বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৪, ৩ শ্রাবণ, ১৪৩১, ১১ মহর্‌রম, ১৪৪৬

টিকটকে পরিচয় থেকে প্রেম এবং বিয়ে: কক্সবাজারের তরুণীর জাজিরায় অনশ

 

ব্যাপক সমালোচিত ভিডিও শেয়ারিং প্লাটফর্ম টিকটকে পরিচয় থেকে গত প্রায় দেড় বছর আগে প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে দুই সৌদি প্রবাসী সজিব এবং আমেনা বেগমের। সেখানে থাকা অবস্থায়ই বাঙ্গালি এক হুজুরের মাধ্যমে তাদের বিয়ে হয়েছে বলেও দাবী ভুক্তভোগীর। তবে দেশে ফিরে এসব অস্বীকার করায় জাজিরায় ছেলের বাড়িতে এসে অনশন করছে কক্সবাজারের ভুক্তভোগী এই তরুণী। তার দাবি, সৌদি আরব এবং কক্সবাজারে তাদের বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী হিসেবে একসাথেই থেকেছেন তারা।

জাজিরার নাওডোবা ইউনিয়নের আবেদ আলী মুন্সি কান্দির জাহাঙ্গীর ফকিরের ছেলে অভিযুক্ত সজিব ফকির(২৮) এর বাড়িতে বুধবার (২০-ডিসেম্বর) বিকেলে সরেজমিনে দেখা যায়, কক্সবাজারের উখিয়ার সেবাটখালি গ্রামের আ: আজিজ খানের মেয়ে আমেনা বেগম(২৩) সেখানে স্ত্রীর অধিকারের জন্য অবস্থান করছেন। এসময় অভিযুক্ত সজিব ফকিরকে বাড়িতে পাওয়া না গেলেও বাড়িতে তার মা ছিলো। কিন্তু বাবা জাহাঙ্গীর ফকির বা কোন দায়িত্বশীল অভিভাবক পাওয়া যায়নি।

তবে অভিযুক্ত সজিব ফকিরের পক্ষে সাবেক স্বেচ্ছাসেবক লীগ নেতা স্থানীয় ঠান্ডু ফকির মেয়েটির বক্তব্যে সন্দেহ প্রকাশ করে বলেন- সজিব ফকিরের সাথে তার প্রেম এবং বিয়ে নিয়ে আমেনা বেগম যা কিছু বলেছে, তা যদি সত্যি হয়ে থাকে তাহলে তাকে আমরা সজিব ফকিরের বউ হিসেবে গ্রহণ করে নিবো। তবে সে যদি মিথ্যাচার করে থাকে, তাহলে তাকে আমরা পদ্মাসেতু দক্ষিণ থানা পুলিশের হাতে সোপর্দ করবো। পুলিশ প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করার জন্য।

যদিও আমেনা বেগমের কাছে সজিবের সাথে তার বিভিন্ন বিষয়ে কথোপকথন এবং সৌদি আরবে একসাথে থাকার প্রমানসহ তাদের অন্তরঙ্গ মুহুর্তের বেশ কিছু ছবি এবং ভিডিও রয়েছে। যেখানে একটি বেডরুমের মধ্যে ধারণ করা একাধিক ভিডিওতে আমেনা বেগমের সাথে সজিব ফকিরকে বিছানা সঙ্গী হিসেবে ঘুমানোর পাশাপাশি বেশ অন্তরঙ্গ অবস্থায় দেখা যায়। এমনকি আমেনা বেগমের কাছে তাদের শারীরিক সম্পর্ক স্থাপনের ভিডিও রয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি।

সজিব ফকিরের স্ত্রী হিসেবে অধিকার আদায়ে আমেনা বেগম তার নিজের নাম-পরিচয়সহ বিস্তারিত প্রকাশ করার অনুরোধ করে বলেন, সজিব ফকির আমাকে সৌদি বিয়ে করে তার সাথে রেখেছে এবং নিয়মিত শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করেছে। এক পর্যায়ে সজিব ফকিরের মাধ্যমে আমি গর্ভবতী হলে আমার অনিচ্ছায় গর্ভপাত করিয়ে সে বাচ্চাটিকে নষ্ট করে ফেলে। এমনকি কক্সবাজারে আমাদের বাড়িতেও সে আমার সাথে ছিলো। এখন সে সবকিছু অস্বীকার করায় আমি তার বাড়িতে চলে এসেছি।

স্থানীয় চেয়ারম্যানের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব না হলেও ইউপি সদস্য জুলফিকার আলি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। এসময় তিনি বলেন- আমি ঘটনাটি শুনে এখানে এসে বিস্তারিত শুনলাম। সকালে মেয়েটি এখানে আসার পর তার কোন কথা না শুনেই সজিবের মা-বোন মিলে তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করার পাশাপাশি বেশ কয়েকবার মারধর করে বাড়ি থেকে বের করে দেয়ার অভিযোগ করলো সে। আমাদের চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে আমাদের কিছু করনীয় থাকলে তা করবো।

এদিকে গণমাধ্যমকে তথ্য প্রদানকারী ব্যাক্তির দাবী- বুধবার সকালেই পদ্মাসেতু দক্ষিণ থানা পুলিশকে বিষয়টি জানালে পুলিশের পক্ষ থেকে আগে সাংবাদিকদের জানানোর পরামর্শ দিয়ে বলা হয়, সাংবাদিকরা গিয়ে তাদের জানালে পরে তারা যাবে। তবে পদ্মাসেতু দক্ষিণ থানার কাছাকাছি এলাকায় অভিযুক্তের বাড়িতে সারাদিন মেয়েটি অবস্থান করলেও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শরিফুল ইসলাম এই বিষয়ে কিছুই জানতেন না দাবী করে ভুক্তভোগীকে তার কাছে পাঠানোর পরামর্শ দেন।

জাজিরা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাদিয়া ইসলাম লুনা বিষয়টি পুলিশ কেস হিসেবে পুলিশ দেখবে জানিয়ে বলেন- আপাতত আমি স্থানীয় চেয়ারম্যানের সাথে কথা বলে সেখানে ওই ওয়ার্ডের মহিলা ইউপি সদস্যকে পাঠাতে বলেছি এবং বিষয়টি দ্রুত সমাধানের নির্দেশ দিয়েছি। নড়িয়া সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (এএসপি) মো: আহসান হাবিব এবং শরীয়তপুর পুলিশ সুপার (এসপি) মো: মাহবুবুল আলম বলেন- প্রয়োজনে তদন্ত পূর্বক পুলিশ যেকোনো আইনগত ব্যবস্থা নিবে।