বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৪, ৩ শ্রাবণ, ১৪৩১, ১১ মহর্‌রম, ১৪৪৬

গোসাইরহাটে অবৈধভাবে ড্রেজার দিয়ে বালু উত্তোলনে আতঙ্কে চরাঞ্চলের মানুষ

শরীয়তপুর গোসাইরহাটে চরাঞ্চলে মেঘনা নদীর অব্যাহত ভাঙ্গনে বিলীন হচ্ছে শতশত ঘরবাড়ি ফসলি জমি, হুমকির মুখে পড়েছে প্রায় লক্ষাধিক পরিবার। এতে খোলা আকাশের নীচে ও স্বজনদের বাড়িতে মানবেতর জীবন যাপন করছেন বাড়িঘর হারানো অসহায় এসব মানুষ। অনেকে এলাকা ছেড়ে পাড়ি জমিয়েছেন অন্যত্র। মেঘনা নদীতে যত্রতত্র ড্রেজার মেশিন বসিয়ে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের ফলে নদী ভাঙ্গনের সৃষ্টি হলেও স্থানীয় প্রশাসনের নজরদারি নেই বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
সরেজমিনে উপজেলার আলওলপুর,কোদালপুর কুচাইপট্রি ইউনিয়নের, এসব ভাঙন কবলিত এলাকায় গিয়ে দেখা গেছে, প্রতি বছরের মতো এবারও বর্ষা মৌসুমের শুরু হওয়ার আগ মুহুর্তে মেঘনা নদীতে দেখা দিয়েছে ভাঙ্গন। এতে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে চরাঞ্চলের বালুরচর, দক্ষিন কোদলাপুর ও আলওয়লপুর ইউনিয়নের ১৫টি গ্রামের শতশত বাড়িঘর, গাছপালাসহ ফসলি জমি। এছাড়াও এইসব বালু ড্রেজার থেকে লোড করে এনে বিভিন্ন যায়গায় ফেলা হচ্ছে এতে গ্রামে দেখা দিয়েছে নদী ভাঙ্গন। অব্যাহত নদী ভাঙ্গনের ফলে বসতভিটা ও ফসলি জমি হারিয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে এসব এলাকার মানুষ।
স্থানীয় এক ড্রেজারের কর্মচারী রুবেল বলেন, আমরা আইনগতভাবে ইজারাদারদের কাছ থেকে টুকেনের মাধ্যমে বালু সংগ্রহ করে এনে এখানে আনলোড করি। সরকার এই উপজেলার নদীতে বালু মহাল ইজারা না দেয়ায় আমরা পার্শবর্তী উপজেলা থেকে বালু সংগ্রহ করি।
দীর্ঘদিন ধরে অব্যাহত ভাঙ্গনের ফলে হুমকির সম্মুখীন এসব ইউনিয়নে অনেক গ্রামের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ঈদগাহ মাঠ, মসজিদ, কবর স্থান ও স্বাস্থ্যকেন্দ্র। গত  কয়েকমাস চরাঞ্চলের তিন ইউনিয়নে শতাধিক বাড়িঘর নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এরমধ্যে কোদলাপুর,আলওলপুর ও কুচাইপট্রি ইউনিয়নে ১৫টি বাড়িঘরসহ পুরো কয়কটি ওয়ার্ডে কান্দি গ্রাম নদীতে বিলীন হয়ে গেছে। একই কুচাইপট্রি ইউনিয়নের কুলচুরি পাতারচর মালতকান্দি ও কোদালপুরের শেখেরঘাট কান্দি গ্রাম ঠান্ডাবাজার সহ মোট ২৫টি বসতভিটা ও অনেক ফসলি জমি নদীগর্ভে চলে গেছে।
কোদালপুর ইউনিয়নের ঠান্ডার বাজারের গ্রামে বাড়িঘর মেঘনার ভাঙ্গনে বিলীন হয়ে গেছে। গোসাইরহাট ইউনিয়নের কাকৈশার পট্রি গ্রামে নতুন করে এপাড় ওপাড় মিলেয়ে ২০টি পরিবার ভাঙনের শিকার হয়েছে। ঝুঁকিতে রয়েছে গ্রামটির একটি, মসজিদ, মাদরাসা, কবরস্থান।
ভোক্তভুগী কোদালপুর ইউনিয়নের বালুরচর গ্রামের কৃষক মানিক মিয়া বলেন, বালুর জাহাজ এসে পাড়ে ভিড়ে রাখাহয় এরপরে এখান থেকে বালুর জাহাজ খালি করে এতে আমার ফসলী জমী ভাঙ্গতে থাকে প্রতিবছরই এমন করে আমার জমীর পাশে বালুর জাহাজ রাখে নিষেধ করলেও শুনেনা চেয়ারম্যান এবং ইউএনও কে জানানো হয়ে বিভেন্ন সময়ে।
কোদালপুুর ঠান্ডা বাজার গ্রামের ভোক্তভুগী মালেহা বেগম বলেন , রাতের বেলা ড্রেজার দিয়ে বালু কাটা হয় মেশিনের শব্দে ঘুমানো যায়না। আমাদের গ্রামটা তিনবার ভাঙ্গনের ফলে এখন পুরো গ্রামই বিলীন হয়ে গেছে। এখন আমরা কোথায় আশ্রয় নেবো বুঝতে পারছি না। অনেকে পাশের গ্রামের অন্যের বাড়ি ঘরে গিয়ে আশ্রয় নিয়েছে।
বলাুরচর গ্রামের মানিক মিয়া  বলেন, প্রতি বছরই ভাঙ্গনের কবলে পড়ে বাপ দাদার ভিটেবাড়ি, জমি নদীতে চলে যাচ্ছে। সবকিছু হারিয়ে আমরা নিস্ব হয়ে পড়ছি আমরা কোনো প্রতিকার পাচ্ছি না।
গোসাইরহাট উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও)আয়েশা জান্নাত তাহেরা বলেন,এই উপজেলায় বৈধ বালু মহাল ইজারার দেয়া হয়নি। এইসব অন্য জেলা থেকে বালুর জাহাজ লোড করে এনে এখানে আনলোড করে ফেলা হয়। তবে এই উপজেলায় অবৈধভাবে ড্রেজিং করে বালু উত্তোলনের বিষয়টি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহন করা হবে।