বুধবার, ২২ মে, ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১, ১৩ জিলকদ, ১৪৪৫

চায়না কমলা চাষে সফল শরীয়তপুরের খলিল

প্রতিটি গাছে থোকায় থোকায় ঝুলে আছে হলুদ রঙের অসংখ্য কমলা। সবুজ পাতার ফাঁকে উঁকি দিয়ে বের হওয়া কমলার এমন দৃশ্য চোখ জুড়ায়! ইউরোপ কিংবা কাশ্মীরের কমলার বাগানগুলোতে এমন চিত্র হরহামেশা দেখা যায়। বাংলাদেশে এমন চিত্র দেখা এখন সময়ের ব্যাপার। তাই তো অভাবনীয় এক কমলার বাগান করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন শরীয়তপুরের খলিলুর রহমান মাল। তার বাগানের চায়না জাতের কমলা খেতে সুমিষ্ট হওয়ায় স্থানীয়দের মধ্যেও ব্যাপক সাড়া ফেলেছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ভেদরগঞ্জ উপজেলার দক্ষিণ তারাবুনিয়া ইউনিয়নের মালকান্দি এলাকার খলিলুর রহমান মাল। তার বড় ছেলে সামসুর রহমান খোকন ১০ বছর আগে পাড়ি জমান সৌদি আরবে। সেখানে একদিন ইউটিউবে কমলা চাষের ভিডিও দেখেন। এরপর নিজেও দেশের বাড়িতে কমলা বাগান করার ইচ্ছা পোষণ করেন। বিষয়টি বাবা খলিলুর রহমান মালকে জানালে তিনিও নিষেধ করেননি।

খলিলুর রহমান ২০২০ সালের শুরুর দিকে চুয়াডাঙ্গা থেকে ১৫০টি চায়না জাতের কমলা গাছ এনে বাড়ির সামনে ৪০ শতাংশ জমিতে রোপণ করেন। এতে খরচ হয় প্রায় ৩ লাখ টাকা। প্রথম বছর গাছগুলোতে ভালো ফলন না এলেও পরে কৃষি বিভাগের তত্ত্বাবধায়ন ও পরামর্শ অনুযায়ী বাগানের পরিচর্যা করার পর গত ২ বছর ধরে অভাবনীয় ফলন আসা শুরু হয়। গত মৌসুমে তার এ বাগান থেকে উৎপাদন হয়েছিল প্রায় ৩০ মণ কমলা। আত্মীয়দের বাড়িতে পাঠানোর পাশাপাশি বিক্রি করেছিলেন প্রায় ১ লাখ টাকা। এ বছরও এই বাগান থেকে ৩৫ মণ কমলা উৎপাদনের আশা করছেন খলিলুর রহমান।

খলিলুর রহমানের কমলা বাগানে গিয়ে দেখা যায়, ১০ ফুট উচ্চতার ১৫০টি কমলা গাছ। একটি গাছ থেকে আরেকটি গাছের দূরত্ব প্রায় ৫ ফুট। ৪০ শতাংশ জমিতে সারিবদ্ধভাবে লাগানো গাছগুলোর প্রতিটি শাখায় থোকায় থোকায় ঝুলে আছে অসংখ্য কমলা। কিছু কমলা পেকে যাওয়ায় হলুদ রং ধারণ করেছে। কিছু কমলা কাচা থাকায় সবুজ রং রয়ে গেছে। বাগানের মালিক খলিলুর রহমান মালকে কমলাগুলোর পরিচর্যা করতে দেখা যায়।

খলিলুর রহমান মাল শরীয়তপুর চোখকে বলেন, ‘আমার ছেলে ইউটিউবে কমলা চাষ দেখার পরে আমাকেও কমলার একটি বাগান করতে বলে। পরে চুয়াডাঙ্গা থেকে ১৫০টি চারা এনে লাগাই। কৃষি অফিসারের পরামর্শ অনুযায়ী যত্ন নিতে থাকি। গত দুই বছরে ভালো ফলন আসছে। আমরা খাই আবার কিছু বিক্রি করি। আমার দেখাদেখি অনেকেই কমলা চাষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’

স্থানীয় আবুল বাদশা চৌধুরী বলেন, ‘আমার প্রতিবেশী খলিল মাল তার বাগানে কমলার চাষ করছে। তার বাগানের ফলগুলো দেখতে যেমন ভালো, খেতেও মিষ্টি। আমার বাড়ির পাশে কিছু খালি জমি পড়ে আছে; সেখানে আগামীতে কমলার চাষ করার ইচ্ছা আছে।’

রাজিব হোসেন বলেন, ‘২০২০ সালে তারা যখন কমলা বাগান শুরু করেন; সেই থেকে আমি দেখে আসছি। প্রথম প্রথম তাদের অনেক প্রতিবন্ধকতা তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি নিয়ে অনেকে হাসাহাসিও করেছেন। এখন তারা সফল। যারা এই কমলা চাষ করতে চান, করতে পারেন। এটি একটি সম্ভাবনাময় খাত।’

স্থানীয় উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান শরীয়তপুর চোখকে বলেন, ‘এ অঞ্চলের মাটিতে বালুর পরিমাণ বেশি হওয়ায় গাছগুলো বেড়ে উঠছিল না। বিষয়টি দেখার পর বিভিন্ন পরামর্শ দিই। গাছের চারপাশ থেকে বালু অপসারণ করে জৈব সার, সুষম সার ও সেচের ব্যবস্থা করার পর গত ২ বছর ধরে ভালো ফলন আসা শুরু করে। এখন এলাকার অন্য চাষিরাও কমলা চাষে উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন।’

উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ফাতেমা ইসলাম শরীযতপুর চোখকে বলেন, ‘আমাদের কৃষি বিভাগ প্রথম থেকেই খলিলুর রহমানকে কমলা চাষ সম্পর্কে বিভিন্ন পরামর্শ দিয়ে আসছিল। কমলা চাষের ওপর কৃষি বিভাগের প্রদর্শনী না থাকায় আর্থিকভাবে সহযোগিতা করতে পারিনি। কৃষি কর্মকর্তারা মাঠে আছেন, কেউ যদি কমলা চাষ করতে গিয়ে সমস্যায় পড়েন; আমরা তাদের কারিগরি সহায়তা দিয়ে পাশে থাকবো।’