বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ১৫ ফাল্গুন, ১৪৩০, ১৭ শাবান, ১৪৪৫

পানি খাওয়াকে কেন্দ্র কওে শরীয়তপুরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ, আহত ১০ জন

 

পানি খাওয়াকে কেন্দ্র করে শরীয়তপুরের সদর উপজেলায় দুই পক্ষের সংঘর্ষে ১০ জন আহত হয়েছেন। আহতদের শরীয়তপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
বুধবার রাত ৯টার দিকে শরীয়তপুর সদর উপজেলার চিতলিয়া ইউনিয়নের কাশিপুর হিন্দু পাড়ার শীল বাড়ির সামনে এ ঘটনা ঘটে।
স্থানীয় জামাল মল্লিক ও বিভিন্ন সুত্রে জানা যায়, প্রায় তিন সপ্তাহ আগে চিতলিয়া ইউনিয়নের কাশিম বাজারের কাছে খোকন শীলের দোকানে গোপাল শীলের ৯ বছরের ছেলে বাধন শীল পানি খেতে যায়। তখন খোকন শীল বাধনের দিকে একটি ঝাড়ু ছুড়ে মারেন। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঐ রাতে প্রথম দফায় হাতাহাতি হলে স্থানীয় চেয়ারম্যান বিষয়টি মীমাংসা করে দেন। পানি খাওয়ার পুরোনো সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দু পক্ষের মধ্যেই উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনার জের ধরে গতকাল বুধবার রাতে পুনরায় সংঘর্ষ বাঁধলে উভয়পক্ষের ১০ জন আহত হয়েছেন। এর মধ্যে ৮ জন অবস্থা গুরুতর হওয়ায় তাদেরকে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। বাকিরা প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে বাড়ি ফিরে গেছেন।
স্থানীয় মনিকা শীল বলেন, কিছুদিন আগে বাঁধন নামে ছোট্ট একটি ছেলে দোকানে পানি খেতে খেলে দোকানদার খোকন শীল বাচ্চাটাকে বকাবকি করে পানি না দিয়ে ঝাড়ু ছুড়ে মারলে বিষয়টি বিবাদে রূপ নেয়। প্রথম দফায় চেয়ারম্যান মীমাংসা করে দিলেও বুধবার রাতে আবার সংঘর্ষ হয়েছে।
হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কৃষ্ণ শীল বলেন, আমার ভাতিজা বাঁধনকে ঝাড়ু পেটা করার ঘটনায় প্রথমে হাতাহাতি হলে বিষয়টি মীমাংসা হয়। সেই ঘটনার জের ধরে গতকাল রাতে খড়ের আড়ালে নীরঞ্জন, খোকন, সঞ্জয়, সুনীল, লিটন, তনয়, কালাচানসহ প্রায় ২০/২৫ জন রামদা, হকি স্টিকসহ দেশীয় অস্ত্র সন্ত্র নিয়ে অবস্থান নেয়। আমি ওই রাস্তা দিয়ে যাওয়ার সময় আমার ওপর হামলা করে। আমি চিৎকার করলে আমার ভাই আসে, তার ওপরও হামলা করে। এভাবে যারা আসছে তাদের ওপরই হামলা করেছে। আমি ঘটনার সুষ্ঠু বিচার চাই।
অপর পক্ষের আহত তনয় শীল বলেন, কৃষ্ণ, গোপালসহ অন্যরা আমাদের ওপর হামলা করেছে। এর বেশি কিছু বলতে পারব না আমি।
চিতলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আব্দুস সালাম হাওলাদার বলেন, একটি বাচ্চা খোকনের দোকানে পানি খেতে গেলে শত্রুতা শুরু হয়। আমি বিষয়টি মীমাংসা করে দিয়েছিলাম। হঠাৎ করে গতকাল রাতে সেই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মারামারি হয়েছে। দুই পক্ষের লোকজনই আহত হয়েছেন। তারা হাসপাতালে চিকিৎসার জন্য ভর্তি হয়েছেন।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আক্তার হোসেন বলেন, কাশিপুরের দুই পক্ষের মারামারি পুলিশ নিয়ন্ত্রণে এনেছে। পরিস্থিতি এখন স্বাভাবিক। অভিযোগের পেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।