বুধবার, ২২ মে, ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১, ১৩ জিলকদ, ১৪৪৫

রাজপথে মুখোমুখি আওয়ামী লীগ-বিএনপি শেখ হাসিনাই নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী শান্তি সমাবেশে ওবায়দুল কাদের

 

আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহণ ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেছেন, আমি ফখরুল সাহেবকে বলতে চাই, আজ নয়, কাল-এভাবে বলবেন না। বলেন কখন আমাদের শেষ বার্তা? আপনারা কে বার্তা দেওয়ার? কার কাছে ক্ষমতা দেবে শেখ হাসিনা? আপনার কাছে নাকি দণ্ডিত যুবরাজ তারেক রহমানের কাছে? কার কাছে দেবে? আমিও বার্তা দিয়ে দিচ্ছি। শেষবার্তা। আপনি শেষবার্তা দিয়েছেন ক্ষমতা ছেড়ে দিতে, আমি আপনাকে শেষবার্তা দিচ্ছি, আগামী নির্বাচনে বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাই নির্বাচনকালীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী থাকবেন।

বুধবার বিকালে রাজধানীর বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে আয়োজিত শান্তি ও উন্নয়ন সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ছোট ছেলে শহিদ শেখ রাসেলের ৬০তম জন্মদিনে শেখ রাসেল দিবস উপলক্ষ্যে ঢাকা মহানগর উত্তর-দক্ষিণ আওয়ামী লীগ এ সমাবেশের আয়োজন করে।

এ সময় আগামী নির্বাচনেও জনগণের ভোটে শেখ হাসিনা আবারও প্রধানমন্ত্রী হবেন বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেন, বার্তা দিয়ে দিচ্ছি, নির্বাচনের পর আল্লাহর রহমতে জনগণের ভোটে নির্বাচিত হয়ে শেখ হাসিনা আবারও বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী পদে বসবেন। এটাই আমাদের বার্তা। অন্যথা হবে না। শেখ হাসিনা কোন দোষে পদত্যাগ করবেন। ম্যাজিক লিডার শেখ হাসিনা, বিমানবন্দর থেকে ফার্মগেট আট মিনিটে রাস্তা শেষ। এ হলো ম্যাজিক লিডার। আট মিনিটে পদ্মা সেতুর এপার, ওপার।

বিএনপির ঢাকা অবরোধ কর্মসূচির বিষয়ে দলের নেতাকর্মীদের রাজপথে থাকার আহ্বান জানান আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক। তিনি বলেন, অবরোধ করলে পালটা অবরোধ করুন। দাঁড়াতে দেব না। কারণ, যারা বলেছেন শান্তিপূর্ণ, নিরপেক্ষ, অবাধ নির্বাচন করতে হবে। বাধা যারা দেবে, তাদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা। আমরা তো নির্বাচন চাই, আমরা কেন বাধা দেব? অবরোধ যারা করবে, ঢাকা অচল যারা করবে, তারাই বাধা দিচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে বন্ধুরা কী ব্যবস্থা নেয়, আমরা তা দেখব।

নেতাকর্মীদের উদ্যম ও প্রত্যয় ধরে রাখার আহ্বান জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, এ স্পিরিট যেন থাকে। কেউ কেউ বলে আওয়ামী লীগ বিরোধী দলে থাকলে স্পিরিট বাড়বে। সরকারি দলে থাকলে একটু নরম নরম। এখন তো দেখছি স্পিরিট আছে।

বিএনপির আন্দোলনের সমালোচনা করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, মির্জা ফখরুলের পকেট গরম, মালপানি ভালো আসছে, পকেট গরম, ওনার কথাও গরম। হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন, আমাদের ধমক দেন, ভয় দেখান। মির্জা ফখরুল পাঁচতারকা হোটেলেন নাশতা খেয়ে অনশন করেন তিন ঘণ্টা। আড়াই ঘণ্টা পরে বিদেশি জুস খেয়ে অনশন বন্ধ করে দেন। এ আন্দোলন তারা করছেন, আমাদের বার্তা দিচ্ছেন, দিনক্ষণ বলে দিচ্ছেন, কবে ক্ষমতা ছেড়ে দিতে হবে।

বিএনপিকে খুনির দল আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, এদের হাতে রক্তের দাগ। এদের হাতে ১৫ আগস্টের রক্ত, শিশু রাসেলের রক্ত, বঙ্গবন্ধুর রক্ত, বেগম মুজিবের রক্ত, জাতীয় চার নেতার রক্ত। এরা বঙ্গবন্ধুর কন্যা শেখ হাসিনাকেও হত্যা করতে চেয়েছিল, যেখানে আইভি রহমানসহ ২৩ জনের রক্ত। এরা বাংলার শতসহস্র মায়ের বুক খালি করেছে। এ অপশক্তির হাতে বাংলাদেশের ক্ষমতা ফিরিয়ে দিতে পারি না।

তত্ত্বাবধায়ক সরকার আর ফিরে আসবে না জানিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, তত্ত্বাবধায়ক মরে গেছে। আজিমপুর গোরস্থানে চিরনিদ্রায় শুয়ে আছে। বিএনপির তত্ত্বাবধায়ক আজিমপুরে শুয়ে আছে। ওইটা আর ফিরে আসবে না। ২০০১ সালের তত্ত্বাবধায়ক আর আসবে না। ওয়ান-ইলেভেনের দুঃস্বপ্ন সফল হবে না।

পশ্চিমাদের সমর্থনে উৎসাহিত হচ্ছি-বিএনপি মহাসচিবের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ফখরুল সাহেব দুনিয়ার অবস্থা ভালো না। যাদের কথা বলছেন, তাদের ঘর সামলানোই কঠিন হয়ে পড়েছে। যাদের কথা বলছেন, তাদের চারপাশে অশান্তির আগুন, এ আগুন সামাল দিতে পারছে না। তারা ঘর সামলাবে! না এখানে এসে আপনাকে উৎসাহ দেবে? সময় চলে গেছে। উৎসাহ দেওয়ার দিন চলে গেছে।

এ সময় ওবায়দুল কাদের তার বক্তব্যের ব্র্যান্ড বানিয়ে ফেলা খেলা হবে স্লোগান দিয়ে উজ্জীবিত করেন নেতাকর্মীদের। স্লোগানে স্লোগানে তিনি বলেন, জিততে হবে খেলায়। এ লড়াইয়ে জিততে হবে। এ লড়াইয়ে জিতবে কারা? বঙ্গবন্ধুর সৈনিকেরা, শেখ হাসিনার সৈনিকেরা।

আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়নের চিত্র তুলে ধরে দলের সাধারণ সম্পাদক বলেন, নৌকা ছাড়া উপায় নেই। বাংলাদেশের শান্তি চাইলে নৌকা, সুখ চাইলে নৌকা, উন্নয়ন চাইলে নৌকা, মুক্তিযুদ্ধ চাইলে নৌকা, স্বাধীনতা চাইলে নৌকা। নৌকা ছাড়া মুক্তিযুদ্ধ, গণতন্ত্র থাকবে না। গণতন্ত্র চাইলে নৌকায় ভোট দিতে হবে। সারা দেশে উন্নয়ন চাইলে শেখ হাসিনার নৌকায় ভোট দিতে হবে। তিনি আরও বলেন, সারা দুনিয়ায় জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি পাচ্ছে। দাম বাড়াচ্ছে বড় বড় শক্তি, আমরা তার শাস্তি পাচ্ছি। আইএমএফ-এর পরিচালক আজ বলেছে বাংলাদেশের অর্থনীতি শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সঠিকভাবে চলছে। ধীরে ধীরে কমলেও মুদ্রাস্ফীতি কমে যাচ্ছে। বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ উজ্জ্বল, এটা আইএমএফ বলে গেছে।

সমাবেশে আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বলেন, ওরা (বিএনপি) যে অবস্থান ধর্মঘটের কথা বলছে, সেই অবস্থান ধর্মঘট ঢাকায় হবে না। আমরা সাধারণ মানুষ নিয়ে ওদের প্রতিহত করব।

পূজার পর আওয়ামী লীগ মাঠে নামবে জানিয়ে দলের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য মোফাজ্জল হোসেন চৌধুরী মায়া বলেন, যদি রাস্তায় নেমে সন্ত্রাস করেন, এমন প্যাঁদানি দিমু, পালানোর পথ পাবেন না।

সভাপতিমণ্ডলীর আরেক সদস্য অ্যাডভোকেট কামরুল ইসলাম বলেন, একাত্তরের-পঁচাত্তরের খুনি, ২০০৪ সালে গ্রেনেড হামলাকারীদের সঙ্গে কোনো আলোচনা হতে পারে না, কোনো সমঝোতা নয়। নির্বাচন হবে। নির্বাচনকালীন সরকারের দায়িত্ব পালন করবেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সংবিধানসম্মতভাবে নির্বাচন হবে। একচুল ব্যত্যয় ঘটানোর কোনো সুযোগ নেই।

সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য শাজাহান খান বলেন, বিএনপির জন্য নাকি পিটার হাস নিজেকে সঁপে দিয়েছেন। বিএনপির ওপর জনগণের আস্থা-বিশ্বাস নেই। বিএনপি এখন পাকিস্তান আর আমেরিকার ওপর নির্ভর করছে।

সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য জাহাঙ্গীর কবির নানক বলেন, বিএনপি সন্ত্রাসী দল। খুনের মাধ্যমে ওই দল সৃষ্টি হয়েছিল। ওদের দলের নেতা হলো খুনি জিয়াউর রহমান, খুনি খালেদা জিয়া, খুনি তারেক রহমান। ওরা আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। শান্তিপূর্ণভাবে শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের বাংলাদেশ ওদের ভালো লাগে না, শিক্ষাঙ্গনে শিক্ষার পরিবেশ ওদের ভালো লাগে না, শিল্প-কলকারখানায় স্থিতিশীল অবস্থা ওদের ভালো লাগে না। অবরোধ করে দেশে যদি অস্থিতিশীল করে, অশান্তি সৃষ্টি করে, নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করে, তাহলে দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে।

বিএনপিকে খুনি শক্তি অভিহিত করে সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য আব্দুর রহমান বলেন, খুনি শক্তিকে বাংলার মাটিতে মাথা উঁচু করে দাঁড়াতে দেব না। তারা পূজার পর ১০ লাখ লোক নিয়ে ঢাকা ঘেরাও কর্মসূচি দেওয়ার পরিকল্পনা করছে। ওরা যদি কর্মসূচি দেয়, সেদিন ব্যানার নিয়ে নয়, বঙ্গবন্ধুর সেই সাড়ে ৩ হাত লাঠি নিয়ে মাঠে থাকার আহ্বান জানান তিনি।

বিএনপি বিদেশি শক্তির হাতে দেশ তুলে দিতে চায় মন্তব্য করে তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক হাছান মাহমুদ বলেন, আমাদের শক্তি এই জনগণ। আর তাদের শক্তি বিদেশের শকুন। এই বিদেশি শক্তির পদলেহনের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করতে হবে।

সমাবেশে আরও বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম। উপস্থিতি ছিলেন সাংগঠনিক সম্পাদক আহমদ হোসেন ও মির্জা আজম। ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মন্নাফীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এসএম মান্নান কচি ও দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির। ছিলেন ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি বজলুর রহমান। আরও বক্তব্য দেন যুবলীগের চেয়ারম্যান শেখ ফজলে শামস পরশ, বাংলাদেশ স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি গাজী মেজবাউল হোসেন সাচ্চু, বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের মেয়র শেখ ফজলে নূর তাপস, উত্তরের মেয়র আতিকুল ইসলাম, ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, সহসভাপতি সাদেক খান এমপি, বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ কাদের খান, নাজিমুদ্দিন, মাহবুবুর রহমান হিরণ, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক মতিউর রহমান মতি, সাংগঠনিক সম্পাদক আজিজুল হক রানা, সংস্কৃতিবিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট রোকেয়া সুলতানা পলি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক হুমায়ুন কবির, সহসভাপতি নুরুল আলম রুহুল এমপি, ডা. দিলীপ কুমার রায়, যুগ্মসাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট কাজী মোরশেদ হোসেন কামাল, মহিউদ্দিন আহমেদ মহি, কার্যনির্বাহী সদস্য আইয়ুব আলী খান, আসমা আক্তার কেকা, গিয়াসউদ্দিন সরকার পলাশ, স্বাধীনতা চিকিৎসক পরিষদের সভাপতি ডা. জামাল উদ্দিন চৌধুরী এবং ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি ইসহাক মিয়া।