বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১, ৬ জিলহজ, ১৪৪৫

ভারতীয় দুই বন্দির মরদেহ নিয়ে বিপাকে শরীয়তপুর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ

 

ভারতীয় দুই বন্দির মরদেহ হস্তান্তর করতে না পেরে বিপাকে পড়েছে শরীয়তপুর সদর হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ; তারা জেলা কারাগারে বন্দি ছিলেন।

তাদের মধ্যে একজন গত ১৮ জানুয়ারি এবং আরেকজন শনিবার রাতে মারা যান। এরপর থেকে তাদের মরদেহ হাসপাতালের ফ্রিজে রয়েছে বলে সদর হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক সুমন কুমার জানান।

শরীয়তপুর জেলা কারাগার সূত্র জানায়, অনুপ্রবেশের অভিযোগে জাজিরা থানায় করা মামলায় গত জানুয়ারিতে ৪৬ জন ভারতীয় নাগরিক জেলা কারাগারে বন্দি ছিলেন। তাদের মধ্যে আটজন নারী।

গত ১৮ জানুয়ারি শরীয়তপুর জেলা কারাগারে ভারতীয় নাগরিক সত্যেন্দ্র কুমার (৪০) মারা যান। তার বাড়ি ভারতের হরিয়ানা রাজ্যের মাথুরা জেলার চেয়ারপুর এলাকায়।

গত বছরের ৮ অক্টোবর পদ্মা সেতুর জাজিরা প্রান্ত এলাকা থেকে তাকে আটক করেন সেনা সদস্যরা। এরপর জাজিরা থানায় করা ‘বাংলাদেশ প্রবেশ নিয়ন্ত্রণ’ আইনের মামলায় তাকে জেলা কারাগারে পাঠানো হয়।

এদিকে শনিবার রাতে জেলা কারাগারে বন্দি আরেক ভারতীয় নাগরিক বাবুল সিং (৩৮) অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে নেওয়া হয়।

পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক। রোববার ময়নাতদন্ত শেষে বাবুল সিংয়ের মরদেহ হাসপাতালের ফ্রিজে রাখা হয়েছে।

চিকিৎসক সুমন কুমার পোদ্দার বলেন, “হাসপাতালে মরদেহ রাখার জন্য একটি ফ্রিজ রয়েছে। সেটিতে মূলত ময়নাতদন্তের জন্য আনা মরদেহ রাখা হয়। সেখানে শুধুমাত্র তিনটি মরদেহ রাখা যায়। তার মধ্যে দুজন ভারতীয় নাগরিকের মরদেহ রাখা হয়েছে।

“এখন ময়নাতদন্তের জন্য আনা মরদেহ রাখতে সমস্যায় পড়তে হবে। বিদ্যুতের লোডশেডিং থাকায় দীর্ঘদিন রাখাও জটিল। আমাদের নিজস্ব জেনারেটরের সক্ষমতা কম। এ অবস্থায় মরদেহগুলো ঢাকায় নেওয়া হলে ভালো হতো।”

শরীয়তপুর জেলা কারাগারের উপ-জেলার রাকিব শেখ বলেন, জেলা কারাগারে বন্দি ৪৬ ভারতীয় নাগরিকের মধ্যে দুজনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ২২ জনকে ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে শরীয়তপুর জেলা কারাগারে ২২ জন আছেন।

জেল সুপারের দায়িত্বে থাকা জেলা প্রশাসনের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুর রহিম বলেন, “দুই বন্দির মৃত্যুর খবর তাৎক্ষণিক স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারা শাখায় চিঠি দিয়ে জানানো হয়েছে।

“ময়নাতদন্ত শেষে দুই ভারতীয় নাগরিকের মরদেহ ফ্রিজে রাখা হয়েছে। তাদের মরদেহ ঢাকায় নেওয়ার জন্য চিঠি দেওয়া হয়েছে।”

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে মরদেহ দুটি আপাতত শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে রাখার ব্যবস্থা করতে বলা হয়েছে বলে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আবদুর রহিম জানান।