সোমবার, ১৫ জুলাই, ২০২৪, ৩১ আষাঢ়, ১৪৩১, ৮ মহর্‌রম, ১৪৪৬

এইচএসসি পরীক্ষায়, ভুল প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছে জানা গেল ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট পর, হতাশ ৪২ পরীক্ষার্থী

 

শরীয়তপুরে একটি কেন্দ্রে ভুল প্রশ্নপত্রে এইচএসসি পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ের পরীক্ষার সময় গতকাল মঙ্গলবার এ ঘটনা ঘটেছে শরীয়তপুর সদর উপজেলার ডোমসার জগৎচন্দ্র ইনস্টিটিউশন অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে। ২ ঘণ্টা ৩০ মিনিটের মধ্যে ১ ঘণ্টা ২০ মিনিটই ভুল প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা দেন ৪২ শিক্ষার্থী।
বিষয়টি ধরা পড়ার পর বাকি সময় সঠিক প্রশ্নে পরীক্ষা নেওয়া হয়। অর্ধেকের কম সময়ে সব প্রশ্নের উত্তর লিখতে না পারায় ফল খারাপ হওয়ার আশঙ্কায় হতাশা প্রকাশ করছেন পরীক্ষার্থীরা। ভুক্তভোগীরা নড়িয়া উপজেলার ডগ্রী ইসমাইল হোসেন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থী। প্রাথমিকভাবে এ ঘটনায় জড়িত দুই শিক্ষককে পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
শরীয়তপুর জেলা প্রশাসন সূত্র জানা যায়, চলতি এইচএসসি পরীক্ষায় গতকাল মঙ্গলবার রসায়ন, ইতিহাস (প্রথম পত্র), ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি (প্রথম পত্র), ব্যবস্থাপনা ও বিপণন (প্রথম পত্র), গৃহ ব্যবস্থাপনা ও পারিবারিক জীবন (প্রথম পত্র) বিষয়ে পরীক্ষা ছিল। ডোমসার জগৎচন্দ্র ইনস্টিটিউশন অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রে ৪২ জন শিক্ষার্থীর ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিষয়ে পরীক্ষা ছিল। নৈর্ব্যক্তিক পরীক্ষা শেষে তাঁদের লিখিত পরীক্ষা শুরু হয়।
কেন্দ্র সূত্রে জানা যায়, প্রতিটি পরীক্ষার আগে উপজেলা প্রশাসন পরীক্ষার্থীদের জন্য দুই সেট প্রশ্ন পাঠায়। পরীক্ষা শুরু হওয়ার পাঁচ মিনিট আগে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) হল সুপারের মুঠোফোন খুদে বার্তা দিয়ে জানিয়ে দেন কোন সেটের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়া হবে। ওই খুদে বার্তায় দেওয়া সেট নম্বর অনুযায়ী শিক্ষকেরা পরীক্ষার্থীদেও মাঝে প্রশ্নপত্র সরবরাহ করেন।

মঙ্গলবার ইউএনওর খুদে বার্তা অনুযায়ী ২ নম্বর সেটের প্রশ্নপত্রে পরীক্ষা নেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ভুল করে ৪ নম্বর সেটের প্রশ্নপত্র শিক্ষার্থীদের সরবরাহ করা হয়। এ ভুলটি পরীক্ষা শুরু হওয়ার ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট পর শিক্ষকদের নজরে আসে। তখন পরীক্ষার্থীদের পুনরায় ৪ নম্বর সেটের প্রশ্নপত্র সরবরাহ করা হয় । ওই প্রশ্ন অনুযায়ী পরীক্ষা দিতে বলা হয়। ভুল প্রশ্নপত্র সরবরাহ করায় পরীক্ষার্থীদের ১ ঘণ্টা ২০ মিনিট সময় অপচয় হয়। কিন্তু পরে আর তা বাড়িয়ে দেওয়া হয়নি। এর ফলে অনেক শিক্ষার্থী ৭০ নম্বরের পুরো উত্তর লিখতে পারেননি। এমনকি ভুলের কথা কেন্দ্রের দায়িত্বে থাকা শিক্ষকেরা এড়িয়ে যান। বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন ও শিক্ষা বিভাগকেও জানানো হয়নি।
পরীক্ষা শেষে শিক্ষার্থীরা ঘটনাটি তাঁদের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের জানান। তখন ডগ্রী ইসমাইল হোসেন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষকেরা মঙ্গলবার সন্ধ্যায় শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসকের কাছে যান। ওই শিক্ষার্থীরা এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ দেন। বিষয়টি পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক ও শিক্ষা বোর্ডের কর্মকর্তাদের জানানো হয়েছে।
ভুক্তভোগী পরীক্ষার্থী জান্নাত আক্তার ও নিশি আক্তার জানান, সঠিক সেটে তাঁদের ১ ঘণ্টা ১০ মিনিটে পরীক্ষা নেওয়া হয়েছে। তাঁরা এ সংক্ষিপ্ত সময়ে সব প্রশ্নের উত্তর লিখতে পারেননি। এখন পরীক্ষার ফল খারাপ হলে এর দায় কে নেবে?
ডগ্রী ইসমাইল হোসেন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের প্রভাষক জি এম সামিউল ইসলাম বলেন, ‘এই ৪২ জন শিক্ষার্থীর ভালো রেজাল্ট পাওয়ার সম্ভাবনা তো নেই, উল্টো তাঁদের ফল খারাপ হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।’
তবে ডোমসার জগৎচন্দ্র ইনস্টিটিউশন অ্যান্ড কলেজ কেন্দ্রের হল সুপার মনিরুল ইসলাম বলেন, ভুল করে এমন ঘটনা ঘটেছে। তাঁরা বুঝতে পেরে সঠিক প্রশ্নের সেট সরবরাহ করেছেন। তবে পরীক্ষার্থীদের সময় বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল।

এ বিষয়ে ইউএনও জ্যোতি বিকাশ চন্দ্র সাংবাদিকদের বলেন, কেন্দ্র সচিব ও হল সুপারের ভুলে এ ঘটনাটি ঘটেছে। এমন একটি ভুলের কথা তাঁরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের জানাননি। আর এ ঘটনায় জড়িত শিক্ষক মনিরুল ইসলাম ও রতন চন্দ্র দাসকে পরীক্ষার দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।