বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১, ৬ জিলহজ, ১৪৪৫

মোটরসাইকেল কিনতে স্কুলছাত্র হৃদয়কে অপহরণ করে ভাড়াটে সিয়াম, পরে হত্যা

 

শরীয়তপুর জেলা শহরের শিশুকানন কিন্ডারগার্টেন স্কুলের পঞ্চম শ্রেণির ছাত্র হৃদয় খান ওরফে নিবিড় হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন তিন আসামি। আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে তাঁরা বলেছেন, মোটরসাইকেল কেনার টাকা জোগাতে হৃদয়কে অপহরণ করে মুক্তিপণ দাবির পরিকল্পনা করেন সিয়াম। সহযোগীদের নিয়ে অপহরণ করার পর হৃদয় চিৎকার-চেঁচামেচি করলে তাকে বালিশচাপায় হত্যা করা হয়।

জবানবন্দি দেওয়া তিন আসামি হলেন সিয়াম (২০), শাকিল গাজি (১৮) ও ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর। ওই ঘটনায় গ্রেপ্তার শাওন চৌকিদার (২০) এখনো স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেননি। আসামিদের মধ্যে তিনজনকে শরীয়তপুর জেলা কারাগারে ও একজন কিশোর হওয়ায় তাকে গাজীপুরের কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হয়েছে।

শরীয়তপুর সদর উপজেলার ডোমসার ইউনিয়নের খিলগাঁও এলাকার মালয়েশিয়াপ্রবাসী মনির খানের ছেলে হৃদয় খান ওরফে নিবিড়কে (১১) গত সোমবার (৩১ জুলাই) অপহরণ করা হয়। এরপর তাকে হত্যা করে মাটিচাপা দেয় দুর্বৃত্তরা। তারপর তার মায়ের মুঠোফোনে কল করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়। পুলিশ তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে চারজনকে আটক করে। তাঁদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত মঙ্গলবার (১ আগস্ট) ভোরে খিলগাঁও এলাকার একটি ইটভাটার পাশের একটি নির্জন স্থান থেকে ওই শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা (আইও) শরীয়তপুর সদরের পালং মডেল থানার পরিদর্শক শরীফুল ইসলাম বলেন, হৃদয় খান হত্যাকাণ্ডে জড়িত আসামিদের গ্রেপ্তারের পর রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। সিয়ামকে রিমান্ডে নেওয়ার আগেই বৃহস্পতিবার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মেজবা উদ্দিন খানের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তিনি হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেন। এরপর রিমান্ডে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করার পর রোববার শাকিল গাজি ও ১৫ বছর বয়সী এক কিশোর জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রুমানা আক্তারের আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

জবানবন্দির বরাত দিয়ে পুলিশ পরিদর্শক শরীফুল ইসলাম বলেন, হৃদয়দের বাড়িতে আট বছর ধরে ভাড়া থাকতেন সিয়াম। এ সুবাদে সিয়ামের সঙ্গে হৃদয়ের সখ্য গড়ে ওঠে। সিয়াম বালু-মাটি পরিবহনের একটি ড্রাম ট্রাক চালান। হৃদয় ওই ট্রাকে উঠে ঘুরতে পছন্দ করত। হৃদয়কে নিয়ে সিয়াম, তাঁর সহযোগী শাকিল গাজী ও ওই কিশোর প্রায়ই বিভিন্ন স্থানে ঘুরতে যেত।

জবানবন্দিতে আসামিরা বলেছেন, সিয়াম একটি মোটরসাইকেল কেনার পরিকল্পনা করে। কিন্তু তাঁর কাছে টাকা নেই। বিষয়টি নিয়ে সিয়াম তাঁর সহযোগীদের সঙ্গে আলাপ করেন। তখন তাঁরা পরিকল্পনা করেন, হৃদয়কে আটকে রেখে জিম্মি করে তার পরিবারের কাছ থেকে টাকা আদায় করবেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী গত সোমবার (৩১ জুলাই) বিকেলে হৃদয়কে ঘুরতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলে ট্রাকে উঠিয়ে নেন সিয়াম। একপর্যায়ে তাকে কীর্তিনাশা নদীর তীরে নিয়ে যান। এরপর সহযোগী শাকিল ও ওই কিশোরকে ডেকে আনেন সিয়াম। এরপর ট্রাকটি একটি নির্জন স্থানে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে হৃদয়কে আটক করার চেষ্টা করলে সে চিৎকার-চেঁচামেচি করে। তখন তাঁরা হৃদয়ের মুখে বালিশচাপা দিয়ে হত্যা করেন। এরপর ট্রাক থেকে লাশটি নামিয়ে সেখানকার একটি ইটভাটার পাশের নির্জন স্থানে মাটিচাপা দেওয়া হয়। তারপর সন্ধ্যা সাতটার দিকে হৃদয়ের মা নিপা আক্তারের মুঠোফোনে ফোন করে ছেলেকে অপহরণ করা হয়েছে জানিয়ে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ চাওয়া হয়।

পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আক্তার হোসেন বলেন, তিনজন আসামি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। তাঁরা বিচারকের কাছে হত্যাকাণ্ড ঘটানোর বিবরণ ও পরিকল্পনার লোমহর্ষক বর্ণনা দিয়েছেন। আরেক আসামি হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেননি। তাঁর বিষয়ে তদন্ত চলছে। প্রয়োজন হলে পুনরায় তাঁর রিমান্ড চেয়ে আদালতে আবেদন করা হবে।