বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৪, ৩ শ্রাবণ, ১৪৩১, ১১ মহর্‌রম, ১৪৪৬

আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা সরব, নীরব বিএনপি

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘিরে শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগের মনোনয়নপ্রত্যাশীরা ভোটের প্রচারে ব্যস্ত সময় পার করছেন। নানা কর্মসূচি নিয়ে বর্তমান ও সাবেক সংসদ-সদস্যসহ সম্ভাব্য প্রার্থীরা এলাকায় সভা-সমাবেশ করে সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরছেন। যোগাযোগ রাখছেন কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গেও। তবে বিএনপি নেতাকর্মীদের এ মুহূর্তে নির্বাচন নিয়ে কোনো মাথাব্যথা নেই। সরকারের পতন না ঘটিয়ে ভোটে যাবেন না বলে ঘোষণা দিয়েছেন তারা। রয়েছেন সরকার পতনের আন্দোলনে। যদিও ভেতরে ভেতরে তারা নির্বাচনের প্রস্তুতি নিয়ে রাখছেন। কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড থেকে সিদ্ধান্ত এলে ভোটের মাঠে নামবেন তারা। জাতীয় পার্টিসহ অন্য দলের প্রার্থীদেরও তেমন একটা মাঠে দেখা যাচ্ছে না। বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জামাল শরীফ হিরু বলেন, এ সরকারের অধীনে সভা-সমাবেশ করা যায় না, পুলিশ বৃষ্টির মতো টিয়ার গ্যাসের শেল ও গুলি করে। এ সরকারের অধীনে আমরা নির্বাচনে যাব না। কেন্দ্রীয় হাইকমান্ড থেকে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত এলে আমি ধানের শীষের মনোনয়ন চাইব।

শরীয়তপুর-১ (সদর ও জাজিরা) : এ আসনটি স্বাধীনতার পর থেকে বেশির ভাগ সময় আওয়ামী লীগের দখলেই ছিল। এ আসনের সংসদ-সদস্য আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সদস্য সাবেক ছাত্রলীগ নেতা ইকবাল হোসেন অপু এবারও নৌকার মনোনয়ন চাইছেন। অন্যদিকে সাবেক আইজিপি একেএম শহীদুল হক শরীয়তপুর-১ ও ২ আসনেই নৌকার মনোনয়নপ্রত্যাশী। তিনি বলেন, আমি শরীয়তপুর-১ ও ২ আসনে নৌকার মনোনয়ন চাই। শেখ হাসিনা আমাকে যে আসনেই মনোনয়ন দেবেন, আমি নির্বাচন করব। এছাড়া নৌকার মনোনয়নপ্রত্যাশী সাবেক সংসদ-সদস্য ও কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, সাবেক সংসদ-সদস্য মাস্টার মুজিবর রহমান, জাজিরা উপজেলা চেয়ারম্যান মোবারক আলী শিকদার, শরীয়তপুর পৌরসভার সাবেক মেয়র রফিকুল ইসলাম কোতোয়াল এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহসভাপতি আব্দুল আলীম বেপারী। কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক বলেন, বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা যদি আমাকে মনোয়নয়ন দেন, তাহলে বিপুল ভোটে বিজয়ী হব।

নির্বাচনে যাওয়ার সিদ্ধান্ত হলে এ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন চাইতে পারেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক তিনবারের সংসদ-সদস্য সরদার একেএম নাসির উদ্দিন কালু। লাঙ্গলের মনোনয়ন চাইতে পারেন জেলা জাতীয় পার্টির সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য মাসুদুর রহমান মাসুদ। ইসলামী আন্দোলনের সম্ভাব্য প্রার্থী জেলা সভাপতি মুফতি তোফায়েত আহম্মেদ কাসেমী ও জেলা উপদেষ্টা নাফিচুর রহমান নেকী।

শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া ও ভেদরগঞ্জের সখিপুর) : নড়িয়ার ১৪টি ইউনিয়ন এবং সখীপুর থানার ৯টি ইউনিয়ন নিয়ে গঠিত এ আসনে বর্তমান সংসদ-সদস্য পানিসম্পদ উপমন্ত্রী আওয়ামী লীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক একেএম এনামুল হক শামীম। প্রবাসী অধ্যুষিত এলাকা হিসাবে পরিচিত এ আসনটি স্বাধীনতার পর আটবার আওয়ামী লীগের দখলে ছিল। আওয়ামী লীগের ভোটব্যাংক হিসাবে পরিচিত এ আসনে নৌকার সম্ভাব্য প্রার্থীর সংখ্যা বেশি। উপমন্ত্রী শামীম ছাড়াও এ আসনে নৌকার মনোনয়নপ্রত্যাশী সাবেক ডেপুটি স্পিকার কর্নেল (অব.) শওকত আলীর ছেলে যুবলীগের কেন্দ্রীয় ভাইস চেয়ারম্যান ডাক্তার খালেদ শওকত আলী, পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) একেএম শহীদুল হক, আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর নড়িয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যক্ষ সুলতান মাহমুদ সিমন, সাবেক সংসদ-সদস্য অ্যাডভোকেট নাভানা হক, জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্মসাধারণ সম্পাদক ও নড়িয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ইসমাইল হক বেপারী।

একেএম এনামুল হক শামীম বলেন, আমার নির্বাচনি এলাকায় সব সংগঠন ঐক্যবদ্ধ। এ এলাকায় কোনো গ্রুপিং নেই। নড়িয়া আগে ছিল নদীভাঙনকবলিত আর এখন হয়েছে পর্যটন এলাকা। দুর্গম চরাঞ্চলে সাবমেরিন কেবল দিয়ে বিদ্যুৎ দেওয়া হয়েছে। শরীয়তপুরে একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় নির্মাণের প্রক্রিয়া চলছে। উন্নয়নের ধারাবাহিকতা রক্ষায় আশা করি এবারও নৌকার মনোনয়ন পাব। নড়িয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান সুলতান মাহমুদ সিমন বলেন, শেখ হাসিনা বলেছেন, শত ফুল ফুটতে দাও। সেই ফুলের মধ্য থেকে ভালো ফুল বেছে নেব। আমি ছাত্রজীবন থেকেই ছাত্রলীগ, যুবলীগ ও আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত। মুক্তিযুদ্ধ করেছি। আন্তর্জাতিক যুদ্ধাপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর হিসাবে যুদ্ধাপরাধীদের বিচারে অগ্রণী ভূমিকা পালন করছি। এলাকার মানুষ আমাকে ভালোবাসে। শত ফুলের মধ্যে ভালো ফুলের ভাগীদার আমি হতে পারব বলে বিশ্বাস করি।

এদিকে ধানের শীষের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে রয়েছেন জেলা বিএনপির সভাপতি সাবেক সংসদ-সদস্য শফিকুর রহমান কিরণ, বিএনপির জাতীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট জামাল শরীফ হিরু ও কৃষক দলের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি কর্নেল (অব.) এসএম ফয়সাল। এ আসন থেকে লাঙ্গলের মনোনয়ন চান জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য মো. ওয়াহিদুর রহমান ওয়াহিদ। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ শরীয়তপুর জেলা উপদেষ্টা অ্যাডভোকেট মানিক মিয়া, হাফেজ মাওলানা শওকত আলীও দলটির প্রার্থী হতে পারেন।

শরীয়তপুর-৩ (ডামুড্যা, গোসাইরহাট ও ভেদরগঞ্জের একাংশ) : ভেদরগঞ্জের ৪টি ইউনিয়ন, ১টি পৌরসভা, ডামুড্যার ৭টি ইউনিয়ন, ১টি পৌরসভা এবং গোসাইরহাটের ৮টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভা নিয়ে এ আসন গঠিত। স্বাধীনতার পর থেকে বেশির ভাগ সময় আওয়ামী লীগের দখলে ছিল এ আসন। আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সাবেক সদস্য আব্দুর রাজ্জাকের ছেলে নাহিম রাজ্জাক দ্বিতীয়বারের মতো সংসদ-সদস্য হিসাবে আছেন। যদিও দুবারই তিনি বিনা ভোটে সংসদ-সদস্য হয়েছেন। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনেও তিনি নৌকার মনোনয়নে সংসদ-সদস্য হতে চান। নাহিম রাজ্জাক ছাড়াও এ আসনে নৌকার মনোনয়নপ্রত্যাশী আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় উপপ্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক সৈয়দ আব্দুল আউয়াল শামীম ও জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ছাবেদুর রহমান খোকা শিকদার।

খোকা শিকদার বলেন, আমি দীর্ঘদিন ধরে আওয়ামী লীগ করি। শেখ হাসিনা যদি আমাকে মনোনয়ন দেন, তাহলে আমি সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করব।

নির্বাচনের সিদ্ধান্ত হলে এ আসনে ধানের শীষের মনোনয়ন চাইতে পারেন একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রার্থী তারেক জিয়ার একান্ত সচিবখ্যাত মিয়া নুর উদ্দিন অপু এবং জেলা বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক সাঈদ আহমেদ আসলাম। লাঙ্গলের মনোনয়নপ্রত্যাশী, জেলা জাতীয় পাটির সহসভাপতি ম ম ওয়াশিম খোকন ও কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্য এমএ হান্নান উকিল। ইসলামী আন্দোলনের প্রার্থী হিসাবে শরীয়তপুর জেলা উপদেষ্টা হানিফ মিয়া ও জেলা শাখার সিনিয়র সহসভাপতি মুফতি ফেরদাউসের নাম শোনা যাচ্ছে।