মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৪, ১০ বৈশাখ, ১৪৩১, ১৩ শাওয়াল, ১৪৪৫

ইয়াবা দিয়ে চালানের ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার ওসি এসআইয়ের বিরুদ্ধে অভিযোগ

 

জাজিরায় ৯ জুয়াড়িকে আটক করে ইয়াবা দিয়ে চালান করার ভয় দেখিয়ে তাদের কাছ থেকে ৯০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার ওসি এসএম মোস্তাফিজুর রহমান ও এসআই সাইফুল হোসেন খানের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যরা। এ কাজে সহায়তা করেন নাওডোবা ইউপির ৫নং ওয়ার্ডের সদস্য কামাল বেপারী। এ ব্যাপারে শরীয়তপুরের পুলিশ সুপার বরাবরে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। ইমরান চৌকদার, ফোরহাদ গোমস্তাসহ স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, জাজিরা উপজেলার নাওডোবা এলাকার পদ্মা সেতু পুনর্বাসন এলাকা-৪ এর জাকির হোসেনের বাড়িতে বুধবার রাতে অভিযান চালায় পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানা পুলিশ। এ সময় বেলায়েত হোসেন, সায়েম ফরাজী, আবুল বাশার বেপারী, রিপন মিয়া, জাকির হোসেন, বোরহান, তোসার বেপারীসহ ৯ জন জুয়াড়িকে আটক করে। স্থানীয়দের অভিযোগ, আটক ব্যক্তিদের ইয়াবা দিয়ে চালান করার ভয় দেখিয়ে নাওডোবা ইউপি সদস্য কামাল বেপারীর মাধ্যমে প্রত্যেকের কাছ থেকে ১০ হাজার টাকা করে মোট ৯০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেয় ওসি এসএম মোস্তাফিজুর রহমান ও এসআই সাইফুল হোসেন খান। দাবিকৃত টাকা পরিশোধ করার পরও আটক ব্যক্তিদের জুয়া আইনে চালান করে দেয়। গ্রেফতার আটক বেলায়েত হোসেনের স্ত্রী লাকী আক্তার বলেন, জুয়ার আসর থেকে আমার স্বামীকে গ্রেফতার করলেও ইয়াবা দিয়ে চালান দেওয়ার ভয় দেখিয়ে মেম্বার কামাল বেপারীর মাধ্যমে ১০ হাজার টাকা নিয়েছে। গ্রেফতার দেলোয়ারের আত্মীয় সুজন মিয়া বলেন, জুয়াখেলার অপরাধে গ্রেফতার করার পর আবার পুলিশকে টাকা দেওয়া লাগে এটা কেমন কথা। ইউপি সদস্য কামাল বেপারী বলেন, আমি কারও কাছ থেকে কোনো টাকা নেইনি। আমার বিরুদ্ধে অপপ্রচার হচ্ছে। এসআই সাইফুল হোসেন খান বলেন, টাকা নিলে তাদের কোটে চালান করব কেন। তৃতীয়পক্ষ কেউ এ কাজ করেছে কিনা; তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে। ওসি এসএম মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমরা কোনো টাকা নেইনি। বিষয়টি পুলিশ সুপার মহোদয় খতিয়ে দেখছেন।’ অতিরিক্ত পুলিশ সুপার নড়িয়া সার্কেল রাসেল ভাস্কর বলেন, ‘স্থানীয়দের অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ সুপার মহোদয় আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। তদন্ত শেষ হওয়ার আগে কিছু বলা যাবে না।’