শুক্রবার, ২৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪, ১০ ফাল্গুন, ১৪৩০, ১২ শাবান, ১৪৪৫

নৌকা পাওয়া অনেক গৌরবের: ফেরদৌস

অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর ও সঙ্গীতশিল্পী মমতাজ বেগমের এর আগে সংসদে যাওয়ার অভিজ্ঞতা থাকলেও প্রথমবারের মতো ভোট করতে যাচ্ছেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ।  

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের ‘নৌকা’ প্রতীকে ভোট করতে চূড়ান্ত সুবজ সংকেত পেয়েছেন দেশের বিনোদন জগতের তিন তারকা।


তাদের মধ্যে অভিনেতা আসাদুজ্জামান নূর ও সঙ্গীতশিল্পী মমতাজ বেগমের এর আগে সংসদে যাওয়ার অভিজ্ঞতা থাকলেও প্রথমবারের মতো ভোট করতে যাচ্ছেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস আহমেদ।

রোববার দলীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৭টিতে চূড়ান্ত প্রার্থীদের নাম প্রকাশ করে আওয়ামী লীগ।

বেশ কিছুদিন থেকে রাজনীতির মাঠে সরব চিত্রনায়ক ফেরদৌসকে ঢাকা-১০ আসনে নৌকা প্রতীকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে। এফবিসিসিআই এর সাবেক সভাপতি শফিউল ইসলাম মহিউদ্দিন বর্তমানে এ আসনের সংসদ সদস্য।

মনোনয়ন পাওয়ার পর তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় চিত্রনায়ক ফেরদৌস প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার পাশাপাশি নিজের কিছু পরিকল্পনা নিয়েও কাজ করার ইচ্ছার কথা জানিয়েছেন।

 তিনি বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী ও বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা আমাকে যোগ্য মনে করে মনোনয়ন দিয়েছেন। তার প্রতি অনেক কৃতজ্ঞতা। অনেক ভালো লাগছে, নৌকা প্রতীকের দায়িত্ব পাওয়া অনেক গৌরবের।

“প্রধানমন্ত্রীর দিক নির্দেশনায় কাজ করতে চাই। তবে আমার নিজেরও বেশকিছু পরিকল্পনা রয়েছে। বিজয়ী হলে সেগুলো বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব। পাশাপাশি চলচ্চিত্র শিল্প নিয়েও আমার বেশ কিছু পরিকল্পনা রয়েছে।”

এবার পঞ্চমবারের মতো নীলফামারি-২ নৌকার টিকেট পেয়েছেন সাবেক সংস্কৃতিমন্ত্রী আসাদুজ্জামান নূর।

তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় আসাদুজ্জামান নূর বলেন, “আমাদের দলের সভানেত্রী মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানাই যে আমার উপর আস্থা রেখেছেন। এবার নিয়ে পঞ্চমবারের মতো নির্বাচন করতে যাচ্ছি। সেটি আমার জন্য আনন্দের বিষয়।”

মনোনয়ন পাওয়া মানেই নির্বাচনের প্রস্তুতি এবং সেটি কঠিন কাজ উল্লেখ করে তিনি বলেন, “কঠিন কাজটি ঠিকভাবে যেন সমাধান করতে পারি। ইতিমধ্যে চারবার আমার এলাকার জনগণ আমার ওপর আস্থা রেখেছেন। এবারও তারা আস্থা রাখবেন বলে আমার ধারণা। আমি বিশ্বাস করি, সেই আস্থায় যদি বিজয়ী হই- আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর যে উন্নয়নের ধারা সূচিত করেছেন, সেটি আমার এলাকায় অব্যাহত রাখার চেষ্টা করব।”

আসাদুজ্জামান নূর মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের ট্রাস্টি, বাংলাদেশ আবৃত্তি সমন্বয় পরিষদের সভাপতি। ২০১৮ সালে স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন তিনি।

নীলফামারী-২ আসন থেকে মনোনয়ন পেয়ে এই অভিনেতা বলেন, “এটি আমার জন্য আরেক ধরণের স্বীকৃতি। সংস্কৃতি অঙ্গনে সরাসরি নির্বাচন করে আমি প্রথম সংসদ সদস্য। আমার জানা মতে, তার আগে কবরী সারোয়ার ছিলেন। তিনি ছিলেন সংরক্ষিত মহিলা আসনে। আমার পরে মমতাজ এসেছে। এবার তো আরও কজন মনোনয়ন পেলেন। ফেরদৌস পেল। সংস্কৃতি অঙ্গনের প্রতিনিধি সংখ্যা বাড়তে শুরু করেছে। এটাও আমি মনে করি আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর একটি সুবিবেচনাপ্রসূত সিদ্ধান্ত। আমাদের সংস্কৃতিকর্মীরা অ্যাটলিস্ট উৎসাহিত হবে।”

মানিকগঞ্জ-২ আসনে এবারও আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন সংগীতশিল্পী মমতাজ বেগম। দশম ও একাদশ সংসদেও তিনি এ আসনের এমপি ছিলেন। তার আগে নবম সংসদে ছিলেন সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য।

দল পুনরায় তার ওপর আস্থা রাখায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন এই ‘ফোক সম্রাজ্ঞী’।

মমতাজ বলেন, “মাননীয় প্রধানমন্ত্রী এবং বাংলাদেশ আওয়ামী লীগকে ধন্যবাদ আমার উপর আস্থা রাখার জন্য। নৌকা হলো জনগণের প্রতীক। অতীতে যেভাবে আমাকে বিজয়ী করেছেন, এবারও জনগণ আমাকে বিজয়ী করবেন- আমার জনগণের প্রতি এই বিশ্বাস আছে। জনগণ নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে উন্নয়নের ধারা অব্যহত রাখবেন বলেই আমি বিশ্বাস করি।”

দলীয় সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা গত ১৮ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম বিক্রি কার্যক্রমের উদ্বোধন করার পরই তৎপর হয়ে ওঠেন বিনোদন জগতের অনেক তারকামুখ।

আওয়ামী লীগের মনোনয়ন ফরম নিয়েছিলেন অভিনয়শিল্পী রোকেয়া প্রাচী, চিত্রনায়ক মাসুম পারভেজ রুবেল, শাকিল খান, চিত্রনায়িকা মাহিয়া মাহি, ‘ম্যাডাম ফুলি’ খ্যাত চিত্রনায়িকা সামসুন নাহার সিমলা। অভিনেত্রী শমী কায়সার, অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমান, কণ্ঠশিল্পী এসডি রুবেলও ছিলেন সেই দৌড়ে। তবে তাদের কারো হাতেই ওঠেনি নৌকার টিকেট।