সোমবার, ১৫ জুলাই, ২০২৪, ৩১ আষাঢ়, ১৪৩১, ৮ মহর্‌রম, ১৪৪৬

স্ত্রীর স্বীকৃতি দাবিতে মালিকের বাড়িতে শ্রমিকের অবস্থান

 

শরীয়তপুরে স্ত্রীর স্বীকৃতি দাবিতে দেলোয়ার ঢালী (৩২) নামে এক প্লাস্টিক কারখানার মালিকের বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন এক নারী শ্রমিক। গত বুধবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে সদর উপজেলার চিতলিয়া ইউনিয়নের ঝাঁউচর এলাকার দেলোয়ার ঢালীর বাড়িতে অবস্থান নিয়েছেন তিনি। শনিবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বিকেলে বিষয়টি স্থানীয়দের মধ্যে জানাজানি হয়।

দেলোয়ার ঢালী ওই এলাকার আলী আহম্মেদ ঢালীর বড় ছেলে। ঢাকার ইসলামবাগ এলাকায় তার একটি প্লাস্টিকের কারখানা রয়েছে। ওই নারী ময়মনসিংহ জেলার বাসিন্দা।

ওই নারী জানান, ২০২১ সালের জানুয়ারি মাসে তিনি কাজের সন্ধানে ঢাকা শহরের ইসলামবাগ এলাকায় আসলে এক আত্মীয়ের মাধ্যমে দেলোয়ার ঢালীর প্লাস্টিকের কারখানায় শ্রমিকের কাজ নেন। কাজ করার একপর্যায়ে মালিক দেলোয়ার ঢালীর সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক তৈরি হয়। পরে দুজনের সম্মতিতে ঢাকার একটি কাজী অফিসে গিয়ে বিয়ে করেন তারা। বিয়ের পরে তারা ওই এলাকার একটি ভাড়া বাসায় ৭ মাস বসবাস করেন। এর কিছুদিন পরে ওই নারী হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে তার বাবার বাড়ি ময়মনসিংহ জেলায় পাঠিয়ে দেন দেলোয়ার।

এদিকে দেলোয়ার তার সঙ্গে নিয়মিত মোবাইল ফোনে যোগাযোগ রেখে হাত খরচের টাকা পাঠালেও আর ঢাকা ফিরিয়ে আনেননি। সম্প্রতি ওই নারী জানতে পারেন দেলোয়ার ঢালী অন্যত্র বিয়ের জন্য পাত্রী দেখছেন। পরে তিনি দেলোয়ার ঢালীর সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাকে এড়িয়ে চলা শুরু করে দেলোয়ার। পরবর্তীতে উপায় না পেয়ে স্ত্রী হিসেবে স্বীকৃতির দাবি নিয়ে গত বুধবার দেলোয়ার ঢালীর গ্রামের বাড়িতে এসে অবস্থান নেন তিনি।

ওই নারী বলেন, দেলোয়ার আমাকে গ্রামের বাড়ি পাঠিয়ে দিয়ে তার বাবা-মাকে আমাদের বাড়িতে পাঠানোর কথা বলেছিল। কিন্তু দুই বছর হয়ে গেলেও সে তার বাবা-মাকে পাঠায়নি। কিছু দিন আগে জানতে পারি দেলোয়ার বিয়ের জন্য পাত্রী দেখছে, আমি দেলোয়ারকে বিষয়টি জিজ্ঞাসা করার পর থেকেই আমাকে এড়িয়ে চলা শুরু করে সে। পরে আমি বাধ্য হয়ে ওর বাড়িতে চলে আসি। এখন আমাদের এলাকায় বিষয়টি জানাজানি হয়ে গেছে। আমি আর বাড়ি ফিরবো না। দেলোয়ার যদি আমাকে গ্রহণ না করে আমি এখানেই আত্মহত্যা করবো।

দেলোয়ার ঢালীর মা কুসুম বেগম বলেন, আমার ছেলে মেয়েটিকে বিয়ে করেছে কিনা আমরা জানি না। হঠাৎ করেই এই মেয়ে আমাদের বাড়িতে এসে অবস্থান নিয়েছে। আমার ছেলে যদি তাকে স্ত্রী হিসেবে মেনে নেয় সেটা ছেলের ব্যাপার।

এ বিষয়ে দেলোয়ার ঢালীর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার মোবাইলে ব্যবহৃত দুটি নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়।

স্থানীয় ইউপি সদস্য নান্নু মাল বলেন, ময়মনসিংহ থেকে একটি মেয়ে স্ত্রীর স্বীকৃতির দাবি নিয়ে দেলোয়ার ঢালীর বাড়িতে এসে অবস্থান নিয়েছে বলে বিষয়টি শুনেছি। তবে দেলোয়ার ঢালী এখনো ঢাকায় রয়েছে। আমি বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে জানিয়েছি।