বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৪, ৩ শ্রাবণ, ১৪৩১, ১১ মহর্‌রম, ১৪৪৬

শিমুলিয়া-মাঝিকান্দি নৌপথ ঈদযাত্রায় মোটরসাইকেল পারাপারে ফেরি চলাচল শুরু

 

পবিত্র ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে মোটরসাইকেল পারাপারের জন্য মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া ও শরীয়তপুরের মাঝিকান্দি নৌপথে ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। আজ মঙ্গলবার সকাল ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে ফেরি চলাচল শুরু হয়। এরপর সকাল সোয়া ১০টা পর্যন্ত দুটি ফেরি তিন ট্রিপ দেয়। এতে ২৬১টি মোটরসাইকেল পারাপার করা হয়।

বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন করপোরেশনের (বিআইডব্লিউটিসি) ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) এস এম আশিকুজ্জামান শরীয়তপুর চোখকে বলেন, ফেরির প্রথম দিনেই ভালো সারা পাওয়া যাচ্ছে। আগামীকাল বুধবার থেকে সরকারি ছুটি শুরু। ধারণা করা হচ্ছে, এ নৌপথে মোটরসাইকেলের সংখ্যা আরও বাড়বে। বর্তমানে দুটি ফেরি দুই পাশ থেকে তিন ঘণ্টা পরপর ছাড়া হচ্ছে। মোটরসাইকেলের চাপ বাড়লে ফেরির সংখ্যাও বাড়ানো হবে।

বিআইডব্লিউটিসির এ কর্মকর্তা আরও বলেন, এ নৌপথে যাত্রী ও মোটরসাইকেল পারাপারের জন্য কে-টাইপ ফেরি কলমিলতা ও কুঞ্জলতা রয়েছে। আজ সকাল ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে ১৬৯টি মোটরসাইকেল নিয়ে ফেরি কলমিলতা শিমুলিয়া ঘাট থেকে রওনা করে। সোয়া এক ঘণ্টার মধ্যে ফেরিটি নিরাপদে মাঝিকান্দি ঘাটে পৌঁছায়। সেখান থেকে পাঁচটি মোটরসাইকেল নিয়ে ফেরিটি আবারও শিমুলিয়া ঘাটে আসে। সকাল ৯টার দিকে ৮৭টি মোটরসাইকেল নিয়ে ফেরি কুঞ্জলতাও মাঝিকান্দি ঘাটে যায়।

গত বছরের ২৫ জুন পদ্মা সেতু উদ্বোধন করা হয়। ২৬ জুন সকাল থেকে যান চলাচলের জন্য খুলে দেওয়া হয় সেতুটি। ওই দিনই রাতে বেপরোয়া মোটরসাইকেল নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সেতুতে দুজন নিহত হন। দুর্ঘটনা এড়াতে ২৭ জুন ভোর ছয়টা থেকে পুনরায় আদেশ না দেওয়া পর্যন্ত পদ্মা সেতুতে মোটরসাইকেল চলাচল নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়।

দেশের দক্ষিণাঞ্চলের মানুষ মুন্সিগঞ্জের শিমুলিয়া-শিবচরের বাংলাবাজার ও শিমুলিয়া-জাজিরা নৌপথ ব্যবহার করে যাতায়াত করতেন। এ অঞ্চলের অনেক মানুষ সহজে ঢাকায় যাতায়াতের জন্য মোটরসাইকেল ব্যবহার করেন। মোটরসাইকেলের চালকেরা ফেরিতে পদ্মা নদী পারাপার হতেন। পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ফেরি চলাচল বন্ধ করে দেয় বিআইডব্লিউটিসি। তখন বিপাকে পড়েন মোটরসাইকেলে চলাচলকারীরা। সবশেষ গত ৩০ জুন শিমুলিয়া-মাঝিকান্দি নৌপথে ফেরিযোগে মোটরসাইকেল পারাপার করা হয়।

পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর শিমুলিয়া ঘাট দিয়ে লঞ্চ, ফেরি, স্পিডবোট চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। এর পর থেকে যাত্রীশূন্য হয়ে পড়ে শিমুলিয়ার ঘাটগুলো। ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে আবারও ফেরি চলাচল শুরু হওয়ায় ঘাটে প্রাণ ফিরে এসেছে। দক্ষিণাঞ্চলের বহু মানুষ এ নৌপথ দিয়ে বাড়ি ফিরতে শুরু করেছেন।

ঘাট সূত্রে জানা যায়, শিমুলিয়ায় মোট চারটি ফেরিঘাট রয়েছে। এর মধ্যে ৪ নম্বর ভিআইপি ঘাট দিয়ে ফেরি চলছে। ফেরিতে মোটরসাইকেল পারাপারে ১৫০ টাকা ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত ফেরিতে মোটরসাইকেল পারাপার অব্যাহত থাকবে।

বিআইডব্লিউটিসির শিমুলিয়া ঘাটের ব্যবস্থাপক (বাণিজ্য) মো. জামাল হোসেন শরীয়তপুর চোখকে বলেন, ঈদযাত্রায় মোটরসাইকেল পারাপার করতে মঙ্গলবার ভোর থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে ফেরি চলাচল শুরু হয়েছে। কে টাইপ ফেরি কলমিলতা ও কুঞ্জলতা এ নৌপথে চলবে। প্রতিদিন ভোর ৬টা থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ফেরি চলবে।