বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ১৫ ফাল্গুন, ১৪৩০, ১৭ শাবান, ১৪৪৫

তিন অডিট কর্মকর্তাকে আপ্যায়নের জন্য ৬৯হাজার টাকা চাঁদা উত্তোলনের অভিযোগ শিক্ষা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে

 

তিন অডিট কর্মকর্তাকে আপ্যায়নের জন্য প্রতিটি প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে ১ হাজার করে ৬৯ হাজার টাকা চাঁদা উত্তোলনের অভিযোগ ওঠেছে শরীয়তপুরে ডামুড্যা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ জালাল উদ্দিনের বিরুদ্ধে। বিষয়টি জানাজানি হলে শিকক্ষদের কিছু টাকা ফেরত দিয়ে বাকি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ ওঠেছে ওই কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। এ নিয়ে শরীয়তপুরের ডামুড্যা উপজেলা প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের মধ্যে চাপা ক্ষোভ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, শরীয়তপুরে জাজিরা ও ডামুড্যা উপজেলার প্রাথমিক শিক্ষা কার্যক্রমের অগ্রগতি দেখার জন্য ঢাকা শিক্ষা অধিদপ্তর থেকে হিসাব রক্ষক মনোহর চন্দ্র, শিক্ষা অফিসার জাহিদা সিদ্দিকী ও সহকারী শিক্ষা অফিসার মোঃ মিজানুর রহমান সোমবার অডিটে আসেন। এ অডিটকে কেন্দ্র করে ডামুড্যা উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ জালাল উদ্দিন ওই তিন অডিট কর্মকর্তাকে আপ্যায়নের জন্য উপজেলার ৬৯টি বিদ্যালয় থেকে ১ হাজার টাকা করে চাঁদা উত্তোলন করেন। সোমবার বিকালে সাংবাদিকরা শিক্ষা কর্মকর্তা জালাল উদ্দিনের অফিসে গিয়ে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি তড়িগড়ি করে অফিস থেকে পালিয়ে যান।
নাম না প্রকাশ করার সত্যে কয়েকজন প্রধান শিক্ষক অভিযোগ করে বলেন, উপজেলা শিক্ষা অফিসার জোর করে বিভিন্ন ইস্যুতে টাকা উত্তোলন করেন। অডিট আসবে সে কথা বলে আমাদের কাছ থেকে এক হাজার করে টাকা নিয়েছে, আবার কি কারণে ফেরত দিয়েছে সেটা আমরা জানি না।
২৯ নং কেউর ভাংগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক কাজি ফারুক আলম মুটোফোনে বলেন, অডিটের কথা বলে এক হাজার করে টাকা নিয়েছিলো, আবার সেই টাকা ফেরত দিয়েছে। কেন ফেরত দিয়েছে সেটা আমি জানি না।
ডামুড্যা উপজেলার শিক্ষক সমিতির সভাপতি হারুন-অর-রশিদ জানান, তিনি উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে জানতে পেরেছেন অডিট টিমের জন্য টাকা উত্তোলন করেছিলো, তারা টাকা নিবে না, সেজন্য ফেরত দিয়েছে। তার সঙ্গে কথা বলে এতোটুকু জানতে পেরেছি, এর বেশি কিছু জানি না। তবে এটা ভাল জানে প্রধান শিক্ষকরা।
এ বিষয়ে উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোঃ জালাল উদ্দিন সাংবাদিকদের বলেন, আপনারা বসেন। আমি একটু পরে আপনাদের সাথে কথা বলব। এরপর কৌশলে তিনি অফিস থেকে পালিয়ে যান।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাছিবা খান জানান, এ বিষয়ে আমি কিছু জানি না, কেউ লিখিত অফিযোগ করলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।
শরীয়তপুর জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা এরশাদ উদ্দিন আহম্মেদ বলেন, ঘটনাটা আমি শুনেছি। ডামুড্যা উপজেলা চেয়ারম্যানসহ বিভিণœ জায়গায় কথা বলেছি। ঘটনাটি মিথ্যা ও বানোয়াট।