বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১, ৬ জিলহজ, ১৪৪৫

নড়িয়ায় সড়কের পাশে রাখা পিকআপে আগুন, কাঁদছেন মালিক-চালক

 

১৫ বছর আগে বাবার মৃত্যুর পর সংসার চালানোর দায়িত্ব কাঁধে তুলে নেন মামুন ব্যাপারী। শুরুতে রিকশা চালাতেন। বছর পাঁচেক আগে ধারদেনা করে সাড়ে সাত লাখ টাকায় একটি পিকআপ কিনে নিজেই চালাতে শুরু করেন। এই আয় দিয়ে মা, স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে স্বাচ্ছন্দ্যেই চলছিল মামুনের সংসার। কিন্তু এক আগুনে অনেকটাই নিঃস্ব হয়ে গেলেন মামুন। গতকাল সোমবার মধ্যরাতে দুর্বৃত্তরা তাঁর পিকআপটি আগুন দিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে।

মামুন ব্যাপারীর (৪০) বাড়ি শরীয়তপুরের নড়িয়া উপজেলার মধ্য চাকধ গ্রামে। গতকাল দিবাগত রাত আড়াইটার দিকে নড়িয়ার ভোজেশ্বর-চাকধ সড়কের পাশে দাঁড় করিয়ে রাখা মামুনের পিকআপে আগুন দেয় দুর্বৃত্তরা। ক্ষতিগ্রস্ত পিকআপটি মেরামতের ব্যয় কীভাবে জোগাবেন, সেই দুশ্চিন্তায় এখন কাঁদছেন মামুন।

আজ মঙ্গলবার দুপুরে মধ্য চাকধ গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, একজন মিস্ত্রি এসেছেন মামুনের গাড়ির ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করতে। সেখানে দাঁড়িয়ে কাঁদছিলেন মামুন। তিনি বলেন, পাঁচ বছর ধরে পিকআপটি এখানে রাখেন তিনি। কখনো কোনো অসুবিধা হয়নি। তাঁর কোনো শত্রু নেই বলে মনে করেন তিনি।

মামুন আরও বলেন, ‘পানি দিয়ে আগুন নেভানোর সময় পেট্রলের গন্ধ এসেছিল। আমার ধারণা কেউ পেট্রল দিয়ে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে। এলাকার এক লোক সড়ক দিয়ে যাওয়ার সময় আগুন দেখে চিৎকার-চেঁচামেচি করেন। বাড়ি থেকে এসে দেখি আমার পরিবারের বাঁচার অবলম্বনটি পুড়ছে। যে পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা মেরামত করতে ২ লাখ টাকা লাগবে। আমি এ টাকা কোথায় পাব?’

নড়িয়ার বিভিন্ন খামার থেকে মাছ নিয়ে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, লক্ষ্মীপুর, ফরিদপুরের বিভিন্ন স্থানে যেতেন মামুন। চলমান হরতাল-অবরোধের কারণে গত এক সপ্তাহ পিকআপ নিয়ে কোথায়ও যাননি। বাড়ির পাশে ভোজেশ্বর-চাকধ সড়কের পাশে গাড়িটি পার্ক করে রেখেছিলেন।

মামুনের স্ত্রী কুলসুমা আক্তার বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। আমাদের কোনো সম্পদ ও সঞ্চয় নেই। স্বামী পিকআপ চালিয়ে যা আয় করতেন, তা দিয়েই সংসার চালাতাম। হরতাল অবরোধের কারণে ট্রিপ হয় না, আয় বন্ধ। তাতেই আমরা বিপাকে পড়েছি। সেই পিকআপটিই আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হলো। এখন কীভাবে আমাদের সংসার চলবে?’

পিকআপে আগুন দেওয়ার ঘটনায় তদন্ত চলছে জানিয়ে নড়িয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হাফিজুর রহমান  বলেন, প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, শত্রুতাবশত কেউ এমন কাজ করেছেন। চলমান আন্দোলনের কোনো প্রভাব নড়িয়ায় নেই। তাই এ ঘটনা ওই আন্দোলনের অংশ নয় বলে মনে করেন ওসি।