বুধবার, ২৯ মে, ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১, ২০ জিলকদ, ১৪৪৫

সিনেমা আমদানি: অনুমতি হয়েছে, এখন নীতিমালা চান হল মালিকরা

প্রেক্ষাগৃহ মালিকদের চাওয়া পূরণ হয়েছে, সরকার ভারতীয় সিনেমা দেশে দেখানোর অনুমতি দিয়েছে। তারা এখন বলছেন, সাফটা চুক্তির আওতায় সিনেমা আমদানির একটি নীতিমালা প্রয়োজন।

বর্তমানে দেশে সিনেমা যেখানে এক কোটি টাকা ব্যবসা করতেই হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে ভারতীয় ‘ভালো’ সিনেমা অনায়াসেই ১০ কোটি টাকা ব্যবসা করতে পারবে বলে আশায় ভর করেছেন চলচ্চিত্র প্রদর্শক সমিতির প্রধান উপদেষ্টা সুদীপ্ত কুমার দাস।

তিনি গ্লিটজকে বলেন, “এখন আমাদের দেশের একটা ভালো সিনেমাও এক কোটি টাকা ব্যবসা করতে পারে কি না সন্দেহ। সেই বাজারই নাই। গত বছর দুইটা সিনেমা কোটির ঘরে ব্যবসা করেছে।”

তার ভাষ্য, ভারতীয় সিনেমা এলে দর্শক হলে ফিরবে, তাতে হলের পেছনে বিনিয়োগের সুযোগ পাবেন হল মালিকরা, তাতে হলের পরিবেশ উন্নত হবে।

সুদীপ্ত বলেন, “সিনেমা হল বেহাল হওয়ার ফলে দর্শক হলে যায় না। দীর্ঘদিন হলে না যাওয়ায় অনভ্যস্ততা তৈরি হয়েছে। ফলে সিনেমা বাজার বড় হচ্ছে না।

“বছরে ১০টি ভালো সিনেমা মুক্তি পেলে হলগুলো নতুন করে জেগে উঠবে। লগ্নিকৃত অর্থ উঠে এলে হল মালিকরা আরও বেশি অর্থ লগ্নি করবে। হলের পরিবেশ উন্নত হবে। নতুন নতুন হল তৈরি হবে। দর্শকের হলে যাওয়ার অভ্যাস তৈরি হবে।”

এসব হয়ে গেলে একটা ভালো সিনেমা অনায়াসে ১০ কোটি টাকা ব্যবসা করবে বলে বলে দাবি করেন তিনি।

সিনেমা আমদানি না হলে হল বন্ধ, প্রদর্শক সমিতির হুমকি

হিন্দি সিনেমা আনলে অবস্থা হবে নেপালের মতো: জায়েদ খান

ঢাকার কেরানীগঞ্জের লায়ন সিনেমাসের মালিক মির্জা আব্দুল খালেকও মনে করেন, বছরে ১০টা ব্যবসা সফল সিনেমা আমদানি হলে প্রেক্ষাগৃহের চিত্র পাল্টে যাবে।

তিনি বলেন, “বছরে ১০টা বিদেশি ছবি ভালো ব্যবসা করলে আমাদের নিজস্ব ছবির জন্য নানা ধরনের কাজ করা সম্ভব।”

সঠিকভাবে’ যেন বছরে ১০টা সিনেমা আসতে পারে সেটাই এখন হল মালিকদের ভাবনা, বলে প্রেক্ষাগৃহ মালিকদের নেতা সুদীপ্ত।

তিনি বলেন, “যেহেতু বছরে মাত্র ১০টা ছবি আনা যাবে, এই ১০টা যেন ব্যবসা সফল ছবি আসে, সেটা সরকারকে নিশ্চিত করতে হবে। এখানে চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ১৯ সংগঠনের যেমন ভূমিকা আছে, মন্ত্রণালয়ের আমদানি-রপ্তানি কমিটিরও ভূমিকা রাখতে হবে।”

তিনি বলেন, “কেউ যদি যেমন-তেমন ছবি নিয়ে আসে, দর্শক তো হলে সে ছবি দেখতে যাবে না। পরে দেখা যাবে ১০ ছবির কোঠা পূরণ হয়ে গেলে ভালো ছবিও আনা যাচ্ছে না। আমরা এটা নিয়েই ভাবছি।”

সরকার ও চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট ১৯ সংগঠনের সমন্বয়ে এই বিষয়ে একটা নীতিমালা তৈরি করা প্রয়োজন বলে মনে করেন তিনি।

লায়ন সিনেমাসের মালিক আব্দুল খালেকও নীতিমালার উপর জোর দিয়ে বলেন, “এতদিন আমরা সংশয়ে ছিলাম অনুমতি পাব কী পাব না। যেহেতু অনুমতি পেয়ে গেছি, এখন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বসে আমাদের একটা নীতিমালা করতে হবে। না হলে সিনেমার বাইরের মানুষজন এসে ব্যবসাটাকে নষ্ট করে দেবে।”

মে মাসেই হলে আসছে পাঠান

শাহরুখ খান-দীপিকা পাড়ুকোন-জন আব্রাহাম অভিনীত ব্যবসাসফল বলিউড সিনেমা পাঠান বাংলাদেশের সিনেমা হলে মুক্তি পেতে পারে মে মাসের শুরুর দিকে।

সিনেমাটির আমদানিকারক ও চলচ্চিত্র পরিচালক অনন্য মামুন গ্লিটজকে বলেন, “পাঁচটি শর্তে উপমহাদেশীয় ছবি মুক্তির অনুমতি দিয়েছে সরকার। সব শর্ত মেনে পাঠান আসবে। মে মাসের শুরুর দিকে মুক্তির পরিকল্পনা করছি।”

হল মালিক ও প্রদর্শকরা সাফটা চুক্তির আওতায় উপমহাদেশীয় সিনেমা তথা ভারতীয় হিন্দি সিনেমা মুক্তির দাবি জানিয়ে আসছিলেন দীর্ঘদিন ধরেই।

তাদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে দুই ভাগ হয়ে যান চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্টরা। একদল মনে করেন, ভারতীয় সিনেমা এলে দেশের সিনেমা হলের ব্যবসা চাঙা হবে। আরেক দল মনে করেন, এতে করে ক্ষতিগ্রস্ত হবে দেশীয় সিনেমা।

তবে সম্প্রতি চলচ্চিত্র সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলোর মধ্যে আমদানির পাল্লা ভারী হলে উপমহাদেশীয় সিনেমা আমদানির অনুমতি দিয়ে ১১ এপ্রিল প্রজ্ঞাপন জারি করে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়।

মন্ত্রণালয় পাঁচটি শর্তে বছরে ১০টি উপমহাদেশীয় সিনেমা আমদানির অনুমতি দেয়।

  • শুধু বাংলাদেশের বৈধ চলচ্চিত্র প্রযোজক, পরিবেশকরা উপমহাদেশীয় ভাষায় নির্মিত চলচ্চিত্র আমদানির সুযোগ পাবেন।
  • উপমহাদেশীয় ভাষায় নির্মিত চলচ্চিত্র সাবটাইটেলসহ পরীক্ষামূলকভাবে শুধু দুই বছরের জন্য রপ্তানির বিপরীতে আমদানি করার সুযোগ থাকবে।
  • প্রথম বছর ১০টি চলচ্চিত্র রপ্তানির বিপরীতে আমদানি করতে পারবে। বছরে ১০টি করে উপমহাদেশীয় সিনেমা মুক্তি পাবে বাংলাদেশে।
  • আমদানিকৃত উপমহাদেশীয় ভাষার চলচ্চিত্র প্রদর্শনের পূর্বে অবশ্যই বাংলাদেশ ফিল্ম সেন্সর বোর্ডের সনদ গ্রহণ করতে হবে।
  • বাংলাদেশ ঈদ-উল-ফিতর, ঈদ-উল আজহা ও দুর্গাপূজার সপ্তাহে উপমহাদেশীয় ভাষার কোনো চলচ্চিত্র প্রদর্শন করা যাবে না।