মঙ্গলবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৪, ১০ বৈশাখ, ১৪৩১, ১৩ শাওয়াল, ১৪৪৫

গোসাইরহাটে এল.জি.ই.ডি সড়ক নির্মাণে নয়ছয়

শরীয়তপুর গোসাইরহাটে কোনো ধরনের তদারকি ছাড়াই উপজেলার কুচাইপট্রি ইউনিয়নে চলছে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) সড়কের নির্মাণকাজ। সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশে এই প্যাকেজে প্রায় ১.৩০০.কিলোমিটার সড়ক নির্মাণকাজে নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। যেনতেনভাবে ২০শতাংশ কাজ করা হয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, গোসাইরহাট উপজেলারা কুচাইপট্রি ইউনিয়নের চরমাইজার গ্রামের সড়কে সব চেয়ে বেশি অনিয়ম ও নয়ছয় কাজ করছেন সড়কের ও তৃতীয় নম্বর এই প্যাকেজে। এক নম্বর ইট ব্যবহারের কথা থাকলেও কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে পুরাতন দুই-তিন নম্বর মানের ইট। সাববেইজ তৈরিতেও যেনতেনভাবে করেই মাটি কেটে করা কাঁচা সড়কের ওপর তড়িঘড়ি করে সাববেডের কাজ বালু পরিমানে খোয়া কম দেয়া হচ্ছে সঙ্গে সঙ্গেই শ্রমিকরা সড়কের লেভেল মেলাচ্ছেন আর তাৎক্ষণিকভাবে বালু দিয়ে ঢেকে দেয়া হচ্ছ ভালোমন্দ-মিশ্রিত খোয়ার সাববেড। রোলার দিয়ে ডলা দেয়ার সঙ্গে সঙ্গেই গুঁড়ো হয়ে যাবে খোয়াগুলো। তবে অনিয়ম ঢাকতে ঠিকাদাররা তড়িঘড়ি করে নির্মাণকাজ চালালেও এই প্যাকেজের কাজে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) দায়িত্বশীল কোনো কর্মকর্তাকেই দেখা যায়নি। কার্যাদেশের শর্ত মোতাবেক সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের নিজ নিজ কাজে দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রকৌশল তদারকি করার কথা থাকলেও তাদেরও খুঁজে পাওয়া যায়নি।
কুচাইপট্রি ইউপি চেয়ারম্যান বি এম নাসির উদ্দিন স্বপন বলেন,সড়ক নির্মাণকাজে কোনো তদারকি নেই। ঠিকাদার নিজের ইচ্ছামতো অনিয়ম করছেন সড়ক নির্মাণকাজে। নিম্নমানের বালি, ইট, ব্যবহার করে সড়কের কাজ করছেন। সাববেইজ তৈরিতে অনিয়ম কাঁচা সড়কে ব্যবহার হচ্ছে ভালোমন্দ মিশ্রিত খোয়ার মেকাডম। সঙ্গে সঙ্গেই রোলার দিয়ে ডলা দিলেই সমান হয়ে যাবে ফলে অনিয়মগুলো চোখের আড়ালে চলে যাচ্ছে।
গোপন সুত্রে জানা যায়, নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন বলেন,স্থানীয় স্থানীয় ঠিকাদার জিয়া জমাদার জেলার প্রভাবশালী ঠিকাদেরর কাছ থেকে কাজ ক্রয় করে বিভিন্ন রাস্তা ব্রিজ কালভার্ট এবং বিভিন্ন স্কুল সহ সরকারি দপ্তররে ভবনের কাজ করে থাকেন তবে প্রতিটি কাজেই তিনি ধারাবাহিকভাবে আলোচনায় আসেন যেখানেই কাজ করেন তিনি নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহার করে এরকম অনিয়ম করে আসছেন যা যথাযথ কতৃপক্ষ অবহিত আছেন বলে জানা যায়।
স্থনীয় বাসিন্দারা কয়েকজন অভিযোগ করে বলেন, সড়ক নির্মাণকাজে কোনো তদারকি নেই। ঠিকাদার নিজের ইচ্ছামতো অনিয়ম করছেন সড়ক নির্মাণকাজে। নিম্নমানের, বালি,পঁচা ইট, ইটের খোয়া ব্যবহার করে সড়কের কাজ করছেন।
এলজিইডি গোসাইরহাট সুত্রে জানা যায়, ‘এই প্যাকেজে ১কোটি ৮৭লাখ ৪৮হাজার ২১২ টাকা ব্যায়ে তিনটি কাজের মধ্যে এই রাস্তাটি প্রায় আধা ১.৩০০ মিটার রাস্তায় কার্পেটিং এতে বড় খোয়ার মেকাডমে ভালোমন্দ মিশ্রিত রয়েছে। সাববেজ তৈরি করেই মেকাডম দেয়া হচ্ছে।’
এবিষয়ে ঠিকাদার প্রতিষ্ঠান মেসার্স রজনী এন্টার প্রাইজকে মোবাইলে বার বার ফোন করলেও ফোন রিসিভ না করায় তার সাথে যোগাযোগ করা যায়নি।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর উপজেলা প্রকৌশলী সজল কুমার দত্ত বলেন, ‘ নিম্নমানের সামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ পেয়ে নিয়োগকৃত প্রতিষ্ঠানকে লিখিত চিঠি দেয়া হয়েছে। তারপরও কার্যাদেশ মোতাবেক কাজের গুণগত মান ঠিক রেখে সড়কের নির্মাণকাজ বাস্তবায়নে সচেষ্ট রয়েছি । কাজের অনিয়ম পাওয়া গেলে আবার কাজ করিয়ে নেয়া হচ্ছে। নিন্মমানের সামগ্রী কাজের স্থান থেকে সরানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছ।