বৃহস্পতিবার, ১৩ জুন, ২০২৪, ৩০ জ্যৈষ্ঠ, ১৪৩১, ৬ জিলহজ, ১৪৪৫

নৌকা সমর্থকদের ওপর হামলা, ছাত্রলীগ নেতাসহ আহত ৫

শরীয়তপুর-২ আসনে নৌকা প্রার্থীর সমর্থকদের ওপর হামলা ও নির্বাচনি কার্যালয় ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এতে নড়িয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতিসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন।

এ ঘটনায় মঙ্গলবার নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থী পক্ষ থেকে থানায় পাল্টাপাল্টি মামলা দায়ের করা হয়েছে। পরে একজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

সোমবার রাতে নড়িয়া পৌরসভার ৬ নম্বর ওয়ার্ডের পাইকপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন নড়িয়া থানার ওসি এস এম মোস্তাফিজুর রহমান।

আহতরা হলেন- নড়িয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আসাদুজ্জামান বিপ্লব বেপারী (৩০), সিদ্দিকুর রহমান (৩৫), হৃদয় মীর (৩০), আলম দেওয়ান (৩৭) ও জনি মিয়া (২৩)। সবাই নৌকার সমর্থক বলে জানা গেছে। গ্রেপ্তারের নাম- রবিন (২০)।

স্থানীয়দের বরাতে ওসি মোস্তাফিজুর বলেন, সোমবার রাতে শরীয়তপুর-২ (নড়িয়া-সখিপুর) আসনের নৌকা প্রার্থী সংসদ সদস্য এ কে এম এনামুল হক শামীমের নির্বাচনি কার্যালয়ে বসে আলোচনা করছিলেন আসাদুজ্জামান বিপ্লবসহ ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা।

“এ সময় স্বতন্ত্র প্রার্থী খালেদ শওকত আলী তার সমর্থকদের নিয়ে ওই পথ দিয়ে নির্বাচনি প্রচারণা চালাচ্ছিলেন। নৌকার কার্যালয়ের সামনে আসলে দুপক্ষের সমর্থকদের মধ্যে কথাকাটাকাটি হয়। এক পর্যায়ে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকরা নৌকার সমর্থকদের ওপর হামলা চালায় ও তাদের অফিসের চেয়ার-টেবিল ভাঙচুর করে।”

“হামলায় আসাদুজ্জামানসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। পরে তাদের উদ্ধার করে নড়িয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়।”

এ ঘটনায় মঙ্গলবার স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থক ও শরীয়তপুর জেলা পরিষদের সদস্য আলী আজগর চুন্নু বাদী হয়ে ছয়জনকে আসামি করে মামলা করেছেন।

অপরদিকে নৌকার সমর্থক নড়িয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সভাপতি আসাদুজ্জামান বিপ্লব বাদী হয়ে ১৪ জনকে আসামি একটি মামলা করেন বলে জানান ওসি।

নড়িয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হিমেল সরদার বলেন, “আমরা অফিসে বসে নৌকার প্রচারণার বিষয়ে আলোচনা করছিলাম। এ সময় স্বতন্ত্র প্রার্থীর বেশ কয়েকজন সমর্থক অফিসে হামলা চালান।”

হামলার অভিযোগ অস্বীকার করে স্বতন্ত্র প্রার্থী খালেদ শওকত আলী বলেন, “প্রচারণায় অংশ নিতে সমর্থকদের নিয়ে ওই এলাকা দিয়ে আসছিলাম। এ সময় আসাদুজ্জামানসহ ৩০-৩৫ জন দেশি অস্ত্র নিয়ে আমার পথ রোধ করেন।

“তারা আমার সমর্থক হারুন খলিফাকে মারধর করেন। পরে আমার লোকজন ও এলাকাবাসী তাদের ধাওয়া করে। তবে কোনো ক্লাব ভাঙচুরের ঘটনা ঘটেনি।”

আওয়ামী লীগ প্রার্থী এনামুল হক শামীম বলেন, “আসাদুজ্জামানসহ আমাদের কয়েকজন নেতা-কর্মীকে স্বতন্ত্র প্রার্থীর লোকজন কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করেছেন। আগামী ৭ জানুয়ারি ভোটের মাধ্যমে এর জবাব দেব।”

শরীয়তপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (নড়িয়া-সার্কেল) আহসান হাবীব বলেন, “নৌকা ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে মারামারির ঘটনা শুনেছি। তবে নির্বাচনি কার্যালয় ভাঙচুরের বিষয়টি শুনিনি।”