মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৪, ১০ বৈশাখ, ১৪৩১, ১৩ শাওয়াল, ১৪৪৫

এতিমের অনুদান আত্মসাৎ

 

এতিমখানায় কোনো এতিম নেই, এতিমদের চিহ্নও নেই, স্থানীয় লোকজন এতিমখানা কোনোদিন দেখেনওনি অথচ ২০০৮ সাল থেকে ভুয়া এতিম দেখিয়ে প্রতি মাসে সরকারি-বেসরকারি অনুদানের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এতিমখানার পরিচালক অন্ধ হাফেজ ইদ্রিস আলীর বিরুদ্ধে।

জানা যায়, জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার প্রত্যন্ত সীমান্ত এলাকা ডাংধরা ইউনিয়নের কারখানাপাড়া গ্রামে ২০০৭ সালে ‘কারখানাপাড়া গ্রামীণ এতিমখানা এবং কারখানাপাড়া হাফেজিয়া মাদ্রাসা অন্ধকল্যাণ সংস্থা’ প্রতিষ্ঠা করা হয়। সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়াধীন ব্যাপিটেশন গ্রান্ট প্রাপ্ত এতিমখানা, যার রেজিস্ট্রেশন নং-জা-০০১০০৬। প্রতি মাসে ভুয়া ২০ জন এতিমের নামে সমাজকল্যাণ বিভাগ থেকে জনপ্রতি ২ হাজার করে ৪০ হাজার টাকা সরকারি অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়।

এ বিষয়ে সরকারি অনুদান কিভাবে ভুয়া এতিমদের নামে বরাদ্দ হয়, সরকারি কর্মকর্তাদের কোনো তদারকি নেই, তারা কি দায় এড়াতে পারেন? এতিমখানা নেই, পাশের হেফজখানার হেফজ শিক্ষার্থীদের এতিম দেখানোর চেষ্টা করা হতো, কোনো হাফেজ শিক্ষার্থী নিজেকে এতিম পরিচয় দিতে না চাইলে তাকে হেফজখানা থেকে বের করে দেওয়ার ঘটনাও রয়েছে।

সরেজমিন ঘুরে স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, বিষয়টি শেয়াল কুমিরের গল্পকেও হার মানায়। এতিমখানা নেই।

হেফজখানার মুহতামিম মাওলানা সুলতান মাহমুদ জানান, তার হেফজখানার প্রতিষ্ঠানের পাশে পুরাতন একটি টিনের ঘরে এতিমখানার সাইনবোর্ড লাগানো আছে। কোনো এতিম তিনি দেখেন নাই, টিনের একটি চালা দেখিয়ে বলেন, কেউ এলে দেখিয়ে বলা হয় এখানে রান্না করা হয়। আসলে এখানে কোনো রান্নাই করা হয় না।

হেফজখানার সভাপতি আলহাজ রফিকুল ইসলাম বলেন, অন্ধ হাফেজ ইদ্রিস আলী এখানে কোনোদিন এতিমদের রান্নাতো দূরের কথা চুলাও ধরায়নি। কোনো এতিমকে আমরা দেখিনি। এতিমদের নামে টাকা তিনি নিজেই ভোগ করেন। এতিমদের কোনো কার্যক্রমও নেই।

ভুয়া এতিমখানার বিষয়ে জানতে চাইলে এতিমখানার পরিচালক অন্ধ হাফেজ ইদ্রিস আলী বলেন, আমি ১৮ বছর বয়সে অন্ধ হয়েছি, টাঙ্গাইল থেকে হাফেজি পাশ করেছি। ২০০৭ সালে ৫৪ জন এতিম দিয়ে এতিমখানা চালু ছিল। আগে স্থানীয়ভাবে মানুষের কাজে টাকা নিয়ে এতিমখানা চালাতাম। পরবর্তীতে ২০ জন এতিমের নামে প্রতি মাসে জনপ্রতি ২ হাজার টাকা করে অনুদান আসে। আগে ৫৪ জন এতিম ছিল এখন কমে ২০ জন আছে।

সরেজমিন দেখা গেছে এতিমখানায় একজন এতিমও নেই। ঘরটি তালাবদ্ধ। অন্ধ হাফেজের ছেলে আরিফ জানান, এতিমদের নামের তালিকা ও কাগজপত্র কোনো কিছুই তাদের কাছে নেই।

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা জয়কৃষ্ণ সরকার বলেন, আমি এখানে যোগদান করে এতিমদের নামে আসা অনুদান বন্ধ করে দিয়েছি, এতিমখানাটি পরিদর্শন করেছি। এতিমখানায় কোনো এতিম দেখিনি। প্রতি মাসে ২০ জন এতিমের নামে ৪০ হাজার টাকা করে বরাদ্দ তোলা হচ্ছিল।