বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৪, ৩ শ্রাবণ, ১৪৩১, ১১ মহর্‌রম, ১৪৪৬

আপিলে শরীয়তপুর-২ আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ডা. খালেদ শওকত আলী

 

আপিলে শরীয়তপুর-২ আসনে প্রার্থিতা ফিরে পেলেন ডা. খালেদ শওকত আলী
শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-সখিপুর) আসনে নির্বাচনের জন্য স্বতন্ত্র প্রার্থিতা ফিরে পেয়েছেন যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য ডা. খালেদ শওকত আলী। এর আগে বিধি অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আসনের ১ শতাংশ ভোটারের জমাকৃত সই ত্রুটিপূর্ণ থাকায় গত রোববার (৩ ডিসেম্বর) শরীয়তপুরের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং কর্মকর্তা মুহাম্মদ নিজাম উদ্দিন আহাম্মেদ তার মনোনয়নপত্র বাতিল ঘোষণা করেন।

রোববার (১০ ডিসেম্বর) বিকেলে নির্বাচন কমিশনের আপিল বিভাগে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. খালেদ শওকত আলীর মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা করা হয়।

মনোনয়নপত্র বৈধ ঘোষণা হওয়ার পর ডা. খালেদ শওকত আলী গণমাধ্যমকে বলেন, আপনারা জানেন যে, মনোনয়নপত্র দাখিলের দিন আমার গাড়ির ওপর বোমা হামলা করা হয়েছিল। আমার সমর্থকদের ভয়ভীতি দেখিয়ে তাদের দ্বারা জোরপূর্বক বলানো হয়েছিল যে তারা আমার সমর্থনে সই করেননি। নির্বাচন কমিশনে তারা উপস্থিত হয়ে প্রমাণ করেছেন তারা সই করেছেন। নির্বাচন কমিশন সঠিক রায় দিয়ে আমার প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করায় আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করেছি। নির্বাচন কশিমন মনোনয়ন পত্র বৈধ ঘোষণার পর থেকেই আমরা নির্বাচনের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছি। নির্বাচন কমিশনের রায়ে বিজয় হয়েছে আমাদের। বিজয়ের মাসে এই বিজয় অব্যাহত থাকবে।

স্বতন্ত্র প্রার্থীদের ১ শতাংশ স্বাক্ষরের বিষয়ে ডা. খালেদ শওকত আলী বলেন, বিষয়টি নিয়ে নির্বাচন কমিশনের ভেবে দেখা উচিত। হিসেব অনুযায়ী আমার আসনে ৪ হাজার ভোটারের স্বাক্ষর সংগ্রহ করতে হয়েছে। এই ৪ হাজার মানুষ কিন্তু আমার সমর্থক তা সবার কাছে প্রকাশ পেয়ে গেল। অথচ সংবিধান অনুযায়ী গোপন ব্যালেটে ভোট নেওয়ার কথা বলা হয়েছে। এভাবে স্বাক্ষর সংগ্রহ করার কারণে ৪ হাজার মানুষের মতামত প্রকাশ পেয়ে গেল।

ডা. খালেদ শওকত আলী শরীয়তপুর-২ আসন থেকে বারবার নির্বাচিত সাবেক সংসদ সদস্য, জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ও আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলার অন্যতম অভিযুক্ত মৃত কর্নেল (অব.) শওকত আলীর ছেলে। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আসনটিতে আওয়ামী লীগের দলীয় প্রার্থী হন একেএম এনামুল হক শামীম। এবারও একেএম এনামুল হক শামীম একই আসন থেকে দলীয় প্রতীক নৌকা মার্কা নিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবেন। দুই বার দলীয় মনোনয়ন প্রত্যাশা করে না পেয়ে আসনটি থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করার ঘোষণা দেন ডা. খালেদ শওকত আলী। তিনি মনোনয়নপত্র দাখিল করার দিন রাতে নড়িয়াতে কয়েক দফায় আওয়ামী লীগের দুই গ্রুপের সংঘর্ষ হয়। ডা. খালেদ শওকত আলী সাবেক ডেপুটি স্পিকারের ছেলে হওয়ায় তাকে আসনটির হেবিওয়েট প্রার্থী হিসেবে দেখছেন ভোটাররা।

শরীয়তপুরের তিনটি আসনের মধ্যে শরীয়তপুর-১ ও শরীয়তপুর-২ আসনে দুইজন স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন। একই অভিযোগে শরীয়তপুর-১ (পালং-জাজিরা) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী গোলাম মোস্তফা ও শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-সখিপুর) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী ডা. খালেদ শওকত আলীর মনোনয়নপত্র বাতিল হলেও আপিল বিভাগে দুইজনের মনোনয়নপত্রই বৈধ ঘোষণা করা হয়েছে।