বুধবার, ২৯ মে, ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১, ২০ জিলকদ, ১৪৪৫

শরীয়তপুরে এনজিওর নামে প্রতারণার অভিযোগ

 

শরীয়তপুরের গোসাইরহাট উপজেলায় ঋণ দেওয়ার কথা বলে তিন শতাধিক গ্রাহকের টাকা নিয়ে উধাও হওয়ার অভিযোগ উঠেছে এনজিও কর্মকর্তা পরিচয় দেওয়া কয়েকজনের বিরুদ্ধে।

বুধবার সকালে দাশের জঙ্গল গ্রামে ‘প্রভাতী ফাউন্ডেশন’ নামের কথিত ওই এনজিও কার্যালয়ে এসে তালাবদ্ধ দেখে শতাধিক নারী-পুরুষ বিক্ষোভ করেন।

স্থানীয়রা জানান, মাসখানেক আগে পৌর এলাকার ৭ নম্বর ওয়ার্ডের মিলু পঞ্চায়েতের একটি বাড়িতে অফিস ভাড়া নেন ‘প্রভাতী ফাউন্ডেশনের’ কর্মী পরিচয় দেওয়া কয়েকজন লোক। বাড়ি ভাড়া নেওয়ার সময় তাদের কাছে চুক্তিপত্র করার জন্য জাতীয় পরিচয়পত্র চাইলে কয়েকদিন পর দেওয়ার কথা বলেন।

পরে প্রভাতী ফাউন্ডেশনের ম্যানেজার পরিচয় দেওয়া একজন এবং কয়েকজন মাঠকর্মী পৌরসভাসহ উপজেলার ৫-৪টি ইউনিয়ন থেকে সদস্য সংগ্রহ করা শুরু করেন। সদস্যদের দিয়ে সমিতি করে প্রত্যেক সদস্য থেকে ফি বাবদ ৬২০ টাকা করে নগদ টাকা নেওয়া হয়।

প্রত্যেক সমিতির সভাপতিকে দিয়ে সদস্য সংগ্রহ করতেন ওই লোকজন। সদস্যের সঙ্গে মাঠকর্মীরা যোগাযোগ শুরু করেন। তারা সদস্যদের ঋণ দেওয়ার কথা বললে সদস্যরা ৩ থেকে ৫ লাখ টাকা করে ঋণ নেওয়ার আগ্রহ দেখান। তখন মোট ঋণের টাকা থেকে তাদের কাছ থেকে আগাম ১০ শতাংশ জমা নেন।

তিন শতাধিক সদস্যের প্রত্যেকের কাছ থেকে তারা অর্থ জমা নেন এবং বুধবার ঋণ দেওয়ার কথা ছিল বলে ওই গ্রাহকদের ভাষ্য।

সকালে অফিসে গিয়ে তালাবদ্ধ দেখে প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে বিক্ষোভ করেন শতাধিক নারী-পুরুষ।

কথিত ‘প্রভাতী ফাউন্ডেশনের’ সদস্যদের সরবরাহ করা বই থেকে দেখা যায়, তাদের রেজিস্ট্রেশন নম্বর- ৯৮৯৮/ঈ/২৫৩১৯/১০/ঈ/৯৭২০৪/১১।

তবে এই নামে কিংবা রেজিস্ট্রেশন নম্বরে কোনো এনজিও আছে কিনা তা যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

প্রতারণার শিকার ওই গ্রামের শামচুন্নাহার বেগম কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, “ঈদের আগে ধার করে ১০ হাজার করে জমা দিয়েছিলাম ঋণের আশায়। ভেবেছিলাম গরু কিনব। পরিশ্রম করে আস্তে আস্তে ঋণ পরিশোধ করব। কিন্তু মিষ্টি কথায় এমন সর্বনাশ হবে ভাবতেও পারিনি।”

মো. মোতাহার হোসেন খান বলেন, “ঈদের আগে আমাদের মতো গরিব মানুষদের সঙ্গে এমন প্রতারণা করে পথে বসিয়ে দিয়েছে। আমরা সবাই এর প্রতিকার চাই।”

প্রতারণার শিকার লোকজন থানায় কোনো অভিযোগ করেননি বলে গোসাইরহাট থানার ওসি মো. আসলাম সিকদার জানিয়েছেন।

ওসি আসলাম সিকদার বলেন, “একটি এনজিও ঋণ দেওয়ার কথা বলে সদস্যর কাছ থেকে টাকা নিয়ে পালিয়েছে। ভুক্তভোগীদের লিখিত অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে বিষয়টি তদন্ত করা হবে। সেই সঙ্গে প্রতারকদের খুঁজে বের করতে পুলিশ কাজ করবে।”

ঘটনার বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাফী বিন কবির বলেন, “বিষয়টি আমি শুনেছি। ভুক্তভোগীদের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”