শনিবার, ২০ এপ্রিল, ২০২৪, ৭ বৈশাখ, ১৪৩১, ১০ শাওয়াল, ১৪৪৫

রাজবাড়ী-শরীয়তপুর রোডমার্চে বিএনপি নেতারা জনগণ এখন সরকার পতনের দিন গুনছে

সরকার পতনের একদফা দাবিতে টানা কর্মসূচির অংশ হিসাবে মঙ্গলবার ফরিদপুর সাংগঠনিক বিভাগে রোডমার্চ করেছে বিএনপি। রাজবাড়ী, ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর হয়ে শরীয়তপুরে গিয়ে শেষ হয় এ কর্মসূচি। শুরুতেই তুমুল বৃষ্টির মধ্যে পড়ে গাড়িবহর। তবে বৃষ্টি উপেক্ষা করেই বিপুলসংখ্যক নেতাকর্মী এতে অংশ নেন। পথে গাড়িবহরের অগ্রগামী দল গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের বরইতলা বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছালে আওয়ামী লীগের কর্মীরা তাদের ওপর হামলা করে। এতে আহত হন কয়েকজন। পরে পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এখন হাটে-মাঠে-ঘাটে যেখানেই যাই সবাই জিজ্ঞেস করে আর কতদিন? এর মানে হলো সরকারের পতন হয় না কেন? সরকার আর কতদিন ক্ষমতায় থাকবে? জনগণ এখন সরকারের পতনের দিন গুনছে।

স্থায়ী কমিটির আরেক সদস্য বেগম সেলিমা রহমান বলেন, ফ্যাসিস্ট সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করছি, আন্দোলন করছি। এ আন্দোলন এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে। সরকারের সময় আর বেশি নেই। দ্রুত ফ্যাসিবাদী সরকারকে বিদায় নিতে হবে।

দুপুর সোয়া ১২টায় রাজবাড়ী গোয়ালন্দ মোড়ে পথসভা থেকে কর্মসূচির উদ্বোধন করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। পরে তার নেতৃত্বে বাস, মাইক্রোবাস, পিকআপ, মোটরসাইকেলের বিশাল বহর নিয়ে শরীয়তপুর অভিমুখে রোডমার্চ শুরু হয়। শুরুতেই মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলে তা উপেক্ষা করে হাজারো নেতাকর্মী এতে অংশ নেন। পরে বৃষ্টি থেমে যায়। রাজবাড়ী গোয়ালন্দ মোড় থেকে ফরিদপুর, গোপালগঞ্জ, মাদারীপুর হয়ে রাতে শরীয়তপুর গিয়ে শেষ হয় রোডমার্চ। এর মধ্যে রাজবাড়ী সদর থানার বসন্তপুর মাঠে সমাবেশ, ফরিদপুর সদরের রাজবাড়ী মোড়, নগরকান্দার তালমা মোড়, গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের বরইতলা ও মাদারীপুরের মস্তফাপুরে পথসভা এবং শরীয়তপুর স্টেডিয়ামে সমাবেশ হয়। কর্মসূচি চলাকালে কখনো হাত নেড়ে, কখনো গাড়ি থামিয়ে রাস্তার দুপাশে নেতাকর্মী ও সাধারণ মানুষের সঙ্গে হাত মেলাতে দেখা যায় আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে। রোডমার্চে অংশ নেওয়া বেশিরভাগ নেতাকর্মীর হাতে ছিল জাতীয় কিংবা দলীয় পতাকা।

সকালে রাজবাড়ী সদর উপজেলার গোয়ালন্দ মোড়ে পথসভার মধ্য দিয়ে রোডমার্চের উদ্বোধন করা হয়। এ সময় এক সমাবেশে বিএনপি জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, অবৈধ সরকারকে বিদায় দিয়ে তারপর আমরা ঘরে ফিরব। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা জয়নাল আবেদীন ফারুক, জহুরুল হক শাহাজাদা মিয়া, ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, কেন্দ্রীয় নেতা আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়াম, সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ, সহসাংগঠনিক সম্পাদক খন্দকার মাশুকুর রহমান মাশুক, সেলিমুজ্জামান সেলিম, রাজবাড়ী জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী বাবু, যুগ্ম আহ্বায়ক রেজাউল করিম পিন্টু, সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট কামরুল আলম, জেলা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক হারুনুর রশীদ হারুন, পাংশা উপজেলা বিএনপির সভাপতি চাঁদ আলী খান, বালিয়াকান্দি উপজেলা বিএনপির সভাপতি গোলাম শওকত সিরাজ, গোয়ালন্দ উপজেলা বিএনপির সভাপতি নিজাম উদ্দিন শেখ, সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন মুসা প্রমুখ।

ফরিদপুর ব্যুরো জানায়, বিকাল ৩টার দিকে ফরিদপুর শহরে পৌঁছায় বিএনপির রোডমার্চ। এ সময় এক পথসভায় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, খালেদা জিয়াকে দ্রুত মুক্তি দিয়ে চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠাতে হবে। না হলে অবৈধ সরকারকে উচ্চমূল্য দিয়ে বিদায় করা হবে। আমেরিকার ভিসানীতি নিয়ে তিনি বলেন, এই ভিসানীতিতে তাদের (আওয়ামী লীগ) হৃদয়ে কম্পন শুরু হয়েছে। কার ভিসা ক্যান্সেল হয়, কার পরিবারকে দেশে পাঠিয়ে দেয় তারা এখন সেই চিন্তায় আছে।

আব্দুল আউয়াল মিন্টু বলেন, সরকারের দুর্নীতির কারণে দেশের অর্থনীতি শেষ হয়ে গেছে। জিনিসপত্রের দাম এখন আকাশছোঁয়া। মানুষ এখন বিপদের মধ্যে রয়েছে। যত দ্রুত এ সরকার বিদায় নেবে ততই দেশের মঙ্গল।

জয়নুল আবদিন ফারুক বলেন, ‘বর্তমান সরকারকে আর এ দেশের মানুষ ক্ষমতায় দেখতে চায় না। তাই সরকারের পতন না হওয়া পর্যন্ত বাংলার মানুষ ঘরে ফিরে যাবে না।’

শামা ওবায়েদ বলেন, ‘এই সরকার হলো ভোট চোরের সরকার, লুটেরাদের সরকার। এই সরকারের অধীনে আর কোনো নির্বাচন এ দেশে হবে না।’

এ সময় আরও বক্তব্য দেন-বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য বেগম সেলিমা রহমান, যুবদলের সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, শফিকুল ইসলাম মিল্টন, কৃষক দলের শহিদুল ইসলাম বাবুল, স্বেচ্ছাসেবক দলের এসএম জিলানী, রাজিব আহসান, ছাত্রদলের রাশেদ ইকবাল খান, সাইফ মাহমুদ জুয়েল প্রমুখ।

রোডমার্চের গাড়িবহরের অগ্রগামী দল গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের বরইতলা বাসস্ট্যান্ডে পৌঁছলে আওয়ামী লীগের কর্মীরা তাদের ওপর হামলা করে। এ সময় কয়েকজন বিএনপির কর্মীকে মারধর করে। পরে পুলিশ দ্রুত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সেখানে পথসভা করে। এতে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, এখানে হামলা হয়েছে। হামলা করে অধিকার কেড়ে নেওয়া যাবে না। জনগণ তাদের অধিকার আদায় করে নেবে। এ সময় মহিলা দলের কেন্দ্রীয় নেতা হেলেন জেরিন খানসহ কেন্দ্রীয় নেতারা বক্তব্য দেন।

পরে মাদারীপুর হয়ে রাতে শরীয়তপুরে গিয়ে শেষ হয় রোডমার্চ কর্মসূচি। সরকার পতনে একদফার আন্দোলনের অংশ হিসাবে টানা কর্মসূচি করছে বিএনপি। গত ১৯ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া এ কর্মসূচি ৫ অক্টোবর কুমিল্লা-ফেনী-মীরসরাই হয়ে চট্টগ্রাম পর্যন্ত রোডমার্চের মধ্য দিয়ে শেষ হবে।