বুধবার, ২৯ মে, ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১, ২০ জিলকদ, ১৪৪৫

জাজিরায় ইয়াবাসহ ৩জনকে আটক করেছে পুলিশ

পদ্মানদীর মধ্যে অবস্থিত শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার কুন্ডেরচর ইউনিয়নের চিটারচরে ২০ পিছ ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে আটক করে জাজিরা থানা পুলিশের হাতে দিয়েছে স্থানীয় বাসিন্দারা। শুক্রবার রাতে চিটারচরের কানারবাজার এলাকায় মাদক বিক্রির সময় হাতেনাতে তাদের আটক করে স্থানীয়রা।

আটককৃতরা হলেন, চিটারচর এলাকার আবু মাদবরের ছেলে রাজিব মাদবর(২২) এবং ইব্রাহিম পঞ্চায়েতের ছেলে ইমরান পঞ্চায়েত(১৯)।

এ বিষয়ে কুন্ডেরচর ইউনিয়ন পরিষদের মহিলা মেম্বার ছায়েদা বেগমের স্বামী চিটারচরের বাসিন্দা মোস্তফা খান জানান, রাতে তারা ইয়াবা বিক্রি করার জন্য আসলে স্থানীয় কিছু সমাজ সচেতন লোকজন তাদের হাতেনাতে আটক করে জনপ্রতিনিধির বাড়ি হিসেবে আমার বাড়িতে নিয়ে আসে। পরে আমি বিষয়টি আমাদের চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন বেপারিকে জানালে তিনি জাজিরা থানায় ফোন দিলে থানা থেকে পুলিশ এসে তাদের নিয়ে যায়।

একই দিন সন্ধ্যায় জাজিরার বড় গোপালপুর ইউনিয়নের উত্তর শিকদার কান্দি এলাকা থেকে হরিয়াশার মিজানুর রহমান খানের ছেলে রুবেল মিয়া (৩৯) নামে আরেক মাদক ব্যবসায়ীকে ২০ পিছ ইয়াবাসহ আটক করেন জাজিরা থানার পুলিশ উপ-পরিদর্শক (এসআই) মো: জসিম উদ্দিন। পরে তাকে থানায় নিয়ে এসে তার বিরুদ্ধেও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে ১৪/৯৪ নম্বরের একটি মামলা দায়ের করা হয়। এর আগেও তাকে ইয়াবাসহ আটক করা হয়েছিলো এবং মামলা দিয়ে আদালতে প্রেরণ করা হয়েছিলো। পরে জামিনে এসে আবার মাদক ব্যবসায় জড়িয়ে পরেন তিনি।

জাজিরা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোস্তাফিজুর রহমান জানান, আমরা রাতে খবর পাই পদ্মানদীর মধ্যে অবস্থিত কুন্ডেরচরের চিটারচর এলাকায় ইয়াবাসহ দুই মাদক ব্যবসায়ীকে স্থানীয়রা আটক করেছে। তাদের বিরুদ্ধে মামলা দেয়া হয়। এছাড়া আরও একজনকে বড় গোপালপুর থেকে ইয়াবাসহ আটক করে মামলা দেয়া হয়েছে।

উল্লেখ্য: পদ্মা নদীর মধ্যে অবস্থিত চিটারচর ও বাবুরচর এলাকাটিতে প্রশাসনের যাতায়াত কম থাকায় সেখানে নিয়মিত চাঁদাবাজি, অবৈধ ড্রেজিং এবং মাদকসহ ভয়াবহ অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িয়ে পড়ছে সেখানকার বাসিন্দারা। এর সাথে কুন্ডেরচরের স্থানীয় তথাকথিত প্রভাবশালী একটি মহল জড়িত রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। তবে প্রশাসনের যথাযথ নজরদারি না থাকায় সাম্প্রতিক সময়ে এসব অপরাধ উদ্বেগজনকহারে বৃদ্ধি পেয়েছে। যা নিয়ে উদ্বিগ্ন এখানকার জনপ্রতিনিধিরাও।

কুন্ডেরচর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আক্তার হোসেন বেপারি বলেন, চিটারচরের চিহ্নিত কিছু লোকজন নিয়মিত চাঁদাবাজি, মাদক এবং ড্রেজিংসহ বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছে। ছোট-ছোট বাচ্চাদের হাতে ইয়াবা ধরিয়ে দেয়ার পাশাপাশি পদ্মায় চাঁদাবাজি করার জন্য নামিয়ে দিচ্ছে স্পীডবোট আর ট্রলারে করে। যার ফলে এই এলাকাটির ভবিষ্যৎ প্রজন্ম একটি অন্ধকার জগতের দিকে ধাবিত হচ্ছে। এছাড়া ড্রেজিং এবং চাঁদাবাজিতে নৌ-পুলিশের মদদ রয়েছে বলেও আমি শুনেছি।