মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৪, ১০ বৈশাখ, ১৪৩১, ১৩ শাওয়াল, ১৪৪৫

শরীয়তপুরে কৃষকের জায়গায় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ চেষ্টার অভিযোগ

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলায় এক কৃষকের বাড়ির জমি দখল করে একটি প্রভাবশালী মহল জোরপূর্বক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণের চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গিয়েছে। এ নিয়ে আদালতের শরণাপন্ন হলে ওই দরিদ্র পরিবারটিকে বিভিন্ন চাপ প্রয়োগ ও হুমকি দেয়া হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ঐ কৃষক।
তবে কলেজ কর্তৃপক্ষ দাবী করছেন জায়গাটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের। এ নিয়ে স্থানীয় দু’টি পক্ষ মুখোমুখি অবস্থান নেয়ায় এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে। বিষয়টি দ্রুত মিমাংসা না হলে সংঘাতের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এদিকে দুই পক্ষের রেষারেষিতে ভবন নির্মাণে দেখা দিয়েছে অনিশ্চতা। এতে ক্ষতির সম্মুখীন হতে পারে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি।
জানা গেছে, জাজিরা উপজেলার কাজিরহাট এলাকায় ‘দক্ষিণ ডুবলদিয়া আব্দুর রাজ্জাক হাই স্কুল এণ্ড কলেজ’ অবস্থিত। স্থানীয়দের দানকৃত জমিতে ১৯৯৭ সালে এ শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি সাবেক পানিসম্পদ মন্ত্রী আব্দুর রাজ্জাকের নামে প্রতিষ্ঠা করেন তৎকালীন স্থানীয় সাংসদ মাষ্টার মজিবুর রহমান। প্রতিষ্ঠানটিতে চারতলা বিশিষ্ট একটি বহুতল ভবনও রয়েছে।
বর্তমানে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটিতে ছাত্র-ছাত্রীর সংখ্যা বৃদ্ধি পাওয়ায় ৮৫ লাখ টাকা ব্যায়ে চারতলা ফাউন্ডেশন বিশিষ্ট একতলা একটি ভবন নির্মানের অনুমোদন পায় কলেজটি। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় কতিপয় প্রভাবশালীর ইন্ধনে স্কুল কর্তৃপক্ষ চাইছেন বর্তমান ভবন বরাবর বাম পাশে নতুন ভবনটি নির্মাণ করতে। কিন্তু সেখানে ভবন নির্মাণ করলে স্থানীয় মনসুর মৃধার বসতবাড়ির প্রায় ১০ শতাংশ জমিতে শিক্ষা প্রতিষ্ঠান চলে যাবে।
২০২০ সালের এপ্রিল মাসে ঠিকাদার কার্যাদেশ পেয়ে সেখানে ভবন নির্মাণ করতে গেলে মনসুর মৃধা ও তার পরিবার বাঁধা দেন। তখন এলাকার কিছু প্রভাবশালী মনসুর মৃধাকে লাঞ্ছিত করেন বলে অভিযোগ করেন মনসুর মৃধা। এ নিয়ে স্থানীয় দু’টি পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে নিরুপায় হয়ে মনসুর মৃধা তার বসত-ভিটা রক্ষার জন্য আদালতে মামলা দায়ের করেন। পরে আদালত ওই জমিতে ভবন নির্মাণে নিষেধাজ্ঞা দিলে কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
এদিকে প্রথম দফায় কাজের মেয়াদ শেষ হওয়ায় ভবন নির্মাণে দেখা দিয়েছে অনিশ্চয়তা। বিষয়টি মিমাংসা না হলে এবং স্কুল কর্তৃপক্ষ জায়গা নির্ধারণ করে না দিলে ভবন নির্মাণ করবেনা বলে জানিয়েছেন শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর। জায়গা বুঝে পেলেও আবার নতুন করে ঠিকাদার নিয়োগ করতে হবে। দ্রুত সমাধান না হলে বরাদ্দ বাতিল হয়ে যাবে। সেক্ষেত্রে অন্য নামে অন্য কোন প্রতিষ্ঠানে হতে পারে। এতে ক্ষতিগ্রস্ত হবে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি।
মনসুর মৃধা অভিযোগ করে বলেন, দক্ষিণ ডুবলদিয়া আব্দুর রাজ্জাক হাই স্কুল এণ্ড কলেজটি যখন প্রতিষ্ঠা করা হয় তখন স্থানীয় অনেকেই জমি দান করেছেন। আমিও ১২ শতাংশ জমি দান করেছি। আমার সে জমি উপর প্রতিষ্ঠানটির চারতলা ভবন রয়েছে। বর্তমানে আবার নতুন করে ভবন বরাদ্দ হলে স্কুল কর্তৃপক্ষ আমার বাড়ির জমি দখল করে জোরপূর্বক ভবন নির্মাণ করতে চাইছে। অথচ অন্য সাইডে প্রতিষ্ঠানটির জমি রয়েছে। চাইলে সেখানে তারা নতুন ভবন নির্মাণ করতে পরেন, কিন্তু সেটা তারা করছেননা। আমি গরীব মানুষ, আমার জায়গা সম্পত্তি তেমন নাই। বাড়ির জমিটুকু স্কুলে নিয়ে গেলে আমার ছেলে-মেয়েদের যাওয়ার জায়গা থাকবেনা। আমি নিরুপায় হয়ে আদালতে মামলা করলে প্রভাবশালীরা আমাকে ও আমার ছেলেদের হুমকি-ধামকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। তারা মামলা তুলে নেয়ার জন্য আমাদের চাপ প্রয়োগ করছেন। আমি এর সুষ্ঠু বিচার দাবি করছি।
দক্ষিণ ডুবলদিয়া আব্দুর রাজ্জাক হাই স্কুল এণ্ড কলেজের অধ্যক্ষ মো. আলী হোসেনের কাছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি কোন কথা বলতে রাজী হননি।
প্রতিষ্ঠানটির সভাপতি অধ্যক্ষ মোশাররফ হোসেন বলেন, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান স্থানীয় লোকজনের জমিতেই করতে হয়। এছাড়া প্রতিষ্ঠান জায়গা পাবে কোথায়। তবে কারো কোন আপত্তি থাকলে সেটা আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করা উচিত। সেক্ষেত্রে উভয় পক্ষের স্বদিচ্ছার প্রয়োজন।
জেলা শিক্ষা প্রকৌশল কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী রাসেল মিয়া বলেন, জমি সংক্রান্ত জটিলতার কারণে ভবন নির্মাণ করা আমাদের পক্ষে সম্ভব হচ্ছে না। কয়েক দফায় চিঠি দেয়ার পরেও কর্তৃপক্ষ আমাদের জায়গা বুঝিয়ে দিতে পারেনি। ইতিমধ্যে কাজের মেয়াদ শেষ হয়ে গেছে। দ্রুত বিষয়টি সমাধান না হলে ভবন নির্মাণে অনিশ্চয়তা দেখা দিতে পারে।