বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৪, ৩ শ্রাবণ, ১৪৩১, ১১ মহর্‌রম, ১৪৪৬

নদীর পাড় থেকে অবৈধ ড্রেজিং করে বালু দেয়া হচ্ছে সরকারি ব্রীজের কাজে

দীর্ঘদিন ধরে জাজিরার পূর্ব নাওডোবা ইউনিয়নের চৌকিদার কান্দি এলাকার কাজীর হাট মাঝিরঘাট মহাসড়কের পাশে নদীতে খননযন্ত্র (ড্রেজার) দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করে সরকারি ব্রীজ নির্মাণের কাজে ব্যবহার করার পাশাপাশি আশেপাশে বিভিন্ন জায়গায় বালু বিক্রি করে যাচ্ছে বালুখেকো একটি অসাধু চক্র। এতে নদীর তীরবর্তী ফসলি জমি নদীতে বিলীন হয়ে যাওয়ার হুমকিতে রয়েছে।

এছাড়া এই অবৈধ ড্রেজিংয়ের পাইপ নেওয়া হয়েছে মহাসড়কের নিজ দিয়ে ছিদ্র করে। এভাবে বালু তোলায় নদীর আয়তন বড় হয়ে যাচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, নদী থেকে বা বালুমহল থেকে বালু তোলার জন্য সরকারিভাবে কাউকে অনুমতি দেওয়া হয়নি। তবে বালু উত্তোলন কাজে নিয়োজিত কর্মীরা ড্রেজারটি সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ওমর ফারুক পাংকুর অধীনে নির্মানাধীন ব্রীজের কাজের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে বলে জানায়।

খননযন্ত্র দিয়ে বালু উত্তোলনের বিষয়ে স্থানীয় এলাকাবাসীদেরকে জিজ্ঞেস করা হলে তাঁরা জানান, প্রায় এক বছরের বেশি সময় ধরে ব্রীজের ঠিকাদার একজন সাবেক ছাত্রলীগ নেতার নাম ভাঙ্গিয়ে ওই নদীতে  উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন খননযন্ত্রটি দিয়ে অবৈধভাবে বালু তোলা হচ্ছে। ড্রেজারটির মালিক নাসির মৃধাকে কিছু বললেই ছাত্রলীগ নেতা ওমর ফারুক পাংকুর কথা বলে হুমকি দিয়ে বলে এই বালু সরকারি ব্রীজে দেওয়া হচ্ছে।

অবৈধভাবে ড্রেজিং করা উক্ত খনন যন্ত্রটির মালিক স্থানীয় ড্রেজার ব্যবসায়ী নাসির মৃধার কাছে অবৈধ ড্রেজিংয়ের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, এই ড্রেজার মেশিনটি আমার এটা সত্য কথা। তবে আমার কাছ থেকে ভাড়া নিয়েছেন ছাত্রলীগ নেতা ওমর ফারুক পাংকু। আমি ভাড়া দিয়েছি তাই, এই ড্রেজারের বিষয়ে আমি কিছুই বলতে পারবোনা। এটির সম্পূর্ণ দায়দায়িত্ব ব্রীজের ঠিকাদার ওমর ফারুক পাংকুর।

তবে এ বিষয়ে সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এবং কাজীরহাট – মাঝীরঘাট মহাসড়কের চৌকিদার কান্দি এলাকায় শরীয়তপুর সড়ক ও জনপদ বিভাগের নির্মানাধীন ব্রীজটির ঠিকাদার ওমর ফারুক পাংকু এই ড্রেজারটি চালাননা বলে প্রথমে জানালেও পরে ভাই – ব্রাদার হিসেবে কোন ঝামেলা না করার জন্য বলেন। এছাড়া বিষয়টি নিয়ে পরবর্তীতে তিনি প্রতিবেদকের সাথে যোগাযোগ করবেন বলেও মুঠোফোনে জানান।

এ বিষয়ে জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো: কামরুল হাসান সোহেল জানান, আমাদের পক্ষ থেকে এভাবে ড্রেজার মেশিন দিয়ে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কোন অনুমতি দেওয়ার সুযোগ নেই। সুতরাং এখানে বালু উত্তোলনের জন্য কোন ধরনের অনুমতি নেয়া হয়নি। এছাড়া খোঁজ নিয়ে উক্ত অবৈধ ড্রেজিংয়ের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন বলেও তিনি জানান।