বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১, ৬ জিলহজ, ১৪৪৫

শরীয়তপুরে নৌকা ও স্বতন্ত্রের সমর্থকদের সংঘর্ষ: থানায় আরেক মামলা

দুই মামলা এবং ঘটনার দুদিন পরও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।

শরীয়তপুরের নড়িয়ায় নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়ার ঘটনায় আরেকটি মামলা হয়েছে। ঘটনার রাতে প্রথম মামলাটি করে পুলিশ।

গত শুক্রবার রাতে নড়িয়া থানায় হওয়া দ্বিতীয় মামলাটির বাদী ক্যাবল ও ইন্টারনেট ব্যবসায়ী কনক লস্কর।

তিনি শরীয়তপুর-২ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও যুবলীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য খালেদ শওকত আলীর অনুসারী।

কনকের মামলায় নড়িয়া উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক গোলাম মোস্তফা সিকদারসহ ছয়জনকে আসামি করা হয়েছে বলে জানায় পুলিশ।

অন্য পক্ষটিও থানায় মামলার আবেদন করেছে বলে নড়িয়া থানার ওসি হাফিজুর রহমান জানান।

পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ৯টার দিকে নৌকার প্রার্থী এ কে এম এনামুল হক শামীম ও স্বতন্ত্র প্রার্থী খালেদ শওকত আলীর সমর্থকদের মধ্যে নড়িয়া মাছ বাজারের কাছে কথা কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে নৌকার সমর্থকরা স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থদের ওপর হামলা চালায়। পরে দুপক্ষের মধ্যে শুরু হয় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া। খবর পেয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী খালেদ ঘটনাস্থলে গেলে তার গাড়ির সামনে মুহুর্মুহু হাতবোমার বিস্ফোরণ ঘটানো ও ইট-পাটকেল ছোড়া হয়। এতে দুপক্ষের অন্তত ১০ জন আহত হন।

পরে পুলিশ, র‌্যাব ও একজন নির্বাহী হাকিম গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এ ঘটনায় ওই রাতেই নড়িয়া থানার একজন উপ-পরিদর্শক বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে বিস্ফোরক দ্রব্য আইনে মামলা করেন।

দ্বিতীয় মামলার বাদী কনক লস্কর বলেন, “গোলাম মোস্তফা তার লোকজন নিয়ে আমার দোকান ভাঙচুর করেন ও আমাকে মারধর করেন। পরে তারা সংঘবদ্ধ হয়ে আবার আমাদের ওপরে হামলা চালায় ও ধাওয়া করেন। আমি স্বতন্ত্র প্রার্থী খালেদ শওকত আলীর সমর্থক। এটাই আমার অপরাধ।”

ওসি হাফিজুর রহমান বলেন, “আরেকটি পক্ষও মামলার আবেদন করেছে। সেটিও নথিভুক্ত করা হবে।”

স্বতন্ত্র প্রার্থী খালেদ শওকত আলী বলেন, “হামলাকারী গোলাম মোস্তফা সিকদার ও তার সহযোগীরা আওয়ামী লীগের প্রার্থীর সমর্থক। এ ঘটনায় নড়িয়া থানায় একটি মামলা হয়েছে। প্রশাসনের পক্ষে থেকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তারা সঠিকভাবে তদন্ত করে দোষীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।”

হামলার বিষয় জানতে কনকের মামলার আসামি গোলাম মোস্তফার সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়। কিন্তু তাকে এলাকায় পাওয়া যায়নি। তার ব্যবহৃত ফোন নম্বরটিও বন্ধ পাওয়া যায়।

এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী এ কে এম এনামুল হক শামীম বলেন, “নড়িয়ায় আওয়ামী লীগে কোনো বিভেদ ও বিরোধ নেই। সবাই যার যার মত রাজনীতি করেন। ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানের বিরোধের ঘটনাটি একটি পক্ষ রাজনৈতিক ইস্যু বানাতে চাচ্ছেন।

“কারও ব্যক্তিগত বিরোধের দায় দল নেবে না। দলের মধ্যে যারা বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করবেন, তাদের বিরুদ্ধে দলীয় অবস্থান থেকে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”

পুলিশ আসামিদের গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে জানিয়ে ওসি বলেন, “নড়িয়ার পরিস্থিতি বর্তমানে শান্ত আছে।”

যদিও দুই মামলা এবং ঘটনার দুদিনেও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ।