বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১, ৬ জিলহজ, ১৪৪৫

শরীয়তপুরে ৩টি আসনে মনোয়নপ্রত্যাশী-৩৫ জন।

 

আগামী দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের বাকী আর মাত্র ৪ মাস। আর এ নির্বাচনকে ঘিরে শরীয়তপুরের ০৩ টি আসনে রাজনৈতিক দল গুলো এখন বেশ সক্রিয়। বিশেষ করে আওয়ামীলীগের বর্তমান ও সাবেক সংসদ সদস্যসহ বেশ কিছু নতুন মুখ এরই মধ্যে জেলার বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ শুরু করে দিয়েছেন। কে কি উন্নয়ন করেছে তা প্রচার শুরু করে দিয়েছেন। পাশাপাশি সম্ভ্যাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশিরা গণসংযোগ ও সোস্যাল মিডিয়ার তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে। আর এ সকল আসন গুলোতে ক্ষমতাশীন আওয়ামীলীগ, বি এন পি, জাতীয় পাটিসহ বিভিন্ন দল থেকে অন্তত ৩৫ জন প্রতিদ্বন্ধীতা করার প্রত্যয় ব্যক্ত করেছেন। সম্ভাব্য মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে আওয়ামীলীগের নেতা কর্মীর সংখ্যা সবচেয়ে বেশী। এ সখ্যায় অন্তত ২০ জনের নাম শোনা যাচ্ছে। পক্ষান্তরে বিএনপির নেতা কর্মীরা রয়েছে নিরব অবস্থানে। দু একটা জাতীয় কর্মসুচী পালন করে জেলা বি এনপির সাধারন সম্পাদকের বাসভবনে। ফেইসবুক কাভারেজে নেতারা তুষ্ট হলেও সাধারন নেতা কর্মীরা চরম ভাবে ক্ষুব্ধ। যদিও আওয়ামীলীগ ও বিএনপির মদ্যে রয়েছে চরম কোন্দল। তবে প্রত্যেকেই নিজ নিজ নির্বাচনী এলাকায নিয়মিত গণসংযোগ করছেন। ক্ষমতাসীন আওয়মীলীগ লীগ থেকে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা ওয়ার্ডে ওয়াডে গিয়ে উন্নয়নের ফিরিস্তি তুলে ধরছেন।

শরীয়তপুর ০১ আসনে ঃ জেলা সদর তথা (পালং ও জাজিরা) উপজেলা নিয়ে গঠিত শরীয়তপুর-১ আসনটি। শরীয়তপুর সদর উপজেলার ১১টি ইউনিয়ন ১টি পৌরসভা এবং জাজিরা উপজেলার ১২টি ইউনিয়ন ও ১টি পৌরসভা রয়েছে এ আসনে। স্বাধীনতার পর থেকে বেশীরভাগ সময় আওয়ামীলীগের দখলেই ছিল এ আসনটি। ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের আমিনুল ইসলাম দানেশ, ৭৯ সালে দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি থেকে সরদার একেএম নাসির উদ্দিন কালু, ৮৬ সালে তৃতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির নাসির উদ্দিন কালু, ৮৮ সালে ৪র্থ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির নাসির উদ্দিন কালু, ৯১ সালে ৫ম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ থেকে কে,এম হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গজেব, ৯৬ সালে ১৫ ফেব্রæয়ারী অনুষ্ঠিত ৬ষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে (প্রহসনের নির্বাচন) স্থগিত থাকে, ৯৬ সালের ১২ জুন ৭ম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক (আব্দুর রাজ্জাক দুটি আসন থেকে নির্বাচিত হওয়ায় এই আসনটি ছেড়ে দিলে একই বছর- উপনির্বাচনে মাষ্টার মজিবুর রহমান), ২০০১ সালে ৮ম সংসদ নির্বাচনে আ‘লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী হেমায়েত উল্লাহ আওরঙ্গজেব, ২০০৮ সালে ৯ম নির্বাচনে আওয়ামীলীগের বি,এম মোজাম্মেল হক এবং ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও আ‘লীগের টিকিটে দ্বিতীয় বারের মত বি, এম মোজাম্মেল হক এবং একাদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগরে কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইকবাল হোসেন অপু নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।

শরীয়তপুর ০১ আসনে মনোনয়ন প্রত্যাশীরা হলেন , বর্তমান সংসদ সদস্য ও আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য ইকবাল হোসেন অপু, সাবেক সংসদ সদস্য বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক বি,এম মোজাম্মেল হক, সাবেক দলীয় সংসদ সদস্য মাষ্টার মুজিবর রহমান, জাজিরা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মোবারক আলী শিকদার, বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক আই জি পি একে এম শহীদুল হক , যদিও সাবেক আই জিপির বাড়ি শরীয়তপুর -০২ আসনের নড়িয়া উপজেলায়। শরীয়তপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল ও বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছা সেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল আলীম বেপারী। এদিকে সরকারের শরীক দল জাসদ ও জাতীয় পার্টি থেকে কে প্রার্থী হবেন তা এখনও নাম শুনা যায়নি। তবে ইসলামী শাসনতন্ত্র আন্দোলন নির্বাচনে অংশগ্রহন করবে বলে জানা গেছে।
বিএনপি থেকে মাত্র একজন প্রার্থীকেই সম্ভাব্য বলে মনে করছেন দলীয় জ্যেষ্ঠ নেতারা। তিনি হলেন, জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক তিন বার নির্বাচিত এমপি সরদার একেএম নাসির উদ্দিন কালু।

শরীয়তপুর -০২ আসনের : জেলার উত্তর ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত এ আসনটি নড়িয়া উপজেলা ও ভেদরগঞ্জ উপজেলার সখিপুর থানা নিয়ে গঠিত। এ আসনে নড়িয়া উপজেলার ১৪টি ইউনিয়ন, ১টি পৌরসভা এবং সখিপুর থানার ৯টি ইউনিয়ন রয়েছে।

১৯৭৩ সালে দেশের প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের নুরুল হক হাওলাদার এ আসন থেকে সাংসদ নির্বাচিত হন। তিনি নির্বাচিত হওয়ার কিছুদিন পরেই নিজ বাড়িতে আততায়ীর গুলিতে নিহত হন। এরপর একই বছর উপ-নির্বাচনে এই আসনে আ‘লীগের প্রাক্তন এমএনএ ডাক্তার আবুল কাশেম নির্বাচিত হন। ৭৯ সালে দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর সাথে আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম অভিযুক্ত আ‘লীগের কর্নেল (অব.) শওকত আলী, ৮৬ সালে তৃতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির টিএম গিয়াস উদ্দিন আহমেদ, ৮৮ সালে ৪র্থ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির টি এম গিয়াস, ৯১ সালে ৫ম সংসদ নির্বাচনে আ‘লীগের কর্নেল শওকত আলী, ৯৬ সালে ১৫ ফেব্রæয়ারী অনুষ্ঠিত ৬ষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে (প্রহসনের নির্বাচন) বিএনপি‘র ডাক্তার কে.এ জলিল, ৯৬ সালের ১২ জুন ৭ম সংসদ নির্বাচনে আ‘লীগের কর্নেল শওকত আলী, ২০০১ সালে ৮ম সংসদ নির্বাচনে আ‘লীগের শওকত আলী, ২০০৮ সালে ৯ম নির্বাচনে শওকত আলী এবং ২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারী ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও পূনরায় আ‘লীগ থেকে কর্নেল শওকত আলী নির্বাচিত হন এবং ২০১৮ সালে একাদ্বশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে এ,কে,এম এনামুল হক শামীম নির্বাচিত হয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছেন।
শরীয়তপুর ০২ আসনে ( নড়িয়া-শখিপুর) এ আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীেেদর রয়েছেন। তারা হচ্ছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক, ছাত্রলীগের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি, বর্তমান সাংসদ ও পানি সম্পদ মন্ত্রনালয়ের উপমন্ত্রী এ,কে,এম এনামুল হক শামীম, সাবেক ডেপুটি স্পীকার কর্ণেল (অব:) শওকত আলীর পুত্র যুবলীগের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ডাক্তার খালেদ শওকত আলী, আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর, নড়িয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও নড়িয়া কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ সুলতান মাহমুদ সিমন। পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) এ,কে,এম শহিদুল হক, সাবেক শরীয়তপুর সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য এ্যাডভোকেট নাভানা আক্তার, শরীয়তপুর জেলা আওয়ামীরীগের যুগ্ন সাধারন সম্পাদক নড়িয়া উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একে এম ইসমাইল হক।
অপর দিকে বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক এমপি শফিকুর রহমান কিরণ, বিএনপি‘র জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য জামাল শরীফ হিরু ও বিএনপি নেতা কর্ণেল (অবঃ) এস এম ফয়সাল আহমেদ। এ আসনটি বরাবরই আওয়ামীলীগের আসন হিসেবে পরিচিত। আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীরা দাবী করেন নৌকা প্রতীক যে পাবেন তিনি নির্বাচিত হবেন। বৃহত্তর দুইটি দল ও জোটের বাইরে অন্য কোন দল বা জোটের সাংগঠনিক ভিত্তি এ আসনে লক্ষনীয় নয়।
শরীয়তপুর-০৩ আসনটি জেলার সর্ব দক্ষিনে অবস্থিত এ আসনটি ভেদরগঞ্জ উপজেলার একাংশ, ডামুড্যা ও গোসাইরহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত। এ আসনে রয়েছে ভেদরগঞ্জ উপজেলার ৪টি ইউনিয়ন, ১টি পৌরসভা, ডামুড্যা উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন, ১টি পৌরসভা এবং গোসাইরহাট উপজেলার ৮টি ইউনিয়ন ও একটি প্রস্তাবিত পৌরসভা।

২০০৮ সালের নির্বাচনের পূর্বে এটিই ছিল জেলার সর্ব বৃহৎ নির্বাচনী এলাকা। ১/১১ এর তত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে ভেদরগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চল খ্যাত ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত সখিপুর থানাকে শরীয়তপুর-৩ আসন থেকে কেটে নিয়ে ২ আসনের সাথে যুক্ত করা হয়। স্বাধীনতার পর থেকে বেশীরভাগ সময় আওয়ামীলীগের দখলেই ছিল এ আসনটি। ১৯৭৩ সালে প্রথম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের আবিদুর রেজা খান, ৭৯ সালে দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে মুসলিম লীগের ইব্রাহীম খলিল ওরফে নওয়াব বালা, ৮৬ সালে তৃতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির ইঞ্জিনিয়ার ফারুখ আলম, ৮৮ সালে ৪র্থ নির্বাচনে জাতীয় পার্টির এম,এ রেজা, ৯১ সালে ৫ম সংসদ নির্বাচনে তৎকালিন বাকশাল সম্পাদক (আওয়ামীলীগ প্রার্থী হিসেবে) আব্দুর রাজ্জাক, ৯৬ সালে ১৫ ফেব্রæয়ারী অনুষ্ঠিত ৬ষ্ঠ সংসদ নির্বাচনে (এক তরফা) বিএনপি প্রার্থী শফিকুর রহমান কিরণ, ৯৬ সালের ১২ জুন ৭ম সংসদ নির্বাচনে আওয়ামীলীগের সভাপতি মন্ডলীর সদস্য আব্দুর রাজ্জাক, ২০০১ সালে ৮ম সংসদ নির্বাচনে আ‘লীগের আব্দুর রাজ্জাক, ২০০৮ সালে ৯ম নির্বাচনে আবার আব্দুর রাজ্জাক নির্বাচিত হন। ২০১১ সালের ২৩ ডিসেম্বর আব্দুর রাজ্জাকের মৃত্যুর পর আসনটি শুন্য ঘোষনা করা হয়। ২০১২ সালের মার্চে শূন্য আসনে উপ-নির্বাচনে রাজ্জাক তনয় নাহিম রাজ্জাক বিনা প্রতিদ্ব›দ্বীতায় নির্বাচিত হন এবং ২০১৪ সালের ১০ম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে প্রয়াত জাতীয় নেতা আব্দুর রাজ্জাকের জ্যেষ্ঠ পূত্র নাহিম রাজ্জাক আ‘লীগের টিকিটে দ্বিতীয় বারের মত বিনা প্রতিদ্ব›দ্বীতায় নির্বাচিত হন। একাদ্বশ জাতীয় সংসদেও দলীয় টিকিটে বিজয়ী হয়ে দায়িত্ব পালন করে আসছেন নাহিম রাজ্জাক।

শরীয়তপুর ০৩ আসনে ( ভেদরগঞ্জ-ডামুড্যা-গোসাইরহাট) এ আসনে আওয়ামীলীগের মনোনয়ন প্রত্যাশীদের মধ্যে রয়েছে , বর্তমান সাংসদ নাহিম রাজ্জাক, সংরক্ষিত আসনের এমপি পারভিন হক শিকদার ও আ‘লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির উপ-প্রচার ও প্রকাশনা বিষয়ক সম্পাদক সৈয়দ আব্দুল আউয়াল শামীম ও সাবেক বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি বাহাদুর বেপারী । বিএনপি থেকেও মনোনয়ন প্রত্যাশী দুইজনের নাম জানা গেছে। তারা হলেন, একাদ্বশ জাতীয় নির্বাচনে মনোনীত প্রার্থী তারেক জিয়ার একান্ত সচিব খ্যাত মিয়া নুর উদ্দিন অপু এবং জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ আহমেদ আসলাম