বুধবার, ২৯ মে, ২০২৪, ১৫ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১, ২০ জিলকদ, ১৪৪৫

শরীয়তপুরের জাজিরায় বিদ্যালয়ের পাশের সেই ভাগাড় সরানো হয়নি

 

শরীয়তপুরের জাজিরা উপজেলার ডুবিসায়বর হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানাপ্রাচীরের পাশে এখনো ময়লা-আবর্জনা ফেলা হচ্ছে। অপসারণ করা হয়নি ভাগাড়টি। এ কারণে ময়লার দুর্গন্ধ ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে শিশু শিক্ষার্থীরা স্বাস্থ্যঝুঁকিতে রয়েছে।

ডুবিসায়বর হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সূত্র জানায়, আশির দশকে ডুবিসায়বর এলাকার কাজীরহাটে ২৭ শতাংশ জমির ওপর বিদ্যালয়টি স্থাপন করা হয়। ২০১৩ সালে সরকারি করা হয়। ২২০ জন শিক্ষার্থী পড়ালেখা করছে। ৬ জন শিক্ষক কর্মরত।

শরীয়তপুর জেলার বৃহত্তম কৃষিপণ্যের পাইকারি ক্রয়–বিক্রয়ের বাজার ডুবিসায়বর এলাকার কাজিরহাট। হাটটিতে অন্তত দেড় হাজার পাইকারি ও খুচরা বিক্রি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। সপ্তাহের রবি ও বৃহস্পতিবার সেখানে হাট বসে। এ ছাড়া প্রতিদিন বাজার বসে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে কয়েক হাজার ক্রেতা-বিক্রেতা নিয়মিত ওই হাটে কৃষিপণ্য কেনাবেচা করতে আসেন।

জেলার অন্যতম এই হাটে বর্জ্য অপসারণের জন্য নেই কোনো ডাম্পিং ইয়ার্ড। সব ময়লা-আবর্জনা এনে ফেলা হয় ডুবিসায়বর হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সীমানাঘেঁষা ফাঁকা জায়গায়। সেখানে ফেলা হচ্ছে বাজারের মুরগিপট্টি, মাছ ও মাংসপট্টি, কাঁচাবাজারসহ হাটের সব বর্জ্য।

কয়েক বছর যাবৎ এখানে ময়লা ফেলা হলেও পরিষ্কারের বা বর্জ্য অপসারণের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। ময়লা-আবর্জনা সেখানেই পচে যায়। এর পর তীব্র দুর্গন্ধ ছড়ায়। এই নোংরা পরিবেশেই চলাফেরা করতে হয় এলাকাবাসীকে। অস্বাস্থ্যকর, নোংরা পরিবেশে তীব্র দুর্গন্ধের মধ্যে নিয়মিত ক্লাস করতে হচ্ছে শিশু শিক্ষার্থীদের। শ্রেণিকক্ষের দরজা-জানালা বন্ধ করেও দুর্গন্ধের থেকে রেহাই পাচ্ছেন না শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা।

জাজিরা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এক চিকিৎসক বলেন, স্কুলের পাশে ময়লার ভাগাড় বিপজ্জনক। জীবাণু ছড়িয়ে শিশুদের অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।

বিদ্যালয়ের আমেনা বেগম, আবুল হোসেন খানসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, বাড়ি থেকে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়ার সময় তাদের কষ্ট হয়। মশা-মাছির উৎপাত বেশি। ময়লা-আবর্জনা নিয়ে তাদের শরীরে মশা-মাছি বসে। দুর্গন্ধের জন্য মাঝেমধ্যে শ্রেণিকক্ষের দরজা জানালা বন্ধ করে তাদের পাঠদান করানো হয়।

ডুবিসায়বর হাট সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবদুর রাজ্জাক বলেন, ‘বিদ্যালয়ের পাশের ওই ময়লার স্তূপটি সরানোর অনেক চেষ্টা করেছি। কিন্তু সফল হতে পারিনি। দেড় বছর আগে জাজিরার ইউএনও স্যার কথা দিয়েছিলেন, ময়লার ভাগাড়টি সরিয়ে নেওয়ার ব্যবস্থা করবেন ও ময়লা ফেলা বন্ধ করবেন। দুই মাস আগেও তাঁকে বিষয়টি জানিয়েছি।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে কাজিরহাট বাজারের এক ব্যবসায়ী বলেন, স্থানীয় প্রশাসন ওই স্থানে ময়লা ফেলতে নিষেধ করেছিল। তাঁরা বিকল্প জায়গা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল। কিন্তু তা দিতে পারেনি। তাই বাধ্য হয়ে স্কুলের পাশে ময়লা ফেলা হচ্ছে।

এ ব্যাপারে জাজিরার ইউএনও কামরুল হাসান সোহেল শরীয়তপুর চোখকে  বলেন, ‘বিদ্যালয়ের পাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলা বন্ধ করেছিলাম। বিকল্প জায়গা না পাওয়ায় আবারও ওই স্থানে ময়লা ফেলা হচ্ছে। আমরা বাজারের পাশে ১৪ শতাংশ খাসজমির সন্ধান পেয়েছি। সেখানে ময়লা ফেলা হবে। শিগগিরই স্কুলের পাশের বর্জ্য অপসারণ করা হবে।’