বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ১৫ ফাল্গুন, ১৪৩০, ১৭ শাবান, ১৪৪৫

৪০ মিটারে সড়ক নেই, চার স্কুলের শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি

 

এক হাতে বই, আরেক হাতে স্যান্ডেল। পথে হাঁটুপানি। এই পানি মারিয়ে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করছে শিক্ষার্থী। মাত্র ৪০ মিটার সড়ক নির্মাণ না করায় চারটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী দুর্ভোগ পোহাচ্ছে। এই চিত্র শরীয়তপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের আংগারিয়া বাজারের পাশের একটি গলির। এই গলিতে নালা ও সড়ক নির্মাণের ঠিকাদারও নিয়োগ করা হয়েছে। কিন্তু ঠিকাদার কাজ শেষ না করায় শিক্ষার্থীদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

শরীয়তপুর পৌরসভা ও স্থানীয় সূত্র জানায়, শরীয়তপুর পৌরসভার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বাজার আংগারিয়া বাজার। বাজারটি জেলার অন্যতম কৃষিপণ্য বিক্রিরও বাজার। বাজারটির এক পাশ দিয়ে কীর্তিনাশা নদী প্রবাহিত হয়েছে। আরেক পাশ দিয়ে শরীয়তপুর-চট্টগ্রাম সড়ক। ওই বাজারের আশপাশে বাসিন্দাদের সন্তানেরা ৪৯ নম্বর আংগারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আংগারিয়া বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, আংগারিয়া উচ্চ বিদ্যালয় ও ইবনে তাসলিমা স্কুল ও কলেজে পড়ালেখা করে।

স্থানীয় সূত্র জানায়, আংগারিয়া বাজার ও তার আশপাশের শিক্ষার্থীরা মাছ বাজারের পাশ দিয়ে বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয় মুখী একটি গলি ব্যবহার করে যাতায়াত করে। গলিটি কিছুটা নিচু। সামান্য বৃষ্টি হলে পানি জমে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এ কারণে শরীয়তপুর পৌরসভা থেকে ওই গলিতে ২৫০ মিটার নালা (ড্রেন) নির্মাণের উদ্যোগ নেয়। ওই নালার ওপরের অংশ যাতায়াতের রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করা হবে। ওই নালার উত্তর প্রান্তে ৪০ মিটার সড়ক নির্মাণ করে বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সড়কের সঙ্গে সংযোগ করে দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়।

গত বছরের ১৪ ফেব্রুয়ারি ওই নালা ও ৪০ মিটার আরসিসি রাস্তা নির্মাণের জন্য দরপত্র আহ্বান করে শরীয়তপুর পৌরসভা। ওই বছর ৮ জুন সজল বিল্ডার্স নামের একটি প্রতিষ্ঠানকে ৭১ লাখ টাকা চুক্তিতে কার্যাদেশ দেওয়া হয়। প্রতিষ্ঠানটি ওই দুটি বিদ্যালয়ের পাশে ৪০ মিটার অংশ গর্ত করে কাজটি ফেলে রাখে। বর্ষা মৌসুম শুরু হলে ওই অংশ পানিতে তলিয়ে যায়।

প্রাথমিক বিদ্যালয় ও বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের রাবেয়া খাতুন, সাবিনা আক্তারসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, আংগারিয়া বাজারের আশপাশে যারা বসবাস করে, তাদের বিদ্যালয়ের যাতায়াতের জন্য কাছাকাছি কোনো বিকল্প রাস্তা নেই। বাজারের শেষ প্রান্ত দিয়ে এক কিলোমিটার ঘুরে আসতে হয়। আর তা না হলে ওই পানি মারিয়ে বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতে হয়। পানিতে পড়ে অনেকের বই-খাতা ভিজে যায়।

আংগারিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক উম্মে কুলসুম শরীয়তপুর চোখকে বলেন,সড়ক নির্মাণের জন্য এখন ওই গলি খোঁড়াখুঁড়ি করে রাখায় সেখানে গভীর গর্ত সৃষ্টি হয়েছে। ওই অবস্থার মধ্য দিয়ে শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া করতে হচ্ছে। অনেক শিশু পচা পানির মধ্য দিয়ে চলাচল করায় চর্মরোগে আক্রান্ত হয়েছে।

শরীয়তপুর পৌরসভার ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর পলাশ খান শরীয়তপুর চোখকে বলেন, গলিটি দিয়ে মানুষ যাতায়াত করে। গলির ভেতরে নালা নির্মাণ করে নালার ওপরের অংশ হাঁটার রাস্তা হিসেবে ব্যবহার করার জন্য ৪০ মিটার দীর্ঘ সড়ক নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। কিন্তু  ঠিকাদারের অবহেলায় কাজটি শেষ করা যায়নি।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মজিবুর রহমান মোল্যা শরীয়তপুর চোখকে বলেন, নালাটি যেখানে শুরু, সেখানে মাছবাজার। মাছবাজারের কাছে এক ব্যবসায়ী কাজে বাধার সৃষ্টি করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ওই জমি তাঁর। এ কারণে কাজটি শুরু করেও আর শেষ করা যায়নি।