বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ১৫ ফাল্গুন, ১৪৩০, ১৭ শাবান, ১৪৪৫

২৪ ঘণ্টায় মৃত্যু ৫, ভর্তি ৬৭৮ : ৪৩ শতাংশ বহুতল ভবনে এডিসের লার্ভা ভয়ংকর রূপ নিচ্ছে ডেঙ্গু পরিস্থিতি

 

চলতি বছর দেশে বর্ষা মৌসুম শুরুর আগেই এডিস মশাবাহী ডেঙ্গু রোগের পরিস্থিতি ভয়াবহতার আভাস দিচ্ছে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ছুটে যাচ্ছেন।

এবার ডেঙ্গুর এই ঊর্ধ্বমুখী সংক্রমণ ধারায় রাজধানীর ৪৩ শতাংশের বেশি বহুতল ভবনে এডিসের লার্ভার অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে জনস্বাস্থ্যবিদরা বলছেন, বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই পরিস্থিতি দিন দিন নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে। এ ব্যাপারে জরুরি ও অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এখনই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে ভয়ংকর রূপ ধারণ করতে পারে গোটা পরিস্থিতি। তখন প্রকৃত অর্থেই ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। আক্রান্ত ও মৃত্যুর সংখ্যা বাড়বে অস্বাভাবিকভাবে।

নিয়ন্ত্রণহীন ডেঙ্গু পরিস্থিতির তথ্য খোদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ এডিস মশা জরিপে উঠে এসেছে। অধিদপ্তরসংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার ৫৫টি ওয়ার্ড এডিস মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুর উচ্চঝুঁকিতে রয়েছে।

এর মধ্যে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন (ডিএসসিসি) এলাকার ২৮টি এবং উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) এলাকার ২৭টি ওয়ার্ড রয়েছে। উল্লেখ্য, ডিএনসিসি এলাকায় ৫৪টি এবং ডিএসসিসি এলাকায় ৭৫টি ওয়ার্ড মিলিয়ে ঢাকায় মোট ওয়ার্ডের সংখ্যা ১২৯টি।

মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এক সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার জাতীয় ম্যালেরিয়া ও এডিসবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আওতায় ১৮ থেকে ২৭ জুন ঢাকায় বর্ষা মৌসুম-পূর্ববর্তী জরিপ করা হয়। ঢাকার দুই সিটি করপোরেশনের ৯৮টি ওয়ার্ডে এ জরিপ করা হয়েছে।

ডিএনসিসির ৪০টি এবং ডিএসসিসির ৫৮টি ওয়ার্ডে গেছেন জরিপকারীরা। এসব ওয়ার্ডের ৩ হাজার ১৪৯টি বাড়ি পরিদর্শন করে ৫৪৯টি বাড়িতে এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে। ডিএনসিসির ২৭২ এবং ডিএসসিসির ২৭৮টি বাড়িতে মিলেছে এডিস মশার লার্ভা। এসব ওয়ার্ডে এডিস মশার ব্রুটো ইনডেক্স ২০-এর বেশি। কোনো এলাকায় এডিস মশার ঘনত্বের একক হলো ব্রুটো ইনডেক্স। ব্রুটো ইনডেক্স ২০-এর বেশি হলে মশার ঝুঁকিপূর্ণ উপস্থিতি বিবেচনা করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, ডিএনসিসির ২, ৩, ৫, ৬, ১০, ১৩, ১৪, ১৫, ১৬, ১৭, ১৮, ১৯, ২০, ২১, ২২, ২৩, ২৫, ২৬, ২৭, ২৮, ২৯, ৩০, ৩১, ৩৩, ৩৫, ৩৭ ও ৩৮ নম্বর ওয়ার্ডের ব্রুটো ইনডেক্স ২০-এর বেশি। আর দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ২, ৩, ৪, ৫, ৬, ৯, ১১, ১২, ১৩, ১৫, ১৬, ১৮, ১৯, ২২, ২৩, ২৬, ৩৩, ৩৪, ৩৬, ৪১, ৪৪, ৪৬, ৪৮, ৫০, ৫১, ৫৪, ৫৫ ও ৫৭ নম্বর ওয়ার্ডে ব্রুটো ইনডেক্স ২০-এর বেশি পেয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।

সংবাদ সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. নাজমুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘এই ফলাফলের মানে এসব এলাকায় ডেঙ্গুর জীবাণুবাহী এডিস মশার উপস্থিতি বেশি। উত্তর-দক্ষিণ যা-ই বলি না কেন, আমরা সবাই ডেঙ্গু রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে আছি।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, রাজধানীর দক্ষিণ সিটির হাসপাতালগুলোয় ডেঙ্গু রোগীদের তিল ধারণের ঠাঁই মিলছে না। অন্যদিকে উত্তর সিটিতে রোগীর চিত্র কম দেখা যাচ্ছে। অথচ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ডেঙ্গু সংক্রমণের প্রি-মনসুন সার্ভের ফলাফল বলছে, দুই সিটিতে প্রায় সমানসংখ্যক মানুষ ডেঙ্গু আক্রান্ত হচ্ছেন। একই শহরের হাসপাতালে রোগী ভর্তির আকাশ-পাতাল পার্থক্যের বিষয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যে প্রশ্ন জাগছে।

এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল বাশার মোহাম্মাদ খুরশীদ আলম বলেন, ডেঙ্গু চিকিৎসায় সরকারের প্রস্তুতি রয়েছে। এখন ঢাকা ও চট্টগ্রামে রোগী বেশি দেখা যাচ্ছে। ঢাকায় দক্ষিণ সিটির হাসপাতালগুলোয় রোগীর সামাল দিতে বেগ পেতে হচ্ছে। এ কারণে দক্ষিণ সিটিতে কেউ ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে উত্তর সিটির হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাচ্ছেন না। উত্তর সিটির হাসপাতালে তুলনামূলক কম রোগী ভর্তি হচ্ছেন। এসব কারণে দক্ষিণে রোগীদের ভিড় বাড়লেও উত্তরে শয্যা ফাঁকা দেখা যাচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, ডেঙ্গুতে বেশিরভাগ মৃত্যুর কারণ হেমোরেজিক ফিভার ও শক সিনড্রোম। তবে আমরা ক্লিনিক্যালি মৃত্যুর কারণ জানার চেষ্টা করেছি। আমাদের কাছে থাকা তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত মৃতদের প্রায় প্রত্যেকে ডেঙ্গু হেমোরেজিক ফিভারে ভুগছিলেন এবং শক সিনড্রোমে তাদের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া অন্য আরও কারণ থাকতে পারে, যা জানার জন্য অটোপসি করা প্রয়োজন। কিন্তু তা রোগীর পরিবার অনুমোদন দেবে না। আর এটা সাধারণ প্র্যাকটিসও নয়।

এডিস মশার প্রাক-মৌসুম জরিপের তথ্যের ভিত্তিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, পুরো ঢাকার সবাই ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকিতে আছে। দুই সিটি করপোরেশনের সমানসংখ্যক ওয়ার্ডে নির্ধারিত মাত্রার বেশি এডিস মশার লার্ভা পাওয়া গেছে।

রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আশপাশের এলাকায় ডেঙ্গুর প্রকোপ বেশি। ঢাকায় রোগীর সংখ্যা বেশি হলেও এখন ঢাকার বাইরে রোগী বেড়েছে। ৩ জুলাই ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার চেয়েও বেশি রোগী পাওয়া গেছে ঢাকার বাইরে। এছাড়া ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর সংখ্যার দিক থেকে ঢাকা সবার ওপরে। এখন পর্যন্ত মোট ৬১ মৃত্যুর ৪৮টি ঢাকায়। এছাড়া চট্টগ্রামে ১১, বরিশাল ও ময়মনসিংহে ১ জন করে মারা গেছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে যাদের মৃত্যু হয়েছে, তাদের মধ্যে ১ থেকে ৩ দিনের মধ্যে মারা যাচ্ছেন ৮০ শতাংশ রোগী। বাকি ১৪ শতাংশ ৪ থেকে ১০ দিনের মধ্যে এবং ৬ শতাংশ ১১ থেকে ৩০ দিনের মধ্যে মারা যাচ্ছে। চলতি বছরের ২ জুলাই পর্যন্ত ৫০ রোগীর মৃত্যুর কারণ পর্যালোচনা করে এসব তথ্য পাওয়া যায়।

আরও জানা যায়, ২০২২ সালের জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ৩ হাজার ৫২১ এবং মৃত্যু ছিল ১০ জনের। সেখানে এই বছরের ৪ জুলাই পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৯ হাজার ৮৭১ জন। এর মধ্যে চিকিৎসা নিয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮ হাজার ১৪১ জন।

নারী রোগীর মৃত্যু বেশি : স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ডেঙ্গুতে মৃত ৫০ জনের মধ্যে ৬২ শতাংশ নারী আর পুরুষ ৩৮ শতাংশ। মৃতদের ৬০ দশমিক ৮০ শতাংশের বয়স ১৯ থেকে ৫০ বছর। এছাড়া ৯ শতাংশ মৃত্যু ৫০ বছরের ঊর্ধ্বে, ১২ থেকে ১৮ বছর বয়সিদের মৃত্যু ৮ দশমিক ৭০ শতাংশ, ৬ থেকে ১১ বছর বয়সিদের মৃত্যু ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং শূন্য থেকে ৫ বছর বয়সিদের মৃত্যুহার ৪ দশমিক ৩ শতাংশ।

বেশি মৃত্যু মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে : স্বাস্থ্য অধিদপ্তর জানিয়েছে, ডেঙ্গুতে মৃত ৬১ জনের মধ্যে ১৯ জনই মারা গেছেন রাজধানীর মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এরপর ৮ জন মারা গেছেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। এছাড়া চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ৯ জন, স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ মিটফোর্ড হাসপাতালে ৬ জন এবং আজগর আলী হাসপাতালে মারা গেছেন ৪ জন। পাশাপাশি বারডেম, কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতাল, ইসলামী ব্যাংক সেন্ট্রাল হাসপাতাল এবং স্কয়ার হাসপাতালে ২ জন করে ৮ জন মারা গেছেন। অ্যাপোলো ইম্পেরিয়াল হাসপাতাল, সম্মিলিত সামরিক হাসপাতাল, শিশু হাসপাতাল, পার্কভিউ হাসপাতাল, শেরেবাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ১ জন করে ৬ জন মারা গেছেন।

রোগী বেড়েছে ৬ গুণ : বিগত বছর একই সময়ে দেশে ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ছিল ১ হাজার ২০২। আর এই বছর এখন পর্যন্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৮৭১ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের এডিসবাহী রোগ নির্ণয় কর্মসূচির ডেপুটি প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. মো. ইকরামুল হক বলেন, প্রথমেই ডেঙ্গুবাহিত মশার উৎস শনাক্ত এবং ধ্বংস করা জরুরি। ডেঙ্গু কারও একার পক্ষে নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। এক্ষেত্রে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরসহ প্রতিটি সংস্থার সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সাধারণ মানুষের সক্রিয় অংশগ্রহণের প্রয়োজন আছে জনসচেতনতা তৈরির জন্য।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক কীটতত্ত্ববিদ ড. কবিরুল বাশার বলেন, এবারের জরিপে লার্ভার যে ঘনত্ব উঠে এসেছে, তাতে আগামী কয়েকদিনে ডেঙ্গুর সংক্রমণ ব্যাপকভাবে বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবার গত কয়েকদিনের বৃষ্টির আগে করা এই জরিপের হিসাব আর বৃষ্টির পরের হিসাব এক থাকবে না। গত কয়েকদিনে থেমে থেমে বৃষ্টিপাত হওয়ায় অসংখ্য পরিত্যক্ত পাত্রে পানি জমা হয়েছে, যার মধ্যে এডিস মশা ডিম পাড়বে। এই ডিমগুলো ফুটে লার্ভা, পিউপা ও উড়ন্ত মশায় পরিণত হবে। এই পরিস্থিতিতে জরুরি ভিত্তিতে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম ব্যাপক হারে না বাড়ালে এ বছর ডেঙ্গু স্মরণকালের ভয়াবহ বিপর্যয় হিসাবে দেখা দেবে।

২৪ ঘণ্টার চিত্র : এদিকে সোমবার সকাল ৮টা থেকে মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৬৭৮ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪২৯ জন, আর ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ২৪৯ জন। এই সময়ে ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে আরও ৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুম থেকে এ তথ্য জানানো হয়।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে মোট ১৬৬৯ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন আছেন। ঢাকার ৫৩টি সরকারি ও বেসরকারি হাসপাতালে বর্তমানে ১১০০ জন এবং অন্যান্য বিভাগের বিভিন্ন হাসপাতালে ৫৬৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি রয়েছেন।

চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে সারা দেশে এখন পর্যন্ত ৯৮৭১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়েছেন। এর মধ্যে ঢাকায় ৭০৮৪ জন এবং ঢাকার বাইরে চিকিৎসা নিয়েছেন ২৭৮৭ জন। আক্রান্তদের মধ্যে হাসপাতাল থেকে সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন ৮১৪১ জন। ঢাকায় ৫৯৩৬ এবং ঢাকার বাইরে ২২০৫ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন। চলতি বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে মঙ্গলবার পর্যন্ত ৬১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

সরেজমিন : মঙ্গলবার সরেজমিন মুগদা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, ডেঙ্গু ওয়ার্ডগুলোয় রোগী পূর্ণ। শয্যা সংকটে অনেকে মেঝেতে বিছানা পেতে চিকিৎসা নিচ্ছেন। তবে হাসপাতালে মশার উপদ্রব থাকলেও কাউকে মশারি টানাতে দেখা যায়নি। সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, চার দিনে ৩৬৪ জন রোগী ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে ২৮৮ জনেরও বেশি রোগী ভর্তি আছেন। তাদের মধ্যে ২২৯ জন বয়স্ক এবং শিশু ৫৯ জন। ২৪ ঘণ্টায় ১৩১ জন নতুন রোগী ভর্তি হয়েছেন। এ সময় তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। চার দিনে সাতজন রোগী মারা গেছেন।

হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. নিয়াতুজ্জামান বলেন, প্রতিদিন রোগী বাড়ছে। শুরুর দিকে যাত্রাবাড়ী, কাজলা, মাতুয়াইল, পলাশপুর, জুরাইন, শনিরআখড়া, মুগদা, মান্ডা এলাকার রোগী ভর্তি আসত। এখন সারা শহর থেকেই ভর্তি হচ্ছে। ঢাকার বাইরে থেকেও রোগী আসছে। সবাইকে শয্যা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কারণ ডাক্তার ও নার্সের সংকট রয়েছে।

এছাড়া সরেজমিন দেখা যায়, ঈদের পর থেকে পুরান ঢাকার স্যার সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও ডেঙ্গু রোগী বাড়ছে। মঙ্গলবারও ৯৮ জন ডেঙ্গু রোগী চিকিৎসাধীন দেখা গেছে। এসব রোগী কেরানীগঞ্জ ও আশপাশের এলাকা থেকে এসেছে। হাসপাতালটির পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল কাজী রাশীদ-উন-নবী যুগান্তরকে বলেন, বৃষ্টির মৌসুম শুরুর পর থেকে রোগী বাড়তে শুরু করছে। সব ডেঙ্গু রোগীকে মশারি সরবরাহ করা হচ্ছে। গত এক মাসে হাসপাতাল থেকে অন্তত হাজারো রোগী সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছেন।

messenger sharing button
whatsapp sharing button
twitter sharing button