মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৪, ১০ বৈশাখ, ১৪৩১, ১৩ শাওয়াল, ১৪৪৫

জলাবদ্ধতায় চট্টগ্রাম নগরীর ৫০ কিমি. সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত মেরামতে লাগবে ৬০ কোটি টাকা

 

ভারি বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে চট্টগ্রাম নগরীর রাস্তাঘাট। প্রধান সড়ক থেকে শুরু করে অলিগলির চলাচলের পথ-কোনোটাই বাদ যায়নি। অনেক স্থানে নষ্ট হয়ে গেছে পিচ। কালো আস্তর উঠে গিয়ে উঁকি দিচ্ছে ইট ও পাথরের টুকরো। এছাড়া ছোট-বড় গর্তে ভরে গেছে প্রায় প্রতিটি সড়ক। ক্ষতিগ্রস্ত অনেক সড়ক দিয়ে যানবাহন চলাচল হয়ে উঠেছে ঝুঁকিপূর্ণ।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) সূত্র জানায়, পাঁচ দিনের টানা বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে নগরীর ১৩০০ কিলোমিটার সড়কের মধ্যে অন্তত ৫০ কিলোমিটার নষ্ট হয়েছে। এছাড়া ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে দুই কিলোমিটার ফুটপাত ও দুই কিলোমিটার ড্রেন। এসব সড়ক, ফুটপাত ও ড্রেন মেরামতে ব্যয় হবে অন্তত ৬০ কোটি টাকা। ভারি বর্ষণ ও জোয়ারের পানিতে প্লাবিত হয়েছিল চট্টগ্রাম নগরীর অধিকাংশ নিচু এলাকা।

বিশেষ করে বহদ্দারহাট, মোহরা, শুলকবহর, মোহাম্মদপুর, কাতালগঞ্জ, চকবাজার, বাদুরতলা, বাকলিয়া মিয়াখান নগর, ডিসি রোড, ষোলশহর, আগ্রাবাদ কমার্স কলেজসংলগ্ন এলাকা, আগ্রাবাদ সিডিএ আবাসিক এলাকা, হালিশহর, পতেঙ্গা, গোসাইলডাঙ্গাসহ অনেক এলাকার মানুষ তিন থেকে পাঁচ দিন পর্যন্ত ছিলেন পানিবন্দি। বৃষ্টি ও জোয়ারের পানি ঢোকে বাসা-বাড়ি, স্কুল-কলেজ, ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালে। অনেক এলাকায় খাল-নালা উপচে সড়ক দিয়ে পানি প্রবাহিত হতে দেখা যায়। বুধবার পর্যন্ত ছিল এই জলাবদ্ধতা। পানি নেমে যাওয়ার পর দৃশ্যমান হতে থাকে রাস্তা-ঘাটের ক্ষত।

চসিকের প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘কয়েকদিনের বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে নগরীর ৪১টি ওয়ার্ডের মধ্যে ২০টিতেই পানি উঠেছে। বিশেষ করে পতেঙ্গা, বাকলিয়া ও বহদ্দারহাটের দিকের ওয়ার্ডগুলোতে পানি উঠেছে বেশি। বৃষ্টিতে আমাদের বিভিন্ন সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। কোথাও কোথাও রাস্তায় সৃষ্টি হয়েছে গর্ত, যা মেরামতে কমপক্ষে ৬০ কোটি টাকা লাগবে। মুরাদপুর-অক্সিজেন সড়ক ও আগ্রাবাদ এলাকার সড়কগুলো তুলনামূলক বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিকভাবে আমরা নিজস্ব তহবিল থেকে সড়ক মেরামত কাজ শুরু করেছি। ইট-খোয়া দিয়ে গর্তগুলো ভারট করা হচ্ছে। যেখানে প্রয়োজন হচ্ছে, সেখানে দেওয়া হচ্ছে বিটুমিনও।’

নগরীর আতুরার ডিপো এলাকার একাধিক বাসিন্দা জানান, মুরাদপুর অক্সিজেন সড়কটি ওয়াসার খোঁড়াখুঁড়ির কারণে আগে থেকেই গর্ত ও খানাখন্দে ভর্তি ছিল। গত কয়েকদিনের বৃষ্টিতে আরও গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় সড়কটি দিয়ে যানবাহন চলাচল এখন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এদিকে হালিশহর নয়াবাজার রোড, সবুজবাগ রোড, আগ্রাবাদ শেখ মুজিব রোড, বহদ্দারহাট মোড়েও রাস্তা নষ্ট হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহণ শ্রমিক ফেডারেশন চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কমিটির সভাপতি মোহাম্মদ মুছা  বলেন, ‘বহদ্দারহাট কাঁচা বাজারের সামনের অংশসহ কয়েকটি সড়কে খানাখন্দ সৃষ্টি হয়েছে। এ ধরনের রাস্তায় গাড়ি চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ। চালকদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখতে কষ্ট হয়। অনেক সময় হঠাৎ ব্রেক কষতে হয়। তখন দুর্ঘটনার আশঙ্কা থাকে। অপরদিকে এবড়ো-খেবড়ো সড়কে প্রচণ্ড ঝাঁকুনির কারণে গাড়ির স্প্রিং, ব্রেকসহ ইঞ্জিনের গুরুত্বপূর্ণ যন্ত্রাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। পিচের ওপরে বের হয়ে থাকা পাথর ও ইটের সরু অংশে লেগে নষ্ট হতে পারে টায়ার। কমে যেতে পারে গাড়ির লাইফ টাইম।’

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের (চসিক) মেয়র মো. রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, নগরীর যোগাযোগ ব্যবস্থা স্বাভাবিক করতে কাউন্সিলর ও চসিকের কর্মীদের সমন্বয়ে কাজ চলছে। তিনি বলেন, পিচঢালা রাস্তার সবচেয়ে বড় শত্রু জমে থাকা পানি। প্রবল বর্ষণে নগরীর প্রচুর রাস্তার ক্ষতি হয়েছে। ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত রাস্তার জরিপ সম্পন্ন করে বুধবার থেকে ১ মাসের মধ্যে পরিস্থিতি স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরাতে সড়ক সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। শিগগিরই আমরা চট্টগ্রামের অন্যান্য সরকারি সংস্থার সঙ্গে বসে নগরীর জলাবদ্ধতার স্থায়ী সমাধানে করণীয় নির্ধারণ করব।