বুধবার, ২২ মে, ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১, ১৩ জিলকদ, ১৪৪৫

ভুয়া শ্রমিকের নামে অর্থ লুট গোসাইরহাটে কর্মসৃজন প্রকল্পে অনিয়ম দুর্নীতি

শরীয়তপুরের গোসাইরহাটে অতি দরিদ্রদের জন্য সরকারের নেওয়া কর্মসংস্থান কর্মসূচি ‘৪০ দিনের কর্মসৃজন প্রকল্পে’ অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ পাওয়া গেছে। জানা গেছে, এ কর্মসূচিতে ২০২২-২৩ অর্থবছরের ২য় পর্যায়ের প্রায় ৯৪ লাখ ৭২ হাজার টাকা বরাদ্দ দেয় সরকার। স্থানীয় অতি দরিদ্রদের দিয়ে করানোর কথা থাকলেও গোসাইরহাটের ৮টি ইউনিয়নে তা করা হয়নি। নির্ধারিত শ্রমিকের চেয়ে অনেক কম শ্রমিক দিয়ে নামমাত্র মাটি কাটা হয়েছে এবং বাকি মাটি কাটা হয় ভেকু দিয়ে। এভাবে কাজ করেই উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার যোগসাজশে প্রকল্পের টাকা আত্মসাতের পাঁয়তারা করা হচ্ছে। সরজমিনে ইদ্রিলপুর ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের মাছুয়াখালীর রব মাঝির বাড়ি থেকে জলিল মাদবরের বাড়ির ব্রিজ পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এবং ১নং ওয়ার্ডের নাছির দপ্তরির বাড়ি থেকে মিজান মীরের বাড়ি হয়ে আরও প্রায় এক কিলোমিটার রাস্তার কাজ চলতে দেখা গেছে। ২৫/৩০ শ্রমিককে এ কাজ করছেন। অথচ কর্ম তালিকায় নারী-পুরুষ মিলে ৬০ জনের নাম থাকার কথা। নির্ধারিত সংখ্যার অর্ধেক শ্রমিক দিয়ে কাজটি করানো হচ্ছে। যেখানে নারীদের উপস্থিতি পাওয়া যায়নি। তালিকায় নারী শ্রমিক হিসেবে খুখুমনি, সুমি বেগম, পারভীন বেগম, আম্বিয়া, মুকুল, রোকসানাসহ অনেকের নাম থাকলেও তারা কর্মক্ষেত্রে উপস্থিত ছিলেন না। স্থানীয় কুদ্দুস বেপারী, শাহেদ আলমসহ অনেকেই জানান, অতি দরিদ্রদের তালিকায় ভুয়া নাম দেওয়া হয়েছে। নিজস্ব লোকদের মোবাইল সিমের মাধ্যমে ওইসব অনুপস্থিতি শ্রমিকদের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার পাঁয়তারা করছে প্রকল্পের সভাপতিরা। এছাড়াও ইদিলপুর ইউনিয়নসহ অন্য ইউনিয়নে শ্রমিকের পরিবর্তে ভেকু দিয়ে প্রকল্পের কাজ সমাপ্ত করে মনগড়া তালিকায় টাকা উত্তোলন করছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। ইদিলপুর ইউপি চেয়ারম্যান সাময়িক বহিষ্কার থাকার কারণে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম নানা অনিয়মের মাধ্যমে নিজেই প্রকল্পের টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন।

ইদিলপুর ইউনিয়নের ১নং প্রকল্পের সভাপতি ইদিলপুর ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মামুন মিয়া বলেন, আমাকে ওই প্রকল্পের সভাপতি করা হলেও আমি এ বিষয়ে কিছুই জানি না। সবকিছু দেখভাল করেন প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম। একই ইউনিয়নের ২নং প্রকল্পের সভাপতি উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা পরিদর্শক মো. মাসুম আলম বলেন, এ বিষয়ে আমি কিছুই জানি না। সবকিছুর দায়দায়িত্ব প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার। কাগজে-কলমে শুধু আমরা আছি। প্রকল্পের ট্যাগ অফিসার মাইনুল ইসলাম বলেন, যত জন শ্রমিক পাই তাদের বিল দেওয়া হবে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. আমিনুল ইসলাম বলেন, এ বিষয়ে ইউএনওর অনুমতি ছাড়া আমি কিছু বলতে পারব না। এ কথা বলে তিনি অফিস থেকে বের হয়ে যান। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কাফি বিন কবীরকে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি।