বুধবার, ২২ মে, ২০২৪, ৮ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১, ১৩ জিলকদ, ১৪৪৫

গৃহবধুকে আগুনে পুড়িয়ে হত্যার চেষ্টায় অভিযুক্ত রাসেল পাহাড় গ্রেফতার।

ভুক্তভোগী গৃহবধুকে দীর্ঘদিন ধরে কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিল রাসেল পাহাড়। এতে সাড়া না দিলে প্রতিহিংসার বশবর্তী হয়ে গৃহবধুকে পুড়িয়ে হত্যার সিদ্ধান্ত নেয় ওই যুবক। পড়ে সুযোগ বুঝে তুলে নিয়ে গৃহবধুর হাত পা বেঁধে তার পড়নের কাপড়ে আগুন দিয়ে পালিয়ে যায় রাসেল। এতে ওই গৃহবধুর শরীরের দশ ভাগ পুড়ে যায়।
গতকাল সোমবার (৪ ডিসেম্বর) বিকেলে অভিযুক্ত রাসেল পাহাড়কে গ্রেপ্তার শেষে আজ মঙ্গলবার (৫ ডিসেম্বর) সকাল ১১ টার দিকে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান শরীয়তপুর জেলা পুলিশ সুপার মাহবুবুল আলম।
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ সুপার জানান, শরীয়তপুর সদর উপজেলার কাগদি এলাকার ইদ্রিস পাহাড়ের ছেলে রাসেল পাহাড় নামের ওই যুবক দীর্ঘদিন ধরে
ভুক্তভোগী গৃহবধূকে প্রতিনিয়ত উত্যক্ত ও কুপ্রস্তাব দিয়ে আসছিলো। সেই কুপ্রস্তাবে রাজি না হলে গৃহবধুর উপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠে রাসেল। পরে গত ২৫ নভেম্বর  (শনিবার) রাতে তিনি ঘর থেকে বের হলে আগে থেকেই উৎ পেতে থাকা রাসেল ও তার আরেক সহযোগী গৃহবধুর মুখ চেপে ধরে পাঁশের একটি বাগানে নিয়ে হাত পা দড়ি দিয়ে বেঁধে কাপড়ে আগুন ধরিয়ে দেয়। একপর্যায়ে মেয়েটি আগুন থেকে বাঁচতে পাশের একটি পুকুরে ঝাঁপ দেয়। এসময় তার ডাক চিৎকারে স্থানীয় ও স্বজনরা এগিয়ে এসে তাকে সদর হাসপাতালে ভর্তি করে। এতে তার শরীরের দশ ভাগ পুড়ে যায়। এ ঘটনায় তার পরের দিন রবিবার ভুক্তভোগীর বোন সদর থানায় একটি মামলা দায়ের করলে পুলিশ ঘটনার তদন্ত শুরু করে। পরে তথ্যপ্রযুক্তি সহায়তায় ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত রাসেল পাহাড়কে গতকাল সোমবার বিকেলে ভেদরগঞ্জ বাজার থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
পুলিশ সুপার মাহবুবুল আলম বলেন, ঘটনাটি হৃদয়বিদারক ও জঘন্য একটি কাজ। আমরা প্রাথমিকভাবে জানতে পেরেছি ছেলেটি নেশাগ্রস্ত থাকতো। তার বিরুদ্ধে মাদকের মামলাও রয়েছে। আমরা এ ঘটনার প্রধান অভিযুক্ত রাসেল পাহাড়কে ধরতে সক্ষম হয়েছি। তাকে আজ আদালতে পাঠানো হবে। এছাড়াও তার সহযোগীকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।