মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৪, ১০ বৈশাখ, ১৪৩১, ১৩ শাওয়াল, ১৪৪৫

গোসাইরহাটে অর্ধকোটি টাকা নিয়ে উধাও ভুয়া এনজিও ‘প্রভাতী ফাউন্ডেশন’

শরীয়তপুর গোসাইরহাটে ঋণ দিয়ে গ্রামীণ নারীদের স্বাবলম্বী করে তুলে দেওয়াসহ নানা প্রলোভন দেখিয়ে গ্রাহকদের প্রায় অর্ধকোটি টাকা নিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে ‘প্রভাতী ফাউন্ডেশন’ নামে এক ভুয়া এনজিওর বিরুদ্ধে। এতে প্রায় ৩ শতাধিক গ্রাহক প্রতারণার শিকার হয়েছেন।
(১২-এপ্রিল) মঙ্গলবার সকালে উপজেলার দাশের জঙ্গল গ্রামের ওই ভুয়া প্রতিষ্ঠানে এসে তালাবদ্ধ দেখে শতাধিক নারী-পুরুষ বিক্ষোভ করে। ঈদের আগে প্রতারণার শিকার হয়ে এ সময় শতাধিক নারী-পুরুষ কান্নায় ভেঙে পড়েন।
সরেজমিনে গিয়ে জানা যায়, মাসখানেক আগে পৌর এলাকার ৭নং ওয়ার্ডের দাশের জঙ্গল গ্রামের মিলু পঞ্চায়েতের একটি আবাসিক বাড়িতে অফিস ভাড়া নেয় ‘প্রভাতী ফাউন্ডেশন’ নামের একটি এনজিওর লোকজন। বাড়ি ভাড়া নেওয়ার সময় এনজিওর কর্তাব্যক্তিদের কাছে রেন্ট এগ্রি করার জন্য  জাতীয় পরিচয়পত্র চাইলে কয়েকদিন পর দেওয়ার কথা বলা হয় বাড়ির মালিক মিলুর স্ত্রী শিলা বেগমকে। পরে ওই এনজিওর ম্যানেজারসহ কয়েকজন মাঠকর্মী পৌরসভাসহ উপজেলার ৫-৪ টি ইউনিয়ন থেকে সদস্য সংগ্রহ করা শুরু করে। সেই সঙ্গে সদস্য ফি বাবদ ৬২০ টাকা করে নগদ টাকা নেওয়া হয়।
শুধু কি তাই, প্রত্যেক সমিতির সভাপতিকে দিয়ে সদস্য সংগ্রহ করতো ওই এনজিওর লোকজন। প্রত্যেক গ্রাহকের সঙ্গে এনজিওর মাঠকর্মীরা সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেন। এরপর সদস্যদের চাহিদা মতো ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা করে ঋণ দেওয়ার কথা বলে প্রায় ৩ শতাধিক সদস্যের প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০%হারে ৩০ থেকে প্রায় ৬০  হাজার টাকা ঋণ নেওয়া বাবদ জমা নেওয়া হয়। এদিকে প্রত্যেক সদস্যকে বুধবার ঋণ দেওয়ার কথা বলে অফিসে আসতে বলা হয়।
সোমবার সকালে অফিস তালাবদ্ধ দেখে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে বিক্ষোভ করতে থাকেন প্রতারণার শিকার শতাধিক-নারী। বাড়ির বাইরে দেয়ালে ছোট্ট একটা ব্যানার লাগানা ছিলো। ব্যানারে লেখা ছিলো, ‘প্রভাতী ফাউন্ডেশন’ সেই ব্যানারটিও পাওয়া যায় না। রেজিস্টেশন নং-  9898/C /25319/10/C/97204/11 তবে এনজিও সংশ্লিষ্ট কারো নামা জানা সম্ভব হয়নি।
প্রতারণার শিকার  গ্রামের শামচুন্নাহার বেগম.আকলিমা কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ঈদের আগে ধার করে ১০ হাজার করে জমা দিয়েছিলাম ঋণের আশায়। ভেবেছিলাম গরু কিনবো। পরিশ্রম করে আস্তে আস্তে পরিশোধ করবো টাকা। কিন্তু মিষ্টি কথায় এমন সর্বনাশ হবে ভাবতেও পারিনি। এখন ধারের টাকা শোধ করবো কীভাবে?
গ্রামের মো. মোতাহারনামে অপর আরেকজন জানান, ঈদের আগে আমাদের মতো গরীব মানুষদের সঙ্গে এমন প্রতারণা করে আমাদের পথে বসিয়ে দিয়েছে। আমরা সবাই এর প্রতিকার চাই।
এ ব্যাপারে গোসাইরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. আসলাম সিকদার বলেন, একটি এনজিও ঋণ দেওয়ার কথা বলে সদস্যর কাছ থেকে টাকা নেওয়ার খবর পেয়েছি ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগের প্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্ত করা হবে। সেই সঙ্গে প্রতারকদের খুঁজে বের করতে পুলিশ কাজ করবে বলে জানান তিনি।
ঘটনার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) কাফী বিন কবির বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি তবে ভুক্তভোগীদের সাথে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।