বুধবার, ২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ১৫ ফাল্গুন, ১৪৩০, ১৭ শাবান, ১৪৪৫

গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স খাবার সরবরাহে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ

 

গোসাইরহাট উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের খাবার সরবরাহে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। নির্ধারিত ম্যানু ও মান অনুযায়ী রোগীদের খাবার সরবরাহ না করে পচা কলা ও বাসি রুটি সরবরাহ করার অভিযোগ রয়েছে সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। রোগী বা তাদের স্বজনরা এ বিষয়ে অভিযোগ করলে তাদের হাসপাতালের নার্স ও কর্মকর্তারা নানাভাবে হয়রানি করারও অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ নিয়ে রোগী ও তাদের স্বজনদের মধ্যে বিরাজ করছে চাপা ক্ষোভ। গত বুধবার সকালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা গেছে, সেখানে ২০ জন রোগী ভর্তি রয়েছেন। ভর্তি থাকা রোগীদের মধ্যে দিপালী দাশ, সিন্টু, মোশারফ, নুপুর, শেলিনাসহ কয়েকজন রোগীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সকালে নাস্তা হিসাবে পচা কলা ও মেয়াদোত্তীর্ণ রুটি দেওয়া হয়, যা খাওয়া যায় না। দুপুরের ভাতের চাল এতোই নিম্নমানের যা একেবারেই খাবারের অযোগ্য। অনেক সময় ভাতের মধ্যে অনেক পোকাও পাওয়া যায়। তরকারি হিসাবে সরবরাহ করা হয় সিলভার কার্প, তেলাপিয়া, পাঙ্গাশ মাছ বা মাংসের ছোট ছোট টুকরা। দুপুর ও রাতে একই ধরনের খাবার দেওয়া হয়। এসব মানহীন খাবার তারা নিতে না চাইলেও ঠিকাদারের লোকজন জোর করে দিয়ে যান। কিছু বললে তারা বলেন, খেতে না পারলে ফেলে দিন। আর রোগী ও তাদের স্বজনদের সঙ্গে খারাপ আচরণ করা হয় বলে বিস্তর অভিযোগ রয়েছে। সব বয়সি রোগীদের জন্য একই ধরনের খাবার দেওয়া হয়, যা তাদের ফেলে দেওয়া ছাড়া কোনো উপায় থাকে না। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি থাকা একজন রোগীর জন্য খাবার বাবদ প্রতিদিন ১৭৫ টাকা বরাদ্দ রয়েছে। এ টাকা দিয়ে রোগীকে সকালের নাস্তা ৪৯ টাকা এবং রাত ও দুপুরে ভাত খাবার সরবরাহ করার কথা ১২৬ টাকার। নাস্তায় কলার সঙ্গে ডিম ও ১০০ গ্রাম ওজনের একটি পাউরুটি দেওয়ার কথা। দুপুর ও রাতের খাবারের সঙ্গে তরকারি হিসাবে রুই মাছসহ অন্যান্য মাছ ১০০ গ্রাম ও মাংস ১০০ গ্রাম পরিমাণ সরবরাহ করার কথা। ম্যানু অনুযায়ী রোগীদের খাবার পরিবেশন করার কথা থাকলেও সে অনুযায়ী সরবরাহ করা হয় না। রোগীর স্বজন গোসাইরহাট এলাকার নাহিদ সরদার বলেন, ‘আমাদের এ হাসপাতালে যেসব খাবার সরবরাহ করা হয় তা অত্যন্ত নিম্নমানের, যা কোনো রোগীর পক্ষে খাওয়া সম্ভব নয়।’ সপ্তাহের প্রতি রোব, মঙ্গল, বৃহস্পতি ও শুক্রবার রোগীদের মাংস সরবরাহ করার কথা রয়েছে। তবে সপ্তাহের প্রায় প্রতিদিনই নিম্নমানের মাছ সরবরাহ করা হয়। গত কয়েক বছর ধরে মেসার্স মায়ের দোয়া ট্রেডার্স নামে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে রোগীদের খাবার সরবরাহ করছে। এ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নিম্নমানের খাবার সরবরাহ করার ব্যাপক অভিযোগ রয়েছে। মেসার্স মায়ের দোয়া ট্রেডার্সের স্বত্বাধিকারী মাইন উদ্দিন প্যাদা বলেন, ‘দ্রব্যের মূল্য বেশি হওয়ার পরও যেখানে সিডিউলে মসুর ডাল ৯০ টাকা সেখানে বর্তমানে বাজার মূল্য ১৩০ টাকা, পেঁয়াজ ৭০ টাকা বর্তমানে ১৫০ টাকা, তারপরও আমি প্রতিদিন নিয়ম অনুযায়ী ডিজিটাল পাল্লা দিয়ে রোগীর চার্ট ও ম্যানু অনুযায়ী খাদ্যসামগ্রী সরবরাহ করে থাকি। আরএমও তার লোক দিয়ে বুঝে নেন। তারপর আর আমি জানি না।’ এ বিষয়ে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের খাবার মনিটরিংয়ের দায়িত্বে থাকা আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. ইব্রাহিম হাওলাদার বলেন, ‘আমাদের কাছে এ বিষয়ে কোনো অভিযোগ আসেনি। অভিযোগ পেলে বিষয়টি আমরা খতিয়ে দেখব। খাবার অবশ্যই ম্যানু ও রোগীদের চার্ট অনুযায়ী সরবরাহ করতে হবে।