বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ১৫ ফাল্গুন, ১৪৩০, ১৭ শাবান, ১৪৪৫

৯ ঘণ্টা মেঘনায় ভেসে থাকা জোহরার মৃত্যুর কারণ নিয়ে যা জানা গেল

চলন্ত লঞ্চ থেকে মেঘনা নদীতে পড়ে ৯ ঘণ্টা ভেসে থাকা জোহরা বেগম (৩৮) গতকাল সোমবার চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন। চিকিৎসক বলছেন, জোহরার হাড় ভেঙে গিয়েছিল। সেই সঙ্গে রক্তনালি ছিঁড়ে প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছিল। প্রধান যে রক্তনালি ছিঁড়ে গিয়েছিল, সেটার চিকিৎসা করা হয়েছে। তাঁকে জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান এবং জাতীয় হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউটে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছিল। তবে শেষ পর্যন্ত তিনি বাঁচলেন না।

জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের পিঙ্ক ১ ইউনিটের চিকিৎসক মুরাদুল ইসলাম মুঠোফোনে বলেন, জোহরার হাড় ভেঙে বড় ক্ষত হয়। রক্তনালি ছিঁড়ে যায়। তখন প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছিল। একজন মানুষের শরীরে সাধারণত ছয় লিটার রক্ত থাকে। ওনার ক্ষতস্থান দিয়ে অন্তত তিন লিটার রক্ত শরীর থেকে বের হয়ে গিয়েছিল। ঢাকায় নিয়ে আসার পর অস্ত্রোপচার করে পায়ের হাড় প্রতিস্থাপন করা হয়েছিল। তখন কিছু রক্তনালিও কার্যকর করা হয়েছিল। তাঁর যে পরিমাণ রক্তস্বল্পতা ছিল, তা একসঙ্গে দেওয়া সম্ভব ছিল না। রক্ত দেওয়ার কাজও চলছিল। রক্তস্বল্পতার কারণে তাঁর হার্ট সাপোর্ট করছিল না।

মুরাদুল ইসলাম আরও বলেন, যে প্রধান রক্তনালিটি ছিঁড়ে গিয়েছিল, সেটা ঠিক করার জন্য যে চিকিৎসা সরঞ্জাম প্রয়োজন, তা ভ্যাসকুলার সার্জারি ডিপার্টমেন্ট আছে, এমন হাসপাতালে রোগীকে পাঠাতে হয়। এ কারণে ওই রোগীকে জাতীয় হৃদ্‌রোগ ইনস্টিটিউটে পাঠানো হয়েছিল। সেখানে চিকিৎসার পর তাঁকে আবার জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে আনা হয়। তাঁর চিকিৎসা চলছিল। এরপর গত রোববার গভীর রাত থেকে ওই রোগীর হার্টের অবস্থা খারাপ হতে থাকে। হার্ট পাম্প করা বন্ধ করে দিয়েছিল। এমন অবস্থায় রোগীকে বাঁচানো প্রায় অসম্ভব। চিকিৎসকেরা কয়েক দিন ধরে তাঁকে বাঁচানোর অনেক চেষ্টা করেছেন, তবে তাঁকে বাঁচানো যায়নি।

জোহরা বেগম শরীয়তপুরের গোসাইরহাট থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে গত বুধবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে ঠান্ডারবাজার এলাকায় চলন্ত লঞ্চ থেকে মেঘনা নদীতে পড়ে যান। ৯ ঘণ্টা নদীতে ভেসে থাকার পর বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে সাতটার দিকে একটি নৌকার জেলেরা তাঁকে নদীর তীরবর্তী এলাকা থেকে উদ্ধার করেন। লঞ্চ থেকে পড়ে যাওয়ার সময় তাঁর বাঁ পায়ের হাড় ভেঙে বের হয়ে যায়। ওই দিন জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে তাঁর অস্ত্রোপচার হয়। পাঁচ দিন চিকিৎসাধীন থাকার পর গতকাল মারা যান তিনি। গতকাল রাত ১১টার দিকে জোহরার লাশ গোসাইরহাটের মাইঝারা গ্রামে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়েছে।

গোসাইরহাট উপজেলার কুচাইপট্টি ইউনিয়নের পশ্চিম বিষকাটালি গ্রামের বাসিন্দা জহিরুল ইসলামের স্ত্রী জোহরা বেগম। স্বামী-সন্তানের সঙ্গে তিনি নারায়ণগঞ্জে থাকতেন। ঈদে গ্রামে বেড়াতে আসেন তাঁরা। বুধবার রাতে ঈগল-৩ লঞ্চে গ্রাম থেকে সেখানে ফিরছিলেন। পথে রাত সাড়ে ৯টার দিকে তিনি লঞ্চ থেকে পড়ে যান। সেখানে লঞ্চ থামিয়ে সার্চলাইট দিয়ে তাঁকে খোঁজাখুঁজি করা হয়। না পাওয়া গেলে তাঁর সঙ্গে থাকা স্বামী ও ছেলেকে একটি জেলে নৌকায় নামিয়ে দেওয়া হয়। ৯ ঘণ্টা পর তাঁকে জীবিত উদ্ধার করে গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়। সেখান থেকে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে ঢাকায় নেওয়া হয়।