বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৪, ৩ শ্রাবণ, ১৪৩১, ১১ মহর্‌রম, ১৪৪৬

আচরণবিধি লঙ্ঘনের ব্যাপারে শরীয়তপুরে আওয়ামী লীগের দুই প্রার্থীকে নোটিশ

 

শরীয়তপুর-১ ও ২ আসনের আওয়ামী লীগের মনোনীত দুই প্রার্থীকে নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের ব্যাপারে নোটিশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার ওই দুই আসনের নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি ওই দুই প্রার্থীর কাছে এ ব্যাপারে দুটি চিঠি পাঠিয়েছেন।
নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘনের অভিযোগে শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-সখিপুর) আসনে আওয়ামী লীগের দলীয় নৌকার প্রার্থী ও বর্তমান সংসদ সদস্য উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীমকে শোকজ করা হয়েছে।
ওই নির্বাচনী এলাকার নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান ও শরীয়তপুরের সিনিয়র সহকারী জজ মো. আরিফুল ইসলাম গত ১৩ ডিসেম্বর এ বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা চেয়ে তার বিরুদ্ধে নোটিশ জারি করেন। ওই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী খালেদ শওকত আলীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে তাকে এ নোটিশ জারি করা হয়। নোটিশে আগামী ১৮ ডিসেম্বরের মধ্যে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
নোটিশে উপমন্ত্রী একেএম এনামুল হক শামীমের উদ্দেশ্যে বলা হয়, আপনাকে লিখিত ব্যাখ্যার নির্দেশ প্রদান করা যাচ্ছে যে, আপনি আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের শরীয়তপুর-০২ আসনে নড়িয়া উপজেলা, সখিপুর থানা উপজেলা ভেদরগঞ্জ নির্বাচনী এলাকার ২২২ এর একজন সংসদ সদস্য পদ প্রার্থী। বিগত ০৭-১২-২০২৩ খ্রিঃ সকালবেলা আপনি নড়িয়া উপজেলার রাজনগর ইউনিয়নের হাঁসের কান্দি ৬নং ওয়ার্ডে নৌকার প্রার্থী হিসাবে ৩০০-৪০০ লোকবল নিয়ে নির্বাচনী জনসভা করেছেন। ভোট গ্রহণের নির্ধারিত দিনের তিন সপ্তাহ পূর্বে নির্বাচনী প্রচারনা করেছেন যা নির্বাচন কমিশন কর্তৃক প্রজ্ঞাপনে জারীকৃত নির্বাচন আচরণ বিধিমালা, ২০০৮ এর ১২ অনুচ্ছেদের সুস্পষ্ট লঙ্ঘন মর্মে পরিলক্ষিত হচ্ছে।
এমতাবস্থায় আপনি কেন নির্বাচন আচরণ বিধিমালা লঙ্ঘন করেছেন তৎমর্মে ১৮-১২-২০২৩ খ্রিঃ তারিখ বিকাল ৪:০০ ঘটিকার মধ্যে আপনাকে নিম্নস্বাক্ষরকারীর কার্যালয়ে স্ব-শরীরে বা আপনার প্রতিনিধির মাধ্যমে হাজির হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদান করার জন্য নির্দেশ দেয়া হলো।
শোকজ নোটিশের সাথে স্বতন্ত্র প্রার্থী খালেদ শওকত আলী কর্তৃক লিখিত অভিযোগপত্রে ছায়ালিপি ও নির্বাচনী প্রচারনার ধারনকৃত আলোকচিত্রের ফটোকপি সংযুক্ত করা হয়।
জ্ঞাতার্থে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের সচিব, উপ-সচিব (আইন) ও শরীয়তপুর জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বরাবর শোকজের অনুলিপি প্রেরণ করা হয়েছে।
এ ব্যাপারে এনামুল হক শামীমের মুঠোফোন দিলে তিনি ফোন রিসিফ করেনি।

এদিকে চিঠিতে বলা হয়েছে, শরীয়তপুর-১ (পালং-জাজিরা) আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইকবাল হোসেন অপুকে বিভিন্ন স্থাপনায় লাগানো রঙিন পোস্টার, বিলবোর্ড, ফেস্টুন অপসারণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। আর শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-সখিপুর) আসনের আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী একে এম এনামুল হক শামীমকে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ব্যাপারে স-শরীর হাজির হয়ে বা প্রতিনিধির মাধ্যমে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্র জানায়, শরীয়তপুর-১ আসনে ইকবাল হোসেন অপু ছাড়া আরও চারজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি দায়িত্ব পালনের সময় দেখেন, আওয়ামী লীগের প্রার্থী ইকবাল হোসেন অপু নাম ও ছবি ব্যবহার করে শরীয়তপুর সদর ও জাজিরা উপজেলার চিকন্দী, মনোহর বাজার, লাউখোলা, পালের চর, কাজীরহাট এলাকার বিভিন্ন ভবন, দোকান, গাছ, পিলার, বৈদ্যুতিক খুঁটিসহ বিভিন্ন স্থাপনায় রঙিন পোস্টার, বিলবোর্ড, ফেস্টুন প্রভৃতি লাগানো হয়েছে। বিভিন্ন স্থানে অন্তত ২৫টি তোরণ নির্মাণ করা হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা-শরীয়তপুর মহাসড়কে কাজীরহাট এলাকায় তিনটি তোরণ নির্মাণাধীন। নির্বাচনী আচরণ বিধিমালা, ২০০৮-এর ১২ বিধি অনুসারে, ভোট গ্রহণের তারিখ থেকে ৩ সপ্তাহ পূর্বে কোনো প্রকার নির্বাচনী প্রচারণার সুযোগ নেই। এ ছাড়া রঙিন পোস্টার, বিলবোর্ড, ফেস্টুন প্রভৃতি লাগানো এবং তোরণ নির্মাণ ওই বিধিমালার ৭ (১) (ক) ও (খ) এবং ১০ (ক) নম্বর বিধির গুরুতর লঙ্ঘন। অনতিবিলম্বে এসব প্রচার সামগ্রী অপসারণের নির্দেশ দিয়ে চিঠি দিয়েছেন নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটির সভাপতি যুগ্ম জেলা জজ ইলিয়াস রহমান।

এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে ইকবাল হোসেন অপুর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। তবে শরীয়তপুর সদর উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘চিঠি পেয়েছি। আচরণ বিধির প্রতি সম্মান দেখিয়ে পোস্টার, ব্যানার, ফেস্টুন ও তোরণ অপসারণের উদ্যোগ নিয়েছি। দু-এক দিনের মধ্যেই সব অপসারণ করা সম্ভব হবে।’