দি গ্রামের সেলিম শেখের মেয়ে এক বছরের শিশু সুরা মনি।

স্থানীয়রা জানান, বুধবার দুপুরে নাদিম মাছের খামারের খাবার (ফিড) নিয়ে যাওয়ার সময় বৃষ্টির সঙ্গে বজ্রপাত হলে তিনি গুরুতর আহত হন। স্থানীয়রা ও পরিবারের লোকজন তাকে উদ্ধার করে ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

আর গৃহবধূ আনোয়ার আকাশে মেঘ দেখে গরু গোয়ালে নিয়ে যাওয়ার সময় বজ্রপাত হয়। এতে তিনি এবং তার সঙ্গে থাকা গরুটি মারা যায়।

অন্যদিকে, জাজিরার বড়কান্দি ইউনিয়নের সিফাত মোল্লা ও সুরা মনি বজ্রপাতে আহত হওয়ার কিছুক্ষণ পরেই তাদের জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে আসা হয়। পরে চিকিৎসক পরীক্ষা করে সিফাত মোল্লাকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত সুরা মনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দায়িত্বরত চিকিৎসক শাকিল আহমেদ বলেন, “বজ্রপাতের ফলে মারা যাওয়া সিফাত এবং আহত শিশু সুরা মনিকে আমাদের এখানে আনা হয়। সিফাতকে পরীক্ষা করে আমরা মৃত পাই এবং সুরা মনিকে প্রাথমিক চিকিৎসা দিয়ে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকায় পাঠাই।”

জাজিরার ইউএনও মো. কামরুল হাসান সোহেল বলেন, “বজ্রপাতে এক যুবকের মৃত্যু ও এক শিশুর আহত হওয়ার খবর পেয়েছি। আমরা ঘটনাস্থলে উপজেলা পিআইও অফিসের এক কর্মকর্তাকে পাঠিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছি।”

নিয়ম অনুযায়ী ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে জানান জাজিরা উপজেলার ইউএনও।