বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১, ৬ জিলহজ, ১৪৪৫

সভাপতি ও অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ

জাজিরা উপজেলার ডা. মোসলেম উদ্দিন খান ডিগ্রি কলেজের সভাপতি ও অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে দুপক্ষের মধ্যে পালটাপালটি অন্তত ২৫টি মামলা রয়েছে। সভাপতি ও অধ্যক্ষ কলেজে না এসে বাইরে থেকে কলেজ পরিচালনা করছেন। তারা জ্যেষ্ঠ শিক্ষকদের বাদ দিয়ে কনিষ্ঠ শিক্ষকদের পদায়ন করেছেন। এ নিয়ে অন্য শিক্ষকরা কথা বলায় তাদের বেতন শিটে স্বাক্ষর করছেন না অধ্যক্ষ। ফলে কেউ চার বছর, কেউ আবার ছয় মাস ধরে বেতন-ভাতা পাচ্ছেন না। কলেজ পরিচালনা কমিটির নির্বাচন অধ্যক্ষের বাসায় বসে সম্পন্ন করা হয়েছে। গত চার বছর ধরে কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি আব্দুল আলীম বেপারি একদিনও কলেজের মিটিং করেনি বলে অভিযোগ উঠেছে। শিক্ষকরা তাদের যৌক্তিক দাবি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হওয়ায় শ্রেণিকক্ষে পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে। এ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। কলেজের অফিস সহকারী সাইফুল ইসলাম জানান, এ বছর কলেজে অনলাইনে ৩৭ জন ছাত্রছাত্রী ভর্তি হয়েছেন। চারজন ব্যবসায় শিক্ষা ও ৩৩ জন সাধারণ শাখায়। এছাড়া অনলাইনের বাইরে আরও কিছু ছাত্রছাত্রী থাকতে পারে। বাংলা বিভাগের প্রভাষক শামসুল আলম জানান, ‘কলেজে বর্তমানে শিক্ষক-কর্মচারী মিলে ২৪ জনের এমপিও আছে। প্রতি মাসে বেতন-ভাতা আসে ছয় লাখ ৩৮ হাজার ৭৯০ টাকা। গত ২০ বছরে আমাদের কলেজে মামলা হয়েছে অন্তত ২০টি, যা দেশের সর্বোচ্চ আদালত পর্যন্ত গড়িয়েছে। কলেজের অধ্যক্ষ ও সভাপতির কারণে কলেজটি ধ্বংসের দিকে যাচ্ছে। আমরা চাই কলেজটি সুন্দরভাবে চলুক।’ কলেজ পরিচালনা কমিটির সাবেক সদস্য জয়নগর নুরীয়া ইসলামিয়া দাখিল মাদ্রসার সুপার মাওলানা তাজুল ইসলাম সেলিম বলেন, ‘আমাকে একদিন ডেকে অধ্যক্ষ বলেন, আপনাকে এ কলেজের পরিচালনা কমিটির সদস্য করা হয়েছে। তবে এ বিষয়ে আমাকে কোনো কাগজপত্র দেওয়া হয়নি। গত দুই বছরে কলেজ পরিচালনা কমিটির কোনো মিটিং হয়নি। তবে মাঝে মধ্যে আমাকে খাতায় স্বাক্ষর দিতে বললে আমি দিয়ে দেই। কলেজের সভাপতি স্বেচ্ছাসেবক লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির

সহ-সভাপতি বিধায় তার বিষয়ে কেউ কোনো কথা বলেন না। তিনি ঢাকায় বসে কলেজের সব কাজকর্ম করেন। গত এক মাসের বেশি সময় ধরে কলেজের অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেন কলেজে আসেন না, তিনি মাদারীপুরে নিজ বাড়িতে বসে কলেজ পরিচালনা করেন। যার ফলে কলেজের এ নাজুক অবস্থা।’ কলেজের উপাধ্যক্ষ পদে নিয়োগ পাওয়া হিসাববিজ্ঞান বিভাগের প্রভাষক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘আমি বর্তমান সভাপতি আব্দুল আলীম বেপারি ও অধ্যক্ষ দেলোয়ার হোসেনের অনিয়মের বিষয়ে কথা বলায় তারা আমাকে কলেজ থেকে চাকরিচ্যুত করার পাঁয়তারা করছেন। এর অংশ হিসাবে সম্পূর্ণ অন্যায়ভাবে বিগত চারটি বছর আমার বেতন-ভাতার শিটে স্বাক্ষর করে না। তারা আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। মামলা থেকে মুক্ত হয়ে কাগজপত্র জমা দিলেও আমার বেতন-ভাতার শিটে স্বাক্ষর করেননি তারা। ডিজি অফিস থেকে তাদের বেতন-ভাতার বিলে স্বাক্ষর করতে আদেশ জারি করলেও তা আমলে নেননি। চারটি বছর আমার বেতন-ভাতা বন্ধ থাকায় আমি পরিবার-পরিজন নিয়ে মানবেতর জীবনযাপন করছি।’ কলেজের অধ্যক্ষ দেলোয়র হোসেন বলেন, ‘আমার বিরুদ্ধে যেসব অভিযোগ আনা হয়েছে তা মিথ্যা ও বানোয়াট। আমি প্রায়ই কলেজে যাই এবং কাজকর্ম সেরে আসি। বর্তমানে কলেজে মামলা আছে ২৫টি। মামলাসহ নানা কাজে আমাকে বেশিরভাগ সময় কলেজের বাইরে কাটাতে হয়। আইনগত জটিলতার কারণে আমি তাদের বেতন বিলে স্বাক্ষর করছি না। বিশেষ করে মোস্তাফিজুর রহমান শিবচর উপজেলার বয়রাতলা কলেজের প্রিন্সিপাল হিসাবে কর্মরত আছেন।

তিনি এবং যাদের কমিটিতে রাখা হয়নি তারা কলেজের ক্ষতি করার জন্য এসব কাজ করে থাকেন।’ কলেজ পরিচালনা কমিটির সভাপতি ও স্বেচ্ছাসেবক লীগের সহ-সভাপতি আব্দুল আলীম বেপারি বলেন, ‘এখানে যেসব লোক অভিযোগ করেছেন তারা আসলে কলেজের কেউ নন। তারা প্রতিহিংসাবশত আমার বিরুদ্ধে নানা রকম মিথ্যা ও বানোয়াট অভিযোগ করেছেন। অধ্যক্ষের বিরুদ্ধে তাদের কোনো অভিযোগ থাকলে আমাকে লিখিতভাবে জানাবেন। আমি ব্যবস্থা না নিলে তারা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানাবেন। আমি সভাপতি হওয়ার আগে অনেক মামলা ছিল। এখন তেমন মামলা নেই। এখন সব স্বাভাবিক।’