শনিবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৪, ৭ বৈশাখ, ১৪৩১, ১০ শাওয়াল, ১৪৪৫

হজের খরচ কমল ১১ হাজার ৭২৫ টাকা, বাড়ল নিবন্ধনের সময়

 

দফায় দফায় সময় বাড়িয়েও কোটা পূরণ না হওয়ায় হজ প্যাকেজের খরচ ১১ হাজার ৭২৫ টাকা কমানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার।

সেই সঙ্গে হজের জন্য নিবন্ধনের সময় পঞ্চম দফা বাড়িয়ে ২৭ মার্চ পর্যন্ত সময় দিয়েছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

খরচ কমায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে এবার লাগবে ৬ লাখ ৭১ হাজার ২৯০ টাকা। আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় গেলে প্যাকেজ মূল্য হবে ৬ লাখ ৬০ হাজার ৮৯৩ টাকা।

গত ১ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে হজ ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত নির্বাহী কমিটির সভায় সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজের খরচ ৬ লাখ ৮৩ হাজার ১৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছিল।

আর পরদিন হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) জানিয়েছিল, তাদের সদস্য কোনো এজেন্সির ব্যবস্থাপনায় হজে যেতে চাইলে সর্বনিম্ন ৬ লাখ ৭২ হাজার ৬১৮ টাকা খরচ হবে। তার সাথে যুক্ত হবে কোরবানির খরচ।

এই হিসাবে সরকারি ব্যবস্থায় হজের খরচ এবার বেড়ে যায় লাখ টাকা, আর বেসরকারি ব্যবস্থাপনায় আরও বেশি, দেড় লাখ টাকা।

অর্থনৈতিক সঙ্কটের এই সময়ে খরচ এতটা বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন মহল থেকে সমালোচনা হয়। হজের খরচ কমাতে বিভিন্ন কর্মসূচিও পালিত হয়।

চুক্তি অনুযায়ী এবার হজে যেতে পারবেন এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন। কিন্তু খরচের কারণে অনাগ্রহ তৈরি হওয়ায় চার দফা সময় বাড়িয়েও কাঙ্খিত কোটা পূরণ করতে পারেনি মন্ত্রণালয়। ২১ মার্চ পর্যন্ত মোট নিবন্ধন করেন এক লাখ ১৫ হাজার ৪৬৯ জন।

এ অবস্থায় বুধবার ধর্ম মন্ত্রণালয়ের তরফ থেকে হজ প্যাকেজের খরচ কমানোর কথা জানিয়ে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, “সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যবস্থাপনায় হজের জন্য ঘোষিত প্যাকেজে অন্তর্ভুক্ত মিনার চারটি ক্যাটাগরির সেবার মূল্য বাংলাদেশসহ বিশ্বের অন্যান্য দেশের জন্য সৌদি সরকার হ্রাস করায় নিবন্ধিত হজযাত্রীগণ অর্থ ফেরত পাবেন।”

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশের হজযাত্রীদের ‘সি’ ক্যাটাগরির তাঁবুর হিসাব ধরে প্যাকেজ ঘোষণা করা হয়েছে। সৌদি সরকার ৪১৩ সৌদি রিয়াল কমিয়েছে ‘সি’ ক্যাটাগরিতে। তাতে মোট কমেছে ১১ হাজার ৭২৫ টাকা এবং সরকারি ব্যবস্থাপনায় প্যাকেজ মূল্য হবে ৬ লাখ ৭১ হাজার ২৯০ টাকা।

হাবও যেহেতু ‘সি’ ক্যাটাগরির তাঁবু ধরে প্যাকেজ ঘোষণা করেছে, হাবের প্যাকেজ মূল্যও কমে ৬ লাখ ৬০ হাজার ৮৯৩ টাকা হবে।

যেসব এজেন্সি মিনায় তাঁবুর অন্যান্য ক্যাটাগরি ধরে প্যাকেজ নির্ধারণ করেছে, তাদেরকেও সংশ্লিষ্ট ক্যাটাগরির হ্রসকৃত মূল্যে প্যাকেজ নির্ধারণ করে ধর্ম মন্ত্রণালয়ে জমা করতে বলা হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

প্যাকেজ মূল্য হ্রাস পাওয়ায় এবং অনেক হজযাত্রী নতুন করে হজে যাওয়ার জন্য ‘আগ্রহ প্রকাশ করায়’ পরিবর্তিত প্যাকেজে নিবন্ধনের সময়সীমা আগামী ২৭ মার্চ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়।

সেখানে বলা হয়, নিবন্ধনের জন্য সরকারি ও বেসরকারি উভয় ব্যবস্থাপনায় প্রাক-নিবন্ধনের ক্রমিক উন্মুক্ত থাকবে। কোটা পূর্ণ হওয়ার সাথে সাথে নিবন্ধন সার্ভার স্বয়ংক্রিয়ভাবে বন্ধ হয়ে যাবে।

২৭ মার্চ হজ কার্যক্রম পরিচালনাকারী সকল ব্যাংককে অফিস সময়ের পরেও প্রস্তুতকৃত ডাউচারের অর্থ পরিশোধ না হওয়া পর্যন্ত ব্যাংকের শাখা খোলা রাখার জন্য অনুরোধ করেছে ধর্ম মন্ত্রণালয়।

ধর্ম মন্ত্রণালয়ের আরেক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, সরকারি ব্যবস্থাপনায় যারা ইতোমধ্যে নিবন্ধিত হয়েছেন, তাদের হ্রাসকৃত প্যাকেজ মূল্যের অর্থ ঢাকার হজ অফিস থেকে খাবারের মূল্য ফেরত দেওয়ার সময় একসাথে ফেরত দেওয়া হবে। এক্ষেত্রে হজযাত্রীরা ৩৫ হাজার টাকার সঙ্গে ওই ১১ হাজার ৭২৫ টাকা ফেরত পাবেন।

বাংলাদেশ থেকে এবার সরকারি ব্যবস্থাপনায় ১৫ হাজার এবং এক লাখ ১২ হাজার ১৯৮ জন বেসামরিক ব্যবস্থাপনায় হজে যাওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে এবার ২৭ জুন হজ হতে পারে।